টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কর্ণফুলীর বুকে ফসলের আবাদ!

6চট্টগ্রাম, ০২ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) ::কর্ণফুলী নদীর বুক ছিঁড়ে জেগে উঠা চরে ফসলের আবাদ দেখে মন জুড়াবে যে কারোর। এ যেন নদী আর আকাশের মাঝে একখন্ড সবুজের মিতালী। ভোরে ও পড়ন্ত বিকেলের সূর্যের আলোয় অনন্য একরূপ ধারণ করে বোয়ালখালীর কোল ঘেঁষে জেগে থাকা নাজির চর।

এ চর জুড়ে আবাদ হয়েছে মরিচ, মিষ্টিকুমড়া, মিষ্টিআলু, চিচিঙ্গা, তিতকরলা, বেগুন, বাঙ্গি, তরমুজ, আখ, লালশাক, পুঁইশাক, টমেটোর ক্ষেত। এ ফলবতী গাছগুলো পরম মমতায় চরের বুকে সবুজের আভা ছড়িয়ে রেখেছে। ক্ষেতের চারপাশে মাচা, জাল, ঘেরা বেড়া দিয়ে অতিযত্নে পরিচর্যা করেন কৃষকরা।

অনেক কষ্টের ফলানো এ ফসল এখন ঘরে তোলার ধুম শুরু হয়েছে। নৌকা দিয়ে এ চরে আসা যাওয়া করতে হয় কৃষকদের। এ চরের আয়তন প্রায় ২’শ ৫০একর। এতে মৌসুমী শাকসবজির চাষ করে লাভবান হন কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষেতের মরিচ সংগ্রহ করছিলেন কৃষক আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, প্রায় ১২ শতক জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। এ এক নেশা ধরানো কাজ। ঝড়, বৃষ্টি, রোদ, অসুখ-বিসুখ, গাঁয়ে ব্যাথা কোনো অজুহাত নেই এ কাজে। সব বাঁধা উপেক্ষা করে ডিঙি নৌকা নিয়ে প্রতিদিন ভোরে চলে আসেন এ চরে। সারাদিন ক্ষেতের পরিচর্যার পর সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন তারা।

কৃষক জহির আহমদ মিষ্টি আলুর চাষ করেছেন। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা মিষ্টিআলু পাইকারি ১৫টাকা দরে ক্রয় করছে। নৌকাবর্তী নিজের জমির ফসল দেখেই আনন্দ তার-এমনটাই জানালেন জহির মুচকি হেসে।

মো. রুবেল মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে বর্তমানে ১০০ মিষ্টি কুমড়া ৪ হাজার ৫শত টাকা পাইকারি দরে বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। তিনি বলেন, এ চরে আবাদ ভালোই হয়। অল্প পুঁজিতে অধিক ফসল ঘরে তোলা যায়। মৌসুমী সবজি চাষের পাশাপাশি আমন ধানের চাষ হয় এ চরে।

এ চরের কৃষক শহীদুল ইসলাম জানান, কৃষি অফিসের সহায়তা ও পরামর্শ দিলে আরো ভালো চাষ করা যেত।

বোয়ালখালি উপজেলা কৃষি অফিসার রোজিনা আকতার বলেন, নাজির চরে ভালো আবাদ হয় শুনেছি। সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগদান করেছি। এখনো সেখানে যাওয়া হয়নি। তবে ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নাজির চরের অবস্থা সর্ম্পকে সবসময় খোঁজ নেয়া হয়। যেকোনো ধরণের সহযোগিতা অবশ্যই করা হবে।

মতামত