টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাঁশখালীতে ত্রিমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪

শহীদুল ইসলাম বাবর
দক্ষিন চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 

bচট্টগ্রাম, ০৪ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) ::  কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ত্রিমুখি সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।

সোমবার বিকাল তিনটায় উপজেলার গন্ডামারা এলাকার পশ্চিম বড়ঘোনা এলাকায় বেসরকারি এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- পশ্চিম গন্ডামারা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের আশরফ আলীর পুত্র মর্তুজা আলী, আংকুর মিয়া ও পাতান পাড়ার জাকির হোসেন।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১১ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং ৯ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার জানান, গ্রামবাসী পুলিশকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে এস আলমের কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি পিকআপ প্রবেশ করতে চাইলে এলাকার লোকজন তাতে বাধা দেন। ওই ঘটনার সূত্র ধরে পুলিশ শনিবার রাতে প্রকল্প এলাকা থেকে ১০ জন লোককে আটক করেন। পরে প্রকল্প এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

এলাকাবাসী জানান, এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে প্রশাসনের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করায় এলাকাবাসীর মিছিলে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরো ৩ জন। সর্বশেষ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে গ্রামবাসী ও পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। থেমে থেমে চলছে সংঘর্ষও।

এলাকাবাসী জানায়, বিকেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে হাজী পাড়া স্কুল মাঠে সমাবেশের ডাক দেন প্রতিরোধ কমিটি। একই সময়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে সমাবেশের ডাক দেন আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল আলম। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে। তবে বিকেলে ১৪৪ ধারা ভেঙে সমাবেশ করতে গেলে প্রতিরোধ কমিটির  সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষের বেশ কিছু লোক সংঘর্ষে যোগ দেয়।

মতামত