টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আনন্দবাজার: বাংলাদেশের হবু রাষ্ট্রপতি এস কে সিনহা?

চট্টগ্রাম, ২৫ মার্চ (সিটিজি টাইমস) :: কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রমাণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট করা হতে পারে।

অমিত বসুর লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রমাণ করার সুযোগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে। সুরেন্দ্রকুমারও সেই ইঙ্গিত পেয়েছেন। তার জোরেই রাষ্ট্রীয় গরিমা প্রকাশে তিনি ব্যস্ত। সিলেটের সভায় তিনি বলেছেন, আমেরিকার ডলার যার গণতন্ত্র তার। বাংলাদেশে তা নয়। এখানে সবাই সমান।

শুক্রবার আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো:

পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি আবু সঈদ চৌধুরী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তাকে ঘিরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার আবর্তিত। মন্ত্রী ছিলেন সর্বসাকুল্যে ১১ জন। ১৯৭২ এর ১২ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত সরকার বেশি দিন দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। ১৯৭৫ এর ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীতে সংসদীয় রীতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি চালিত সরকার চালু হয়। রাষ্ট্রপতি হন মুজিবুর রহমান। ছ’মাস বাদে ১৫ আগস্ট সেনা আক্রমণে সপরিবারে নিহত হন শেখ মুজিব। রাষ্ট্রপতি হন আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোস্তাক আহমেদ।

মুজিব-মোস্তাক দু’জনেরই কলেজ জীবন কলকাতায়। মুজিব পড়তেন ইসলামিয়া কলেজে। যার এখনকার নাম মওলানা আবুল কালাম আজাদ কলেজ। থাকতেন কলেজ হোস্টেলে। মোস্তাকের বাস ছিল খিদিরপুরে। বাংলাদেশের মুক্তিযু্দ্ধে মুজিবের নেতৃত্বে লীগে যোগ দিলেও মোস্তাক ছিলেন মুজিবের শত্রু। মুজিব হত্যায় তার হাত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। ছ’মাস পর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানে মোস্তাক ক্ষমতাচ্যুত হন।

১৯৭৮-এর ৩ জুন ৭৬.৭ শতাংশ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জেনারেল জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯-এর ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের নির্বাচন। এপ্রিলে সামরিক আইন প্রত্যাহার। ১৯৮১র ৩১ মে চট্টগ্রামে সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়া নিহত।…১৫ নভেম্বর নির্বাচনে জিতে রাষ্ট্রপতি হলেন বিএনপি প্রার্থী এমএ সাত্তার। ১৯৮২র ২৪ মার্চ সেনা প্রধান লেফটেন্যানাট জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি হন।

১৯৯০-এর ২৭ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সাহাবউদ্দিন আহমেদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেন এরশাদ। ১৯৯৬-এ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও রাষ্ট্রপতি হন সাহাবউদ্দিন।

২০০৮-এ দ্বিতীয় বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দায়িত্ব নিয়েই যুদ্ধপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তিনি তৎপর। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী। ২০১৫র ১৭ জানুয়ারি হিন্দু আইনজীবী সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেন। এতে ক্ষোভ আওয়ামী লীগের মধ্যেও। বিক্ষুব্ধরা জানে, পদটি কতটা শক্তিশালী।

প্রধান বিচারপতির অবস্থান রাষ্ট্রপতির ঠিক এক ধাপ নিচে। পিতা মুজিবের মতোই প্রধান বিচারপতিকেই রাষ্ট্রপতি করাটা পছন্দ করেন হাসিনা। এতে সুবিধে দু’দিকে। এক, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। দুই, একজন আইনজ্ঞকে অভিভাবক হিসেবে পাওয়া। ভারতে প্রথম সংখ্যালঘু রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন মুহাম্মদ হিদায়তুল্লাহ ১৯৬৯-এ। তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন।

হাসিনা সুরেন্দ্র কুমারকে টেনে তুললেন কেন। আইনজীবী বা বিচারপতিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থক কম নেই। অন্য কাউকেও পছন্দ করতে পারতেন। তা না করে সংখ্যালঘু বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দিলেন। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সংখ্যালঘু মাত্র আট শতাংশ। মৌলবাদ ডানা মেলায় তারা বড় অসহায়। বিশেষ করে দেশত্যাগী হিন্দুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত জেলায় তাদের ভিড়। মৌলবাদীরা সেটাই চায়। বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোই তাদের উদ্দেশ্য।

হাসিনা প্রতিবাদী। তিনি একের পর এক যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির ব্যবস্থা করে কঠিন বার্তা দিয়েছেন। বাংলাদেশকে তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার পথেই টেনে নিয়ে যেতে চান। সামনের সব বাধাই তার কাছে তুচ্ছ।

হাসিনার আগ্রহেই ২০১৩র ২০ মার্চ বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন সংসদের স্পিকার আব্দুল হামিদ। তার নয়মাস পর সাধারণ নির্বাচন জিতে ফের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আবার সাধারণ নির্বাচন ২০১৯’এ। তার আগেই বর্তমান রাষ্ট্রপতি হামিদের মেয়াদ ফুরনোর কথা। সেই শূন্য আসনে সুরেন্দ্র কুমারকে বসানোর সুযোগ ছাড়বেন কেন হাসিনা। বাংলাদেশকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রমাণ করার সুযোগ তার সামনে।

সুরেন্দ্র কুমারও সেই ইঙ্গিত পেয়েছেন। তার জোরেই রাষ্ট্রীয় গরিমা প্রকাশে তিনি ব্যস্ত। সিলেটের সভায় তিনি বলেছেন, আমেরিকায় ডলার যার গণতন্ত্র তার। বাংলাদেশে তা নয়। এখানে সবাই সমান।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত