টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শুরু হয়েছে প্রাণের মেলা, বলী খেলা কাল

4

ছবি: অনুপম

চট্টগ্রাম, ২৪ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস): আজ রবিবার শুরু হয়েছেশতবর্ষ প্রাচীন ঐতিহ্য চট্টগ্রামের আব্দুল জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষে নগরীর লালদীঘি ময়দানে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় লোকজ উৎসব হিসেবে জব্বার মিয়ার বলীখেলা ও বৈশাখী মেলাকে চিহ্নিত করা হয়।

বন্দরনগরীর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলী খেলার মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী কাল সোমবার সোমবার। বলী খেলাকে ঘিরে লালদীঘি ও এর আশপাশে বসে বিস্তীর্ণ লোকজ পণ্যের মেলা। ঐতিহ্য অনুযায়ী লোকজমেলা অনুষ্ঠিত হয় খেলার আগের দিন থেকে শুরু হয়ে পরের দিন পর্যন্ত।

2

ছবি: অনুপম

১৯০৯ সালে শুরু হওয়া বলী খেলার এটি ১০৭তম আসর। লালদীঘি মাঠে অগণন উৎসুক জনতার উপস্থিতিতে প্রতিপকে কুপোকাত করে নির্বাচিত হবেন বলী খেলার এবারের আসরের নতুন নায়ক। বলী খেলাকে কেন্দ্র করে লালদীঘি ও আশপাশের এলাকায় এরই মধ্যে লোকজ পণ্যের পসরা সাজাতে শুরু করেছেন দোকানিরা। ঐতিহ্যবাহী লোকজ মেলা চলবে আগামী বুধবার পর্যন্ত।

বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীর শত বছরের ঐতিহ্য এ প্রাণের মেলাকে ঘিরে লালদীঘির ময়দানকে ঘিরে প্রায় তিন কিলোমিটার ব্যাপী বসেছে গ্রামীণ লোকজ মেলা।

3

ছবি: অনুপম

বৈশাখী মেলাকে ঘিরে লালদীঘি ময়দানে নাগরদোলা, সার্কাস ও বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। লালদীঘি ময়দান থেকে আন্দরকিলা, সিনেমা প্যালেস, কোতোয়ালী মোড় পর্যন্ত দোকানিরা বসে গেছেন পসরা নিয়ে। বিক্রি হচ্ছে হাতপাখা, শীতল পাটি, মাটির কলস, চুড়ি, ফিতা, রঙ্গিন সুতা, হাতের কাঁকন, নাকের নোলক, মাটির ব্যাংক, ঝাড়ু, খেলনা, ঢোল, বাঁশি, বাঁশ ও বেতের নানা তৈজসপত্র, কাঠের পুতুল, নকশী কাঁথা, প্লাস্টিক সামগ্রী।

এছাড়াও বিক্রি হচ্ছে মুড়ি মুড়কি, লাড্ডুসহ হরেক রকম উপাদেয় খাবারদাবার। সারা বছর চট্টগ্রামের মানুষ অপেক্ষা করে থাকেন এই মেলার জন্য। কারণ এতে পাওয়া যায় নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী আর ঘর সাজাবার নানা উপকরণ। মেলাকে ঘিরে সুযোগ সন্ধানী চক্র দোকানীদের নাজেহাল করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

1

ছবি: অনুপম

সোমবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটায় একই স্থানে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী বলীখেলা। বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা উদযাপন কমিটির আয়োজনে এতে সহযোগিতায় থাকছে দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর বদরপাতি এলাকার আবদুল জব্বার সওদাগর আয়োজন করেছিলেন প্রীতি কুস্তি নামক এ বলী খেলার। মূলত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ ও শারীরিকভাবে সক্ষম করে তুলতে ১৯০৯ সালে তিনি এ বলী খেলার আয়োজন করেছিলেন।

তারপর থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে জব্বার মিয়ার বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা উপমহাদেশের বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম ধারক বাহকে পরিণত হয়েছে। দেশের আরো কিছু স্থানে বলী খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসলেও কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেসব আয়োজন বন্ধ হয়ে গেছে, তবে কোন কোন এলাকায় ক্ষুদ্র পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু জব্বার মিয়ার বলী খেলা ও বৈশাখী মেলা এখনো ধরে আছে তার কীর্তিময় ইতিহাস।

মেলা পরিচালনা কমিটির সম্পাদক বলেন, ‘বলী খেলা ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হলেও ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত মেলা চলবে। প্রতি বছরের ন্যায় ১০৭ তম আসরও সাড়ম্বর ও ঐতিহ্যবাহী এ খেলা এবং মেলাকে সফল করে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’

আবদুল জব্বারের বলী খেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী জানান, ‘ইতিমধ্যেই সড়কের এককিলোমিটার জায়গাজুড়ে বৈশাখী মেলার আসর বসে গেছে।রোববার থেকে পুরোদমে জমে উঠবে মেলা।তবে মূল আকর্ষণ বলী খেলা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে ২৫ এপ্রিল বিকেল সাড়ে তিনটায়।খেলায় অংশ নিতে ইতিমধ্যে ১৫০ বলী নিবন্ধন করেছেন।এছাড়া যে কেউ চাইলেই বলী খেলায় অংশ নিতে পারবেন।আমরা আশা করছি ২০০ জন বলী এতে অংশ নেবেন।দেশের ঐতিহ্যবাহী এই লোকজ উৎসব ভালোভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি।’

খেলা ও বৈশাখী মেলায় লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মতামত