টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ভবন সংকটে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

রাঙ্গুনিয়া পোমরা সাপলেজা পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

Rangunia-saplaza-para-schooচট্টগ্রাম, ৩১ মার্চ (সিটিজি টাইমস) ::চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের সাপলেজা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সংকটের কারনে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। ভবন না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্বক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীর তুলনায় দুটি ভবন নিয়ে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে হচ্ছে। উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সাপলেজা পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিবছর শতভাগ শিক্ষার্থী পাস সহ টেলেন্টপুল ও জিপিএ ৫ নিয়ে ভাল ফলাফল অর্জনকারী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র ১টি ভবনের কারনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পোমরা সাপলেজা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুখময় নন্দী জানান, স্কুল প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯২-৯৩ সালে ভবন গড়ে উঠে। সে ভবনটি এখন পাঠদান অনুপযোগী। একটু বৃষ্টি হলে পানি গড়িয়ে শিক্ষার্থীদের গায়ে পড়ে কাপড় চোপড়, বই পত্র নষ্ট হয়ে যায়। যা শিক্ষা কার্যক্রমকে চরম ভাবে ব্যাহত করে। অপর একটি ভবন ২০০৪-০৫ সালে নির্মাণ হয়। ছাত্র-ছাত্রীর তুলনায় এই ২টি ভবন অপ্রতুল। বর্তমানে স্কুলে ৫’শত ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়নরত রয়েছে। এছাড়াও নলকূপের অভাবে পানীয় জলের অভাব বিদ্যালয়ের অন্যতম আরও একটি সমস্যা। একটি নলকূপের অভাবে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি থেকে দূর-দূরান্তে গিয়ে খাওয়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে হয়। পাঠদানের মাঝপথে পানি আনতে গিয়ে এতে অনেক সময় অপচয় হয়। যা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়ছে। অপরদিকে স্কুলের বাউন্ডারী ও সিড়ি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উঠা নামাতে প্রতিদিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন মুন্সি জানান, একটি ভবন বদলে দিতে পারে বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম। ভবন সংকটে পড়ে এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রায় সময় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে। ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হলে সাপলেজা পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় একটি মেধা নির্ভর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইদ্রিছ জানান, স্কুলটির লেখাপড়ার মান খুবই ভাল। শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ভবনের চেয়ে অতিরিক্ত। শিক্ষার্থীদের একটি ভবনের প্রয়োজনের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভবন নির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার জানান, স্কুলটির শিক্ষা কার্যক্রম সহ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকলেও ভবন সংকটের কথা শুনেছি। এই সমস্যা সমাধানে নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত