টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অনিয়ম অব্যাহত থাকায় ‘হতাশ’ ইসি

চট্টগ্রাম, ২৩ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) : তৃতীয় ধাপের ৬১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গোলযোগ-সংঘর্ষ অপেক্ষাকৃত কম হলেও অনিয়ম অব্যাহত থাকায় অসন্তোষ বিরাজ করছে নির্বাচন কমিশনে।

শনিবার ৬১৪ ইউপি’র ভোটের অর্ধেক সময় পার হওয়ার পর অসন্তোষের কথা জানান একজন নির্বাচন কমিশনার।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, মানিকগঞ্জ, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কুমিল্লা, শেরপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় অনিয়মের তথ্য কমিশনে এসেছে। একে ‘সুন্দর’ ভোটের আশায় ‘গুঁড়েবালি’ বলা চলে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ‘বাড়াবাড়ি’ না করার নির্দেশনা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সুষ্ঠু ভোটের বার্তায় তৃতীয় ধাপের ভোটকে নিয়ে অনেক প্রত্যাশা ছিল নির্বাচন কমিশনের।

সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ শেরেবাংলা নগরে ইসি কার্যালয়ে পৌঁছান। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বাকি চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবও পৌঁছে যান।

পরে সিইসির কক্ষে বৈঠকে বসেন চার নির্বাচন কমিশনার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, ক্ষমতাসীন দলের আশ্বাস পেয়ে আমরা মনে করেছিলাম-ব্যালট পেপার ছিনতাই, সংঘর্ষ কিছুটা কম হবে। তাদের নেতা-কর্মীরা অনিয়মে জড়াবে না। আমরাও সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু দেখছি উল্টো। ঝামেলা তো করেই যাচ্ছে।

মাঠ পর্যায় থেকে অনিয়মের যথাযথ চিত্র না পেলে ঢাকায় বসে ইসির কিছু করার থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা ভয়ে থাকলে কিংবা অনিয়মের প্রকৃত চিত্র না পাঠালে আমরা কী করি? প্রশাসন সহায়তা না করলে স্বাধীন সংস্থা কাগজে-কলমে থাকে।

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা বৈঠকে বসে আলোচনা করেছি, এসময় প্রায় সবাইকে কম-বেশি ক্ষুব্ধ মনে হয়েছে। এভাবে নির্বাচন হলে তো মানা যায় না।

বৈঠক থেকে নিজ কক্ষে ফিরে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার পরও এ ধাপে তুলনামুলক ভালো নির্বাচনের আশা ছিল বেশি। সহিংসতা হয়নি, তবে কোথাও কোথাও কেন্দ্র স্থগিত করতে হচ্ছে। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়।

অভিযোগ পাওয়া মাত্রই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় আমরাও ভালো ভোটের প্রত্যাশা করেছি।

কিন্তু দলীয় নেত্রীর মনোনয়নের বাইরে গিয়েও যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তারা তো গোলযোগ করেই যাচ্ছে। সেখানে এমন পরিস্থিতি হচ্ছে কোথাও কোথাও।

এবার ছয় ধাপে ভোট হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২২ মার্চ ও ৩১ মার্চ ভোট শেষ হয়েছে। ২৩ এপ্রিলের পর আরও তিন ধাপের ভোট বাকি রয়েছে।

ভোটে অনিয়ম রোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিএনপি বরাবরই ইসির কঠোর সমালোচনা করে আসছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আবার ইসিকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ভোট পর্যবেক্ষক সংস্থা ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুর্শিদ শুক্রবারই বলেছিলেন, বর্তমান কমিশনের কাছে ভালো কিছু প্রত্যাশা তাদের নেই।

আরেক পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিপপ চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, শনিবারের ভোট ভালো করার প্রচেষ্টা থাকবে ইসির।

সকাল ৮টায় শুরু হয়ে এই ভোট চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এরপর গণনা করে ফল ঘোষণা করা হবে।

এর আগের দুটি পর্বেই গণনার সময় সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল।

মতামত