টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘ভূজপুর ট্র্যাজেডি’র তিন বছর: ক্ষত শুকায়নি আজও, হয়নি বিচারও

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

fatickchari(voojpur-trejediচট্টগ্রাম, ১১ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) ::  ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুরে ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল জামায়াতের ডাকা হরতালে নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে হরতাল বিরোধী মিছিলে সহিংস হামলায় তিনজন নিহত এবং পুলিশ-বিজিবি সদস্যসহ কমপক্ষে দেড়’শ জন আহত হন। এ নৃশংস হত্যাকান্ডের তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। সেদিন ভূজপুরের কাজিরহাট মাদ্রাসার বড় হুজুরকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে এমন গুজব রটিয়ে প্রায় তিনশ ছোট বড় গাড়ির বহরে হামলা চালায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারায় তিন যুবক। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় মিছিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বহনকারী কমপক্ষে দু’শ মোটর সাইকেল, তিনটি প্রাইভেট কার ও তিনটি জিপ, একটি মাইক্রোবাস, ৫ টি পিকআপ ভ্যান এবং একটি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি।

ঘটনার পাঁচ মামলা:
ঘটনার তিন বছর পার হতে চললেও এখনো বিচার পায়নি নিহতদের পরিবার। এ ঘটনায় নিহত তিন ব্যক্তির পরিবার, থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের পক্ষে ভূজপুর থানায় ৫টি মামলা দায়ের করে। এতে আসামি করা হয় ১৬ হাজার ৪৭১ জনকে। তন্মধ্যে ৪৭১ জনের নাম উলে¬খ করা হয়। বাকিরা অজ্ঞাত আসামি। নিহত ৩ পরিবারের পক্ষে দায়ের করা মামলায় ইতিমধ্যে ৬২৩ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়। বাদির নারাজির আবেদনের ফলে বর্তমানে মামলাগুলো সিআইডি অধিকতর তদন্ত করছে। অপরদিকে থানা পুলিশ ও ফায়ার ষ্টেশনের করা মামলাগুলোর অভিযোগপত্র স¤প্রতি আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

Fatickchari(voojpur-trajediপুলিশ জানায়, সব আসামীদের মধ্যে ৩৫৫ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যরা কেউ বিদেশ এবং কেউ পলাতক। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশই এখন জামিনে মুক্ত।

পুলিশ বাদি হয়ে যে মামলাটি করা হয় তার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্রগুলো দাখিল করা হয়।’ ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম লিয়াকত আলী কিছু আসামি পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। তার পরও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এখনো বিচারের প্রতীক্ষায় নিহতদের স্বজনরা:
ওই তান্ডবে দলের তিন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ফারুক ইকবাল ওরফে বিপুল, মো. ফোরকান ও মো. রুবেল।

নিহত মো. ফোরকানের মা ফেরদৌস বেগম বলেন, ‘কবে ছেলে হত্যার বিচার হবে জানিনা। তবে অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছি সে কাঙ্খিত দিনটির।’

নিহত অপরজন মো. রুবেলের মা শামসুন্নাহার থাকেন বাপের বাড়িতে। অসহায় পরিবারের ভরণ পোষণ করেন মামা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ছোটকাল থেকেই রুবেল বন্ধু প্রতীম। বন্ধুদের পাল¬ায় পড়ে সেদিন হরতাল বিরোধী মিছিলে যোগ দিতে গিয়ে প্রাণ হারায় সে। আমরা এ রোমহর্ষক হত্যাকান্ডের বিচার কামনা করছি।’

ঘটনায় পঙ্গত্ব বরণ করতে হয়েছে সেদিনের বহু মিছিলকারীকে। ক্ষতটা শুকায়নি তাদের আজও। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে বেঁচে গিয়েও পুঙ্গত্ব বরণ করা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের উত্তরজেলার সদস্য মহিউদ্দিন আজম বলেন, ‘আমি এক বছর হাসপাতালের বিছানায় ছিলাম। সেদিনের নির্মম হামলার কথা মনে পড়লে, এখনো ঘুমাতে পারি না। তারা এমনভাবে কুপিয়েছে যা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আল­াহর রহমতে কোনভাবেই বেঁচে আঁছি। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’

সেদিনের মিছিলের নেতৃত্বদানকারী এটিএম, পেয়ারুল ইসলাম যা বললেন: সেদিন আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ফটিকছড়িবাসীর দোয়া ছিল বলে আমি বেঁচে আছি।

নিহত, আহত ও যাদের গাড়ি পুড়িয়েছে তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে ২ কোটি ৩ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করিয়েছি। নিহতদের পরিবারের সবসময় খোঁজ রাখার চেষ্টা করি। আজ নিহতদের কবরে জিয়ারত, কোরআন খতমসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে । এছাড়া আগামী ২৮ এপ্রিল ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে । যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিথ থাকার কথা রয়েছে।

ঘটনার তিন বছর পূর্ণ হলেও বিচার না হওয়া দু:খজনক। তবে, অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাগুলো সিআইডিতে হস্তান্তর করায় কিছুটা আশায় আছি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত