টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আমি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহারাদার : মহিউদ্দিন চৌধুরী

চট্টগ্রাম, ৩০ মার্চ (সিটিজি টাইমস) :: নিজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত নগরীর বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী ও নিজের মেয়ে অকাল প্রয়াত ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পাকে খোঁজে ফিরেন জানিয়ে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমার কাছে স্বর্গীয় বাগান। এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরা যেন স্বর্গীয় শিশু হয়ে সেই বাগানে খেলা করছে। বিশ্ববরেণ্য সমাজ বিজ্ঞানী ও একুশে পদক প্রাপ্ত শিক্ষাবিদ উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন সেই স্বর্গোদ্যানের মালি, আমি সেই স্বর্গোদ্যানের এক অতীব নগন্য পাহারাদার।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মহিউদ্দিন চৌধুরী এক বিবৃতিতে একথা বলেন।

মহিউদ্দিন চৌধুরী বিবৃতিতে আরো বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন, আশা এবং ভালোবাসা নিয়ে আমি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। সেই উদ্যোগের সাথে যোগ হয়েছিল চট্টগ্রামবাসীর মমতাপূর্ণ অপরিসীম সহযোগিতা। সাথে যোগ হয়েছিল দেশের আপামর জনগণের ভালোবাসা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আন্তরিক সদিচ্ছা। সবকিছু মিলিয়ে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেছিল একটি অনন্য সাধারণ উচ্চমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।’

‘এই প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামকে শিক্ষায়-দীক্ষায় গৌরবান্বিত করেছে। আমি যুদ্ধ করে এদেশের স্বাধীনতা এনেছি। কোন অপশক্তি আমার এই স্বাধীনতা, শিক্ষা ও মানবিক কল্যাণকে প্রতিহত করতে পারবে না। আমি লক্ষ করছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চলছে। এর বিরুদ্ধে আমি সর্ব শক্তিনিয়ে রুখে দাঁড়াবো। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী ব্যক্তিবিশেষকে আমি চিনি। মাফিয়া চক্রের এজেন্ট হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর এবং এই প্রাকৃতিক ঐশর্য্যময় জনপদকে ধ্বংস করার জন্য ষড়যন্ত্রে যারা লিপ্ত তাদেরকে আমি অবশ্যই নির্মূল করবই।’

মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সর্বস্তরের মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় এটা একটি বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠছিল। তাই আমার প্রয়াত কন্যা এবং সর্বাপেক্ষা আদরের সন্তান ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পাকেও এই বিশ্বাবিদ্যালয়ে ভর্তি করেছিলাম। মহান সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দিয়ে টুম্পা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। তাই আমি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে টুম্পাকে খুঁজে ফিরি। তাদের প্রত্যেকের চেহারায় আমি টুম্পাকে দেখতে পাই। এই পবিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী আমার সন্তান।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি রাজনীতির মানুষ। আমি আজীবন নিজেকে একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী মনে করে এসেছি। এখনো নিজেকে তাই মনে করি। একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দেশ ও সমাজের সেবায় নিয়োজিত আছি। আগাগোড়াই রাজনীতির মানুষ হলেও আমি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়কে আমার রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে রেখেছি। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমার কাছে স্বর্গীয় বাগান। এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরা যেন স্বর্গীয় শিশু হয়ে সেই বাগানে খেলা করছে। বিশ্ববরেণ্য সমাজ বিজ্ঞানী ও একুশে পদক প্রাপ্ত দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন সেই স্বর্গোদ্যানের মালি, আমি সেই স্বর্গোদ্যানের এক অতীব নগন্য পাহারাদার।’

তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রামবাসী জানেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় তাঁদের সম্পদ; আর তাঁরা খুব ভালো করে উপলদ্ধি করেন প্রতি বছর উচ্চ শিক্ষার্থে সন্তানদের বিদেশে পাঠাতে যে অর্থ বাইরে চলে যেত সেই অর্থ দেশেই থাকছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় এটাকেও একটাও অন্যতম কারণ মনে করেছিলাম। সুন্দর আগামীর জন্য সুন্দর প্রজন্ম উপহার দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় যে মহৎ যাত্রা শুরু করেছিল সেই যাত্রা অব্যাহত থাকবে। হঠকারী এবং ষড়যন্ত্রকারীরা সেই যাত্রা পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।’

মতামত