টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দুই মন্ত্রীকে রিভিউ করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম, ২৮ মার্চ (সিটিজি টাইমস) :: আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডিত খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ) করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাদের এই পরামর্শ দেন। বৈঠক শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দেন দণ্ড পাওয়া দুই মন্ত্রী। বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত এই বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠক শেষে কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী তাদের রিভিউ করতে বলেছেন। তারা রিভিউ করবেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানান, তিনিও রিভিউ করবেন। তাছাড়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পাওয়ার পর পদত্যাগ বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের জানান, দুই মন্ত্রী আদালতের রায়ে দণ্ডিত হলেও সংবিধান লঙ্ঘন বা শপথ ভঙ্গের মতো কোনো অপরাধ করেননি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, দল দুই মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ভালোভাবে নেয়নি।

গতকাল রবিবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড দেন। নজিরবিহীনভাবে দুই মন্ত্রী দণ্ড পাওয়ার পর তাদের পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাংবিধানিকভাবে তারা পদে থাকতে পারবেন কি-না তা নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে নৈতিকভাবে দণ্ডিত দুই মন্ত্রী পদে থাকতে পারেন না বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রায় সবাই। গতকালই গুঞ্জন উঠেছে, এই দুই মন্ত্রী নিজ থেকে পদত্যাগ করতে পারেন অথবা প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে পদত্যাগে বাধ্য করতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছিল, আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দুই মন্ত্রীকে রিভিউ করার নির্দেশ দেয়ায় রিভিউর আদেশ পর্যন্ত বিষয়টি ঝুলে থাকলো।

গত ৫ মার্চ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বাদ দিয়ে মীর কাসেমের মামলার আপিল শুনানি পুনরায় করার দাবি জানান দুই মন্ত্রী। এ বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশের পর গত ৮ মার্চ দুই মন্ত্রীকে তলব করেন পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। গত ১৫ মার্চ দুই মন্ত্রী আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন। তবে খাদ্যমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় তার পক্ষে আদালতে সময় চাওয়া হয়েছিল। আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য ২০ মার্চ দিন পুনর্নিনির্ধারণ করেন।

২০ মার্চ দুই মন্ত্রী আদালতে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। কিন্তু খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় ২৭ মার্চ তাদের দুজনকেই ফের আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন আদালত। গতকাল রবিবার দুই মন্ত্রী আদালতে হাজির হলে আপিল বিভাগ তাদেরকে এই দণ্ড ঘোষণা করেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত