টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দুর্ঘটনায় চুয়েট ছাত্র নিহত: ৮ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

CUET--KAPTAI-ABOROD-1চট্টগ্রাম, ৩০ মার্চ (সিটিজি টাইমস) :: সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর স্থাপত্য বিভাগের লেভেল-৫, টার্ম-১ এর ছাত্র মো: মুহাইমিনুল ইসলাম নিহত হওয়ার প্রতিবাদ ও ৮ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার ৩০ মার্চ দুপুর ২ টায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা চুয়েট গেইট হতে মিছিল সহকারে পাহাড়তলী বাজার প্রদক্ষিণ করে চুয়েট গেইট সম্মুখে কাপ্তাই সড়কে অবস্থান করে। সড়কের উপর ইট পাথর, গাছপালা ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। বিকাল ৫ টা পর্যন্ত টানা তিন ঘন্টা এই অবরোধ স্থায়ী ছিল। এসময় শিক্ষাথীরা স্লোগান সহকারে তাদের দাবী তুলে ধরলেও কোন রকমের ভাংচুর বা সহিংস পরিবেশ সৃষ্টি করেনি। এই অবরোধ সময়কালিন পশ্চিমে উপজেলার পথের হাট পূর্বে রাঙ্গুনিয়ার রোয়াজার হাট পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় অনেক শিশু-বৃদ্ধ গাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশু-বৃদ্ধসহ অনেকে মালপত্রের বোঝা নিয়ে পায়ে হেটে গন্তব্য স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে অবরোধ কালিন সময়ে চুয়েট ছাত্ররা রোগী পরিবহনকারী গাড়ী চলাচলে সাহয্য করে। উপজেলা প্রশাসন ও চুয়েট প্রশাসন যৌথভাবে ছাত্রদের দাবী মেনে নেওয়ার শর্ত সাপেক্ষে ছাত্ররা অবরোধ তুলে নেয়।

চুয়েট শিক্ষার্থী মো: মুহাইমিনুল ইসলাম গত ২৯ মার্চ বিকেলে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের মদুনাঘাট এলাকায় সিএনজি অটো রিকশা টুকটুকির মুখমুখি সংঘর্ষে (টেম্পু) আহত হওয়ার পর চমেকে চিকিৎসাধিন অবস্থায় সন্ধা ৬ টায় মারা যান। এই মেধাবী শিক্ষার্থীর সহপাঠী সহ চুয়েটের সকল শিক্ষার্থীরা তার অকাল প্রয়াণে শোকাহত হয়ে এই আন্দোলনে নেমে পড়েন। আগামীতে যাতে আর কাউকে এভাবে হারাতে না হয় সেই প্রেক্ষিতে ছাত্ররা প্রসাশনের সম্মুখে আট দফা দাবী তুলে ধরেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কুল প্রদীপ চাকমা, প্রো ভিসি অধ্যাপক ড. মোহম্মদ রফিকুল আলম, সার্কেল এসপি মছিউদ্দৌলা রেজা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ প্রমুখ। এই দাবীগুলোর মধ্যে উলে­খযোগ্য ঘাতক গাড়িটির চালককে ২৪ ঘন্টার গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা। কাপ্তাই সড়কে সিএনজি চালিত অটো টেম্পু(টুকটুকি) চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া। চুয়েট হতে শহর পর্যন্ত বিআরটিসি বাস ও সিটি বাস সার্ভিস চালু করা।লাইসেন্স বিহীন গাড়ী ও চালকদের গাড়ি চলাচল বন্ধ করা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক বসানো। কাপ্তাই সড়ক প্রসারণ করা। চুয়েট গেইট সম্মুখে সর্বদা দুটি এম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকা ইত্যাদি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্থানীয়দের তাদের আন্দোলনে সহযোগীতা করার আহবান জানান। তারা বলেন, এই দাবী শুধু আমাদের একার নয় আপনাদের সকলের। তারা বলেন এই মুহূর্ত থেকে কাপ্তাই সড়কে টুকটুকি দেখলে পুড়ে দেওয়া হবে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহম্মদ রফিকুল আলম ছাত্রদের দাবী সাথে একত্মা প্রকাশ করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের প্রিয় এক ছাত্রকে হারিয়ে আমরা অত্যন্ত বেদনাহত। আমরা এই দুর্ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় নিত্য প্রাণ ও সম্পদহানি রোধে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতার সাথে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কুল প্রদীপ চাকমা ছাত্রদের দাবী মেনে নিয়ে বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ঘাতক গাড়িটি আটক করেছি। চালককেও আটকের চেষ্ঠা চলছে। আগামী কাল থেকে বিআরটিসির পাঁচটি বাস চালু থাকবে লাইসেন্স বিহীন গাড়ী ও চালকদের আটক করা হবে। আর রাউজানে টুকটুকি চলাচল বন্ধ থাকবে। সেই সাথে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ৬নং সিটি সার্ভিসের বাস গুলো চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। প্রসাশনের এই আশ্বাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের অবরোধ তুলে নেন। কাপ্তাই সড়কের যাত্রীরা এই দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের দূর্ভোগ থেকে মুক্তি পায়।

মতামত