টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মঙ্গলবার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউপি নির্বাচন: ষ্ট্রাইকিং ফোর্স, পুলিশ-র‌্যাব ও বিজিবির টহল

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ২০ মার্চ (সিটিজি টাইমস) :: রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার (২২ মার্চ)। প্রথমবারের মতো দলীয় পরিচয়ে প্রথম ধাপে শুধুমাত্র চট্টগ্রামের মধ্যে রাঙ্গুনিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার রাতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রাথী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ফলে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিএনপির একক প্রার্থীসহ ৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। নির্বাচনকে ঘিরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার রয়েছে। এলাকায় র‌্যাব, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ টহলে রয়েছে।

দীর্ঘদিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় জনগনের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা হওয়ার কথা থাকলেও ভোটের মাঠ অনেকটা নিরুত্তাপ। নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগে উৎসব মুখর পরিবেশ থাকলেও বিএনপি নিরব। অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী তেমন কোনো প্রভাব নেই। বিএনপি নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশংকা করলেও আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে দাবি করেন। ৩ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত একক প্রার্থী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ইদ্রিছ আজগর নৌকা প্রতীক, বিএনপির মনোনীত একক প্রার্থী চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মজিবুল হক প্রতীক ধানের শীষ, ও স্বতন্ত্র প্রাথী মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রতীক আনারস। শনিবার বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শামসুল আলম নির্বাচনের পরিবেশ না থাকায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে শুধু প্রতীক নয় প্রার্থীর যোগ্যতা দেখে তারা ভোট দেবেন। প্রার্থীদের মধ্যে প্রথম দিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও পরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ফলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একক প্রার্থী নির্বাচন করছেন।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইদ্রিছ আজগর জানান, চন্দ্রঘোনার উন্নয়ন কর্মকান্ডের চাকা চলমান রাখতে জনগন আমাকে নির্বাচিত করবেন। নির্বাচন গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অবাধ সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ন হবে বলে তিনি দাবি করেন।

বিএনপির প্রার্থী মজিবুল হক নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশংকা জানিয়ে বলেন, আমার প্রচার প্রচারনায় বাধা দেয়া হচ্ছে। পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও তিনি জয়ী হবেন বলে দাবি করেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ও একই সুরে নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশংকা করেছেন।

কদমতলী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল গফুর জানান, দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হলেও ভোটারদের মাঝে তেমন উৎসাহ নেই। হতাশার সুরে তিনি বলেন, একই মুখ আবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছে, চন্দ্রঘোনার দুঃখ আজীবন থেকে যাবে। দীর্ঘ ১৩ বছর একই চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকায় এলাকার কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি করেন।

লিচু বাগানের ক্ষুৃদ্র ব্যবসায়ী আবদুল করিম জানান, আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইদ্রিছ আজগর চেয়ারম্যান সব প্রার্থীর তুলনায় যোগ্যতায় অনেকটা এগিয়ে। তিনি আবারো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার জন্য ভাল হবে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল আলম জানান, নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়ার জন্য যা যা করা দরকার সব কিছুৃ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষনিক মাঠে থাকবে। চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নে ৯ টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার ১৯,৪৭৭ জন। নির্বাচনের দিন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ জন ও ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

মতামত