টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে ভোট দিতে পারেনি ৮ প্রার্থী!

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ০১ এপ্রিল (সিটিজি টাইমস) :: মিরসরাইয়ে ১১ চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুসারে প্রত্যেক প্রার্থীকে কাস্টিং ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হয়। সে হিসেবে মিরসরাইয়ের ৯টি ইউনিয়নে বিএনপির ৯ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ১১ জন প্রার্থী জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। এদিকে নির্বাচনে অংশ নেয়া ২০ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৮জন প্রার্থী নিজের ভোট দিতে পারেনি। বিএনপির নেতারা জানান, চেয়ারম্যান পদে দলের নয়জন প্রার্থীর মধ্যে সাতজনই ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাননি। ফলে নিজের ভোটও দিতে পারেননি তাঁরা। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) ভোট দিতে পারেনি।

৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী ছলিম নিজামী বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র তো দূরের কথা, ভোটকেন্দ্রের আশপাশেই যেতে পারেনি আমার কর্মী-সমর্থকেরা। আমার নিজের ভোটটিও দিতে পারিনি।’

ইছাখালী ইউনিয়নেও বিএনপির প্রার্থী নুরুল আবছার প্রতিপক্ষের বাধায় নিজের ভোটটি দিতে পারেননি বলে জানান।

জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা জমির উদ্দিন বলেন, নিজের ভোট দিতে পারলেও প্রতিপক্ষের ভয়ে কর্মী-সমর্থকেরা কেন্দ্রে যেতে পারেননি।

মিরসরাই সদর ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘বাড়ির সামনে প্রতিপক্ষের লোকজন পাহারা বসিয়েছে। বাড়ি থেকেই বের হতে পারিনি, ভোট দিব কীভাবে?’

চেয়ারম্যান পদে বিএনপির নয়জন প্রার্থীর মধ্যে সবার সঙ্গে কথা জানা গেছে এদের মধ্যে সাতজন ভোট দিতে পারেননি। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, চেয়ারম্যান পদে দুজন ছাড়া সাতজন প্রার্থীই প্রতিপক্ষের বাধার কারণে ভোট দিতে পারেননি।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান (সাময়িক বহিস্কৃত) নুরুল আমিন চেয়ারম্যান বলেন, ভোটের আগের দিন বুধবার সন্ধ্যার পর বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীকে বাড়িঘরে থাকতে দেননি আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর কর্মীরা। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনর্র্নিবাচন দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন ২ নম্বর হিঙ্গুলী ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত ইউসূফ জমিদার ( ৪৪২ ভোট), ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত মাওলানা জমির উদ্দিন (১৪০২ ভোট), স্বতন্ত্র প্রার্থী জিএম শহীদ উদ্দিন (৩৭৪), ৪ নম্বর ধুম ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থিত হাবিব উল্ল্যা (৪৮৭ ভোট), ৫ নম্বর ওসমানপুর ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত মহসিন স¤্রাট (১৭৬ ভোট), ৬ নম্বর ইছাখালী ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল আবছার (৪৮৮) ভোট। ৭ নম্বর কাটাছরা ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ আহম্মদ (২০৫ ভোট), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা শহীদুল ইসলাম (৩৭৪ ভোট), ৮ নম্বর দূর্গাপুর ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত প্রফেসর সেলিম নিজামী (২৯০ ভোট), ৯ নম্বর মিরসরাই সদর ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মফিজ উদ্দিন (৪৪০ ভোট), ১৬ নম্বর সাহেরখালী ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বদরুদ্দৌজা চৌধুরী ( ৪৪৪ ভোট) ।

তবে হুমকি, বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘ভোটের আগেও বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচারণা ছিল না। তাঁরা ভোটকেন্দ্রে না আসলে আমরা কী করতে পারি?’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তোফায়েল আহম্মদ জানান, নির্বাচনী বিধি অনুসারে প্রত্যেক চেয়ারম্যান প্রার্থীকে আট ভাগের এক ভোট পেতে হয়। আট ভাগের এক ভোট না পাওয়া ১১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী জামায়নত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত