টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মাইজভান্ডারে বাবা ভান্ডারীর ওরশ : যানজটে নাকাল ফটিকছড়িবাসী

পার্কিং ব্যবস্থার উদ্যোগ নেই মাজার কর্তৃপক্ষের

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

fatickchari(maijbandar)-janচট্টগ্রাম, ০৫ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) ::  আধ্যাত্ম শরাফতের অন্যতম প্রাণপুরুষ সৈয়দ গোলামুর রহমান আল-হাচানী আল মাইজভান্ডারী প্রকাশ বাবা ভান্ডারী (ক.) এর ৮০ তম পবিত্র বার্ষিক ওরস (২২ চৈত্র) আজ মঙ্গলবার। ভক্তদের পদচারণে মুখরিত ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফ। আশেকানে মাইজভান্ডারীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে জড়ো হয়েছেন দরবার শরীফে।

ওরশকে কেন্দ্র করে সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার গাড়ি এসে ভীড় করেছে নাজিরহাট রোসাংগিরী, মাইজভান্ডার, নানুপুরসহ ফটিকছড়ির দশ কি.মিটার এলাকাজুড়ে। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের সরকারহাট-কাটিরহাট-নাজিরহাট হয়ে বিবিরহাট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কি.মিটার দীর্ঘ কয়েক ঘন্টার যানজটের কবলে পড়েছে। অপরদিকে নাজিরহাট থেকে মাইজভান্ডার দরবার শরীফ পর্যন্ত ৪ কি.মিটার সড়কটি বিগত দু‘দিন যাবৎ গাড়ির পার্কিং এর দখলে । সড়কটি দিয়ে চলাচলের একমাত্র উপায় পায়ে হাঁটা। এক কথায় যানজটে নাকাল এখন এখানকার বাসিন্দারা। নির্দিষ্ট কোন পাকিং ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের দারেই পাকিং করতে হওয়ায় এ দুর্ভোগের সৃষ্টি।

মঙ্গলবার সকাল থেকে যানজটের পরিমান মাত্রাতিরিক্ত হয়। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন চলমান এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী যথাসময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন।

রিয়াজ হাসান নামক এক এইচ এস সি পরীক্ষার্থী বলেন,‘ রাস্তার পাশে যেন তেন করে গাড়ি পার্কিং এর ফলে যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘক্ষন পূর্বে বের হয়েও যথাসময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারিনি।’

সরেজমিনে মঙ্গলবার বিকেলে দেখা যায় নাজিরহাট ঝংকার হতে বিবিরহাট সড়ক দীর্ঘ ৩ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। তখন মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

মোশারফ নামক এক ব্যক্তি বলেন,‘ মাইজভান্ডারে ওরশকে কেন্দ্র করে বছরে কয়েকবার হাজার হাজার গাড়ি আসবে তা মাজার কর্তৃপক্ষ জানার পরও গাড়িগুলো পার্কিং এর জন্য স্থায়ী কোন ব্যবস্থা করেন না কেন ? মাইজভান্ডারের আশেপাশে তাদের নিজস্ব কোন স্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থা থাকলে মানুষ এ দূর্ভোগে পড়তো না। ’

খবর নিয়ে জানা যায়, মাজার কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় নিয়ে কর্ণপাত করেন না। বরং যেসব গাড়ি বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে রাস্তার পাশে পার্কিং করেন তা থেকেও প্রতি গাড়ি ৩ শত টাকা করে আদায় করে ওরশ ব্যবস্থাপনা কমিটি।

এসব টাকা পার্কিং ব্যবস্থায় নিয়জিত স্বেচ্ছাসেবকদের ভেতন বাবদ নেওয়া হয় বলে জানালেও, যানজটের সময় কোন সেচ্ছাসেবকের সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায় না। তবে, কিছু পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা যায়।

ওরশ ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য এসকান্দর বলেন,‘ মাজার কর্তৃপক্ষ পার্কিং ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বরতদের কোন প্রকার ভেতন প্রদান করেন না। তাই প্রতি গাড়ি থেকে ৩ শত টাকা করে নিয়ে তাদের বেতন প্রদান করি।’

ওরশে আগত হাজারেরও বেশি প্রতি গাড়ি থেকে ৩ শত টাকা আদায় করে যে মোটা অংকের টাকার পরিমান হয় তা ভোগাকারীদের গাফিলাতি ও মাজার কর্তৃপক্ষের স্থায়ী পাকিং ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহন না করায় এভাবে আর কতদিন দুর্ভোগ পোহাতে হবে ফটিকছড়িবাসীর ? সচেতন মহলের এ প্রশ্ন দীর্ঘদিনের।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত