টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নানা শঙ্কায় প্রথম ধাপের ভোট কাল

চট্টগ্রাম, ২১ মার্চ (সিটিজি টাইমস) :: বিএনপি ও আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীদের আধিক্য, ভোটে জেতার জন্য প্রার্থীদের বেপরোয়া মনোভাব, প্রভাব বিস্তারসহ নানা শঙ্কার মধ্যেই আগামীকালের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ধাপের নির্বাচনের সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।তবে শঙ্কার মধ্যেও ভোট এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।প্রায় ১৪টি রাজনৈতিক দলের প্রতীকে প্রথমবারের মতো এই ভোট হচ্ছে।নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যেই প্রতিযোগিতা হবে বেশিভাগ ইউপিতে।গত কয়েকদিন ধরে নির্বাচনী সহিংসতা ভোটের দিন হাঙ্গামার ইঙ্গিত বহন করলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।মাঠ পর্যায়ে পুলিশের শো-ডাউন দেখে ভোটাররা অনেকটাই স্বস্তিতে রয়েছে।গতকাল রাত থেকে নির্বাচনী এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।টহলে রয়েছে র‌্যাবও। প্রথম ধাপে ৭৫২টি ইউপিতে তফসিল ঘোষণা করা হলেও অন্তত ৫০ টির বেশিতে শাসক দলের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় কাল ভোট হবে ৭২১টি ইউপিতে।

সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলবে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন ঘিরে যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেয়া হয়েছে বারতি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এদিকে ভোটের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পাশাপাশি প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের আশংকা প্রকাশ করে গত কয়েকদিনে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগের স্তূপ জমা হয়েছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা তাদের অভিযোগে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রচারকে কেন্দ্র করে অন্তত ৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে কয়েকশ’ লোক আহত হয়েছেন। আগামীকাল ভোট গ্রহণের সময় সংঘাত-সহিংসতা ও গোলাযোগের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে শংকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও শতাধিক প্রার্থী। এতে কেন্দ্র দখল, ভোটের আগের রাতে ব্যালটে সিল মারা, প্রতিপক্ষকে এলাকা ছাড়াসহ নানা অভিযোগ এনে কমিশনের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন তারা।

নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, এ পর্যন্ত কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা জানতে পেরেছি। আর যাতে এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে সেজন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি। এরপরও ইতিমধ্যে কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে যা আমাদের নজরে এসেছে। বেশ কিছু ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়েছি। আশা করি, সামনে বড় ধরনের অঘটন ঘটবে না। তিনি বলেন, সংঘাত-সংঘর্ষ হলেই ব্যবস্থা নেবে আইনশৃংখলা বাহিনী। আমরা বলে দিয়েছি, কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। এটা মুখের কথা নয়। অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কেউ ছাড় দিলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসি সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে সহিংসতার আশংকা খোদ কমিশনারদের মধ্যে রয়েছে। কয়েকটি স্থানে পুলিশের বিরুদ্ধেই আইনশৃংখলা পরিস্থিতি উন্নতিতে পদক্ষেপ না নেয়ার তথ্য পাঠিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আইনশৃংখলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে ৭৩৪টিতে ভোট হবে। এর মধ্যে ২২ মার্চ ৭২১টি, ২৩ মার্চ ১১টি ও ২৭ মার্চ বাকি দুটিতে ভোট গ্রহণ হবে। এই ধাপে তিনটি পদে ৩৬ হাজার ৪৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে ৩ হাজার ৩৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৫ হাজার ৮৪৭ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭ হাজার ৫৭৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫৪, সদস্য পদে ১৭৯ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা সবাই আওয়ামী লীগের। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৭৩৩ ও বিএনপির ৬১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। প্রথম ধাপে ১২১টিতে বিএনপির প্রার্থী নেই। অপরদিকে একটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেই। নির্বাচনে জাতীয় পার্টিসহ ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। এতে ভোট কেন্দ্র ৭ হাজার ৮৭টি এবং ভোটার ১ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার ৭৪১।

গেছে, দলভিত্তিক এ নির্বাচনে আচরণবিধি লংঘনে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়ায় সমালোচনার মুখে রয়েছে ইসি। সংঘর্ষ-সহিংসতার ঘটনা খতিয়ে দেখতে শুধু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পাঠিয়ে কাজ সেরেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি। তবে নির্বাচনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রোববার মাঠে নেমেছে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে পুলিশের একটি মোবাইল ফোর্স ও প্রতি তিন ইউনিয়নে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতি উপজেলায় র্যাবের দুটি মোবাইল ও একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স, বিজিবির দুটি মোবাইল টিম ও একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড নির্বাচনী আইনশৃংখলা রক্ষায় কাজ করছে। এছাড়া নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত