টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয় ২০২২ সালে চালু হবে

cচট্টগ্রাম, ২৩ মার্চ (সিটিজি টাইমস) :: বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে কাজ ২০১৮ সালে শুরু হবে। আর এর নির্মাণ কাজ ২০২২ সালে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপদ (সওজ) চট্টগ্রাম জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র ধর।

বুধবার (২৩ মার্চ) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সম্মেলন কক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের প্রস্তাবিত এলাইনমেন্ট এবং নকশা সম্পর্কিত মতবিনিময় সভায় সভপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভাপতির বক্তব্যে সওজ চট্টগ্রাম জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বিধান ধর জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে হবে বাংলাদেশের ইকোনোমিক লাইফ লাইন। ২১৭.৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়টি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা কাচপুর ব্রিজের এক কিলোমিটার দক্ষিনে পর্যন্ত হবে। এ দীর্ঘ পথে এক্সপ্রেসওয়ের যেখানে একটা সড়কের সাথে আরেকটা সড়কের ক্রসিং হবে সেটার জন্য ২০ কিলোমিটার এলিবেট রাস্তা করা হবে। বাকি ১৯৭.৫ কিলোমিটার করা হবে এটগ্রেড। এলিবেট ও এটগ্রেডের মাধ্যমে করা হয় তাহলে প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। আর যদি এটগ্রেড ছাড়া পুরোটাই এলিবেটেড দিয়ে করা হয় তা হলে ব্যয় হবে ৬৭ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। যা এটগ্রেড খরচের দ্বিগুনের চেয়ে বেশী।

তিনি আরো জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের সম্ভাব্য জরিপ সম্পাদিত হয়েছে। বিস্তারিত নকশার সম্পর্কিত কাজ চলমান রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান এসমেক্ট (এসএমইসিটি) নামক একটি প্রতিষ্ঠান এর নকশার কাজ করছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়েটা হলে চট্টগ্রাম বন্দরে থেকে সহজে পন্য ও যাত্রীরা কম সময়ে যাতায়াত করতে পারবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত যেসব অর্থনৈতিক জোন আছে সেগুলোর সাথে এর যোগসুত্র রেথেই এক্সপ্রেসওয়ের কাজ করা হবে। এর মাধ্যমে যাতায়ত করার জন্য একটা পন্যবাহী ট্রাক থেকে প্রতি কিলোমিটার ৮ টাকা করে নেওয়া হব। যাতে টাকায় পৌছাতে মোট ১৬০০ টাকায় কম সময়ের মধ্যেই টাকায় পৌছে যেতে পারবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প পরিচালক মাহবুব-উল আলম বলেন, সর্ম্পুন আলাদা একটি সড়কের মধ্যে ২১৭ কিলোমিটার রাস্তা বেড়া দিয়ে ঘেরা থাকবে। কেউ চাইলে সেখানে চলাচলের জন্য প্রবেশ করতে পারবে না। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত শুধু ঢাকার মাদানপুর, দাউদকান্দি, ময়নামতি, পদুয়ার বাজার, ফেনী, বারৈয়ারহাট ও চট্টগ্রাম সহ মোট ৭ টি সড়কের সাথে সংয়ুক্ত হয়ে সাইড ক্রসিং করবে। যার জন্য মেঘনা নদীর উপর আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হবে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তবে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমীন বলেন, বাংলাদেশের ৯২ ভাগের বেশী পন্য চট্টগ্রাম থেকে আমদানী রপ্তানী হয়। মিরসরাইয়ে একটি অনেক বড় অর্থনৈতিক জোন হচ্ছে। আনোয়ারাতেও অর্থনৈতিক জোন হচ্ছে এবং বিশ্বের অন্যতম সমুদ্রবন্দর দক্ষিণ চট্টগ্রামের কক্সবাজারে। যদি ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়েটা কক্সবাজার পর্যন্ত করা হতো অনেক বেশী ভাল হতো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, অন্যান্য উন্নত দেশের জন্য এক্সপ্রেসওয়ে পুরাতন হলেও বাংলাদেশের জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে হলো নতুন প্রকল্প। বাংলাদেশ আমেরিকা সুইজারল্যান্ড, জার্মান দেশ নয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেওয়ের জন্য ভূমি অধিগ্রহন হলো সবচে কষ্টকর ব্যাপার অনেক সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। যা ইতিমেধ্য অনেক কাজ শেষ করা হয়েছে।

সভায় ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প ব্যবস্থাপক শিশির কান্তি রোৎ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরোয়ার, চট্টগ্রাম বন্দর কর্মকর্তা, রেলওয়ে কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাদের মতামত তুরে ধরেন।

মতামত