টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অনেক কিছু ঝুলিতে ভরে বাড়ি ফিরব : মুস্তাফিজ

spচট্টগ্রাম, ১৭  এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) ::  ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দুই ম্যাচেই হেরেছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। কিন্তু এই দলের একজন ঠিকই উজ্জ্বল। বাঁহাতের জাদুতে তিনি চিনিয়ে চলেছেন নিজের জাত। দলটির কোচ টম মুডিও প্রশংসা করতে ছাড়ছেন না কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমানের। এই তো শনিবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলকে তিনি যেভাবে বোল্ড আউট করলেন তা তো অসাধারণ। মুস্তাফিজদের কোচ মুডি তাই বললনে, ‘যেভাবে ইয়র্কার দিয়ে মুস্তাফিজ রাসেলকে বোল্ড করেছে সেটা এককথায় অসাধারণ। সে সঠিকভাবেই খেলে যাচ্ছে।’

এবারই প্রথম আইপিএল খেলছেন বাংলাদেশের বিস্ময় বোলার মুস্তাফিজ। ভারতে যাওয়ার পর থেকেই প্রায় সমস্ত মিডিয়া বিশেষ নজর রেখে যাচ্ছে মুস্তাফিজের উপর। কোনো পত্রিকা বাঁহাতি এই কাটার মাস্টারকে নিয়ে ছাপছে ফিচার, কেউবা আবার ছাপছে সাক্ষাৎকার। শনিবার ভারতের বিখ্যাত পত্রিকা মিড-ডে’তে প্রকাশিত হয়েছে মুস্তাফিজের সাক্ষাৎকার। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এই বাঁহাতি পেসার।

ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক ম্যাচেই ৫ উইকেট পেয়েছিলেন মুস্তাফিজ। পরের ম্যাচেও পেয়েছিলেন ৬টি উইকেট। এই ব্যাপারে বলতে গিয়ে মুস্তাফিজ জানালেন, ‘অবশ্যই অসাধারণ এক অনুভূতি ছিল সেটা। কিন্তু অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে তো হবে না। সেই দুই ম্যাচ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। দলে জায়গা ধরে রাখতে আমাকে যেটা করতে হয়েছে তা হলো, ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স করে যাওয়া।’

প্রথম ম্যান অব দ্যা ম্যাচের প্রাইজমানি দিয়ে কি করেছিলেন? মুস্তাফিজকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘পরিবারের লোকজন আর বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে বাড়িতে ছোটখাটো একটা খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছিলাম। আইপিএল শেষ করে বাড়ি গিয়ে দুটি কাজ করব। নিজের জন্য একটা মোটরবাইক কিনব আর পরিবারের জন্য একটা গাড়ি কিনব।’

মুস্তাফিজের কাটারে বরাবরই নাকানি-চুবানি খেয়েছেন বিশ্বের সেরা সব ব্যাটসম্যানরা। কীভাবে রপ্ত করলেন এই কৌশল? এমন প্রশ্নের বেশ সোজা সাপটা জবাব দিলেন মুস্তাফিজ। বললেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট একজন মানুষ আমাকে এটা শেখাননি। ছোটবেলার কোচ, দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ আর জাতীয় দলের কোচদের কাছ থেকে আমি এটা ধাপে ধাপে শিখেছি। আর এখানে যখন সানরাইজার্সের হয়ে খেলতে এসেছি তখন অনুশীলনের সময়টাতেও অনেক কিছু শিখছি ট্রেন্ট বোল্ট, আশিস নেহরাদের মতো বোলারদের কাছ থেকে। টুর্নামেন্ট শেষে যখন বাড়ি ফিরব তখন অনেক কিছু ঝুলিতে ভরে নিয়ে যাব।’

ভারতের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের খেলাতে মাত্র ১ রানের ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। শেষ বলে ১ রান নিলেই ম্যাচ ড্র। সমীকরণটা যখন এমন তখন নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে ছিলেন মুস্তাফিজ। কিন্তু সেই বলে দৌড় দিয়েও রান আউট হয়ে যান তিনি। সেই হারের কথা জিজ্ঞাসা করা হলে বাঁহাতি এই পেসার জানান, ‘সেই সময় স্টেডিয়ামের পরিবেশটা ছিল তুমুল উত্তেজনায় ভরপুর। সেরকম পরিস্থিতিতে নিজেকে ঠান্ডা রাখাটা সহজ ব্যাপার না। আমরাও খুব কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছি।’

হারের পর বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমের পরিবেশটা কেমন ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে মুস্তাফিজ বলেন, ‘সবাই তো এমন ম্যাচে জিততেই চায়। ভারতের বিপক্ষে এভাবে হেরে গিয়ে কষ্ট পাওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু ড্রেসিং রুমের পরিবেশটা সেদিন ইতিবাচকই ছিল। এর আগেও তো আমরা দল হিসেবে দারুণ খেলেছি, তাই আমরা জানি ভবিষ্যতেও ভালো করব। সেদিন হারের পর আমরা নিজেরাই নিজেদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম পরের ম্যাচে আরো ভালোভাবে ফিরে আসার, আরো ভালো কিছু করার।’

মতামত