টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ের স্লুইসগেইটগুলো অকেজো: বর্ষায় জলাবদ্ধতার আশংকা

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

Mirsarai-photoচট্টগ্রাম, ০৫ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) :: মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ও উপকূলে অবস্থিত স্লুইসগেইটগুলো প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। এতে পানি নিস্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আংশকা করছেন কৃষকরা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মিরসরাই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ফোরামের নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই আশঙ্কা করছেন জরুরীভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে উপজেলার জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নেবে। ফলে জমিতে খাদ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পানি নিস্কাশনের জন্য বিভিন্ন খালের ওপর পাঁচটি স্লুইসগেইট রয়েছে। এগুলো হচ্ছে ইছাখালী খাল, ডাউরখালী খাল, বামনসুন্দর খাল, সাহেরখালী খাল, ও ডোমখালী খালের ওপর নির্মিত স্লুইসগেইট। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ছোট ছোট ছরা ও খালে একাধিক স্লুইসগেইটগুলো রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মূলতঃ পানি নিস্কাশন ছাড়াও ওই স্লুইসগেইটগুলোর কাজ হচ্ছে সমুদ্র (বঙ্গোপসাগর) থেকে যাতে অতিরিক্ত নোনা পানি কৃষি জমিতে ঢুকতে না পারে তার নিশ্চয়তা দেওয়া। কিন্তু স্লুইসগেইটগুলো বর্তমানে প্রায় অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি, পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিস্কাশন হচ্ছে না এবং সাগরের পানি অবাধে ঢোকার সময় বাধাও দিতে পারছে না। এতে একদিকে উজানের পানি দ্রুত নিস্কাশন না হওয়ায় বন্যা দেখা দিচ্ছে। কোথাও কোথাও দেখা দিচ্ছে কৃষি জমি ও বাড়ি-ঘরে জলাবদ্ধতা। অপরদিকে আবার সাগরের নোনা পানি ঢুকেও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইছাখালী স্লুইসগেইটে উজানের পানি নিস্কাশন এবং ভাটির পানি ঢুকতে বাধা দিতে ৯টি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি বন্ধ, খোলা আছে ৪টি দরজা। যে চারটি দরজা খোলা রয়েছে তা-ও কার্যকর নয়। ডাউরখালী খালের ওপর তৈরী করা পানি নিস্কাশনের রাস্তাটিতে স্লুইসগেইট বলা ঠিক হবেনা। এখানে রয়েছে একটিমাত্র দরজা। যার দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াই ফুট। বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কাউনিয়া, কচ্ছপিয়া ও ডাউরখালী খালের পানি নিস্কাশনের জন্য তৈরি হয়েছিল স্লুইসগেইটটি। তিনটি খালের পানি নিস্কাশনের জন্য কোন যুক্তিতে আড়াই ফুট দীর্ঘ স্লইসগেইট নির্মিত হয়েছিল তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বামনসুন্দর স্লুইসগেটে ৯টি দরজা। ব্যবহারযোগ্য রয়েছে দুটি। সাহেরখালী স্লুইসগেইটের ছয়টা ৬টি দরজাই অকার্যকর বলা চলে। ডোমখালীতে রয়েছে ২টি স্লুইসগেইট। উত্তর পাশেরটাতেও ৩ টি দরজা। দরজা নিয়ন্ত্রণ করার চাকা না থাকায় এটাকেও অকার্যকর বলা যায়। দক্ষিণ পাশেরটাও অকেজো অবস্থায় রয়েছে।

একই সময়ে সীতাকুন্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের বদরখালী স্লুইসগেইটে দেখা যায়, সেটিও অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। স্লুইসগেইটটি দিয়ে সীতাকুন্ডের ১ নং সৈয়দপুর, ২ নং বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের পানি ছাড়াও মিরসরাইয়ের ১৪ নং হাইতকান্দি ও ১৫ নং ওহায়েদপুর ইউনিয়নের বেশীরভাগ অংশের পানি নিস্কাশন হয়। বদরখালী খালের মুখ সংকুচিত হয়ে যাওয়ার এমনিতেই পানি নিস্কাশিত হতে বেশ সময় লাগে। তার ওপর স্লুইসগেইটটিও খারাপ। তা-ও সংস্কার প্রয়োজন খাল খনন, স্লুইসগেইট তৈরি, সংস্কারের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, কিন্তু মিরসরাইয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কার্য্যালয় না থাকায় স্থানীয়রা তাদের অভিযোগের কথা জানাতে পারেন না। অপরদিকে মিরসরাইয়ের খালগুলো অর্ধেক অংশ দেখাশোনা করে সীতাকুন্ড এবং বাকী অংশ ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলম জানান‘ এই উপজেলার ১নং করেরহাট, ৪নং ধুম, ৫নং ওসমানপুর, ৭নং কাটাছড়া, ৮নং দুর্গাপুর, ৯নং মিরসরাই সদর, ১০নং মিঠানালা, ১১নং মঘাদিয়া, ১২নং খৈয়াছড়া, ১৩নং মায়ানী, ১৪নং হাইতকান্দি ইউনিয়নে বৃষ্টি হলেই জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানি নিস্কাশনের সু-ব্যবস্থা না থাকায় এই সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এতে করে কৃষকের কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়। তিনি আরো বলেন, মিরসরাইয়ের বেশ কয়েকটি খাল জরুরি ভিত্তিতে খনন করা প্রয়োজন। এর মধ্যে ফেনাপুনি, গোভনিয়া, মলিয়াইশ, ইছাখালী, মরগাঁং, মায়ানী লক্ষীছাড়া, মহামায়া, গোবিন্দপুর খাল অন্যতম।

জানা গেছে,পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা পর্যায়ে কোন যোগাযোগ এবং উপজেলা পরিষদের সাথে কাজের কোন সমন্বয় না থাকায় তাদের (পানি উন্নয়ন বোর্ড) বেশীর ভাগ কাজেই উপকারভোগীদের প্রয়োজন মেটায় না। ফলে অনেক সময়ই জলবদ্ধতা সম্পর্কে কৃষকদের অভিযোগ শুনার পরেও কোন কার্য্যকর উদ্যেগ নেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ মিরসরাইয়ের উপজেলা পর্যায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কার্য্যালয় বা প্রতিনিধি নেই।
ইছাখালী এলাকার কৃষক নুরুজ্জামান, সৈয়দুল হক জানান, ইছাখালী স্লুইসগেট ও ডাউরখালী স্লুইসটি দ্রুত সংস্কার করতে হবে। তিনি ডাউরখালী স্লুইসগেটটি প্রয়োজন অনুযায়ী স¤প্রসারণের দাবি জানান। উলে­খ্য, ডাউরখালী স্লুইসগেইটের প্রশস্ততা (চওড়া) প্রায় আড়াই ফুট। ওই আড়াই ফুট দিয়েই তিনটি খালের পানি নিষ্কাশিত হয়।

মিরসরাই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ফোরামের আহবায়ক ডা. জামসেদ আলম জানান, অতি দ্রুত স্লুইসগেইটগুলো সংস্কার করে মিরসরাইকে যদি জলাবদ্ধতার হাত থেকে বাঁচানো না যায় তাহলে এখানকার উৎপাদিত ফসল দিয়ে পুরো চট্টগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে অন্য অঞ্চলেও রপ্তানী করা যাবে। তিনি মিরসরাইয়ের স্লুইসগেইটগুলো সংস্কার এবং খাল খনন করার জোর দাবী জানান।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য