টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়ির ১৪ ইউনিয়নে ভোট কাল, আলোচনার শীর্ষে যেসব প্রার্থী

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

fatickchari(parti)চট্টগ্রাম, ২২ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) : ফটিকছড়িতে ১৪ ইউনিয়নে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে কাল শনিবার। ১৫ টি ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার সকল প্রস্তুতি গ্রহন করলেও নির্বাচনের দু‘দিন পূর্বে আদালতের স্থগিতাদেশ প্রদান করায় ভূজপুর ইউনিয়নে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। ইতিপূর্বে চার ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ১০ ইউনিয়নে চেয়াম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে, ১৪ ইউনিয়নে সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার প্রার্থী) ও সংরক্ষিত সদস্য (মহিলা মেম্বার প্রার্থীর) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে উৎসব মূখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে, উদ্বেগ, উৎকন্ঠাও রয়েছে ভোটারদের মাঝে। সংশয় রয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়ে। ফটিকছড়ির সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী শতভাগ নিরপেক্ষ ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

সরজমিনে গিয়ে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দাঁতমারা ইউনিয়নে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন আ.লীগের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান জানে আলম। তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী বিএনপির ইদ্রিছ মিয়া ইলিয়াছ। এখানে আনারস প্রতীকে আরো এক প্রার্থী থাকলেও মূলত প্রতিদ্বন্ধিতা হবে দ্বিমূখী।

নারায়নহাটে আলোচনার শীর্ষে বর্তমান চেয়ারম্যান জাসদ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের আবু জাফর মাহমুদ। তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী রয়েছেন নৌকার প্রার্থী হারুনুর রশিদ।

হারুয়ালছড়িতে আলোচনার শীর্ষে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী, তিনি বিগত নির্বাচনে তাঁর ওই ইউনিয়নের সবক‘টি কেন্দ্রে প্রথম হয়েছিলেন। এলাকায় তিনি বেশ জনপ্রিয়। ভোটাররা জানালেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাঁর বিপুল ভোটে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

পাইন্দং এ ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার কথা জানালেন ভোটাররা। এখানে রয়েছে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন স্বপন। তিনি বিগত সময়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করে জনপ্রিয়তা কুঁড়িয়েছেন বেশ। সেখানে আলোচনায় রয়েছেন নৌকার প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহালম সিকদার। তবে, জামায়াতের ঘাটি বলে পরিচিত এই ইউনিয়নে তাদের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের নুরুল বশর নবীও যদি বিজয় হয় অবাক হওয়া কিছু নেই।

সুন্দরপুর ইউনিয়নে ত্রি-মূখী হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আ‘লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহনেওয়াজ ।

তিনি দলের ত্যাগী নেতা। তাঁকে বিজয় করতে উপজেলা ছাত্রলীগ, পৌর ছাত্রলীগ, কলেজ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা একযোগে কাজ করছে। তবে, তাঁর বিজয়ে বাধা হতে পারে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এড.রেজাউল করিম। তিনি দলের তৃনমূল ভোট আ.লীগের একক প্রার্থী নির্বাচিত হলেও দলের নৌকা প্রতীক পাননি। ওই ইউনিয়নের যুবলীগের ও আ.লীগের একটি অংশ তার পক্ষে কাজ করছে । ওই ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুল আজম আলোচনায় রয়েছেন বেশ। তিনিও হয়তো টানা দু‘বার চেয়ারম্যানের মুকুট পরতে পারেন।

কাঞ্চননগরের আলোচনার শীর্ষে বতর্মান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের রশিদ উদ্দিন চৌধরী কাতেব। অপরদিকে ওই ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন নৌকা প্রতীকের দিদারুল আলম ও ধানের শীষ প্রতীকের বদিউল আলম তালুকদার।

রোসাংগিরী ইউনিয়নে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন নৌকার প্রার্থী সোয়েব আল ছালেহীন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী রয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাইফুদ্দিন। সাইফুদ্দিনও এলাকায় বেশ প্রচার প্রচারণা ছিলেন। তার পক্ষে জেলা ও উপজেলার নেতারা গণসংযোগ করেছেন।

বখতপুরে ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান বি.কমের বিজয় ৯৯ ভাগ নিশ্চিত বলা যায। আ.লীগের বিদ্্েরাহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের বর্তমান চেয়ারম্যান ফারুক উল আজম বৃহস্পতিবার দলের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ফলে নৌকার প্রার্থীর বিজয় অবদারিত হয়ে যায় । এখানে বিএনপির প্রার্থী থাকলেও তিনি তেমন প্রচারনায়ও ছিলেন না।

জাফতনগরে বিএনপির কোন প্রার্থী নেই । এখানে বতর্মান চেয়ারম্যান আবদুল হালিম পূন:রায় নির্বাচিত হবেন এমনটা অনেকটা নিশ্চিত। আব্দুল­াহপুরে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান হোসেন আলী।

মতামত