টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে কারচুপির আশঙ্কা নিয়েও শেষ মূহুর্তের প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থীরা

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

bnp-parti-all-pic-(1)চট্টগ্রাম, ২০  এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) :  ফটিকছড়ি উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে আগামী ২৩ এপ্রিল (শনিবার) নির্বাচনের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ইতোমধ্যে আ.লীগের চারজন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হওয়ায় বাকী ১১ টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১ টি ছাড়া ১০টিতে রয়েছে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী। যারা বিভিন্ন হুমকি, ধমকি এমনকি প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন এখনো। ক্ষমতাসীনদের ভোট কারচুপির আশঙ্কা নিয়েও শেষ মূহুর্তের প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির এসব প্রার্থীরা। তাঁরা আশা করছেন, জনগনের রায় প্রতিফলনের জন্য প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন। এছাড়া সাধারণ জনগন অবৈধভাবে কেন্দ্র দখল, ভোট জালিয়াতি রোধ করতে এগিয়ে আসবেন বলে তাদের প্রত্যাশা। তবে, দেশের বিগত দু‘দফা ইউপি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁরা ক্ষমতাসীনদের প্রার্থীরা কেন্দ্র দখল করবে এমন শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানালেন বিএনপির প্রার্থীরা।

ফটিকছড়ির বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীরা হলেন- দাঁতমারায় ইদ্রিছ মিয়া ইলিয়াছ , নারায়নহাটে খোরশেদুল আলম বাবুল, ভূজপুরে নাজিম উদ্দিন বাচ্চু , হারুয়ালছড়িতে এড. এম. এ কাশেম, পাইন্দং এ সরোয়ার হোসেন স্বপন, কাঞ্চন নগরে বদিউল আলম, সুন্দরপুরে শহিদুল আজম, রোসাংগিরীতে মো. সাইফুদ্দিন, বখতপুরে জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল­াহপুরে আবুল কাশেম।

সরেজমিনে গিয়ে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিএনপির একাধিক প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ উপজেলার । বিএনপির নীরব ভোট ব্যাংক রয়েছে এখানে। কিন্তু একনিষ্ট কর্মীর অভাব ও উপজেলার সিনিয়র নেতাদের বিভাজনের কারণে বিএনপির ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যেতে বেগ পেতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপি সমর্থিত অনেক ভোটার।

উপজেলা ও জেলার সিনিয়র নেতারা তাঁদের নিজ নিজ অনুসারী বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচনে উপজেলা বিএনপির সমন্বয়ক মির্জা আকবর বলেন,‘ বিগত দু‘দফার নির্বাচন দেখে প্রার্থীরা ভোট কারচুপির আশঙ্কায় রয়েছেন। তবে, আমরা এখনো আশা ছাড়িনি। জনগন নিয়ে ভোট কারচুপি কিংবা কেন্দ্র দখল রোধ করার প্রস্তুতি গ্রহন করছি আমরা।’

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক (একাংশ) আলহাজ্ব ছালাউদ্দিন বলেন,‘ ইতোপূর্বে প্রহসনের নির্বাচন দেখেছে দেশের জনগন। আমরা চাই, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। অন্তত তারা আগামী নির্বাচনগুলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন।’

ফটিকছড়ির সাংসদ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘ আমি প্রশাসনকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছি। অন্য কোথায় কিভাবে নির্বাচন হয়েছে তা আমার দেখার বিষয় নয়, আমি শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারি ফটিকছড়িতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপনারা (সাংবাদিকরা) দেখবেন এ উপজেলার নির্বাচন একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। সেই লক্ষ্যে আমি প্রশাসন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। যদি কোন বিচ্ছন্ন ঘটনা ঘটে তা ভিন্ন কথা।’

মতামত