টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তাসকিন-সানির নিষেধাজ্ঞায় ক্ষোভে ফুঁসছে সোস্যাল মিডিয়া

spচট্টগ্রাম, ২০ মার্চ (সিটিজি টাইমস) ::  আবারো ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন বাংলাদেশে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা। তাসকিন-সানিকে অন্যায়ভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করায় আইসিসি ও ভারতের প্রতি এই বিষেদাগার।

বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি দেখিয়ে তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানিকে আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে নিষিদ্ধ করার আইসিসির সিদ্ধান্তে বিস্ময়ের সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভক্ত-সমর্থকরা।

ল্যাবে পরীক্ষা দেওয়ার পর দুই বোলারকে নিষিদ্ধের ঘোষণা এলেও ওই পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ফেসবুক ও টুইটারে সন্দেহ প্রকাশ করতে দেখা যায় অসংখ্য ক্রিকেট ভক্তকে।

পরীক্ষায় বেশিরভাগ ডেলিভারিতে সানির কনুই বোলিংয়ের সময়ের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ ডিগ্রির বেশি বেঁকে যায়; আর তাসকিনের সব ডেলিভারি বৈধ ছিল না উল্লেখ করে শনিবার বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের সাময়িক নিষিদ্ধের কথা জানায় আইসিসি।

এর প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ূন কবির নামে এক ক্রিকেটপ্রেমী ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেন, ‘তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন অবৈধ ! কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।’

বাংলাদেশি দুই বোলারের এই নিষিদ্ধের মধ্যে ক্রিকেট রাজনীতি রয়েছে বলে মনে করেন অধিকাংশ বাংলাদেশী।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের একটি পোস্টের মন্তব্যে ভারতীয় দলের বোলার রবিচন্দ্র অশ্বিন ও জাসপ্রিত বুমরার বোলিং অ্যাকশন নিয়েও প্রশ্ন তুলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

মারুফ নামের এক ভক্ত লেখেন, ‘অশ্বিন বুমরারা খেলে যাক- আর তাসকিন, সানিরা নিষিদ্ধ হোক। জয় ক্রিকেট পলিটিক্স। স্যালুট আইসিসি।’

বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া ক্রিকেটকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার জন্যই এই নিষিদ্ধের আয়োজন মন্তব্য করে ভবিষ্যতে মুস্তাফিজুর রহমানকেও নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেকেই।

আরেক তরুণের পোস্ট ‘যেখানে তাসকিনের মত বোলারকে নিষিদ্ধ করা হয়, সেখানে মুস্তাফিজকে নিয়ে ভয়ে পড়ে গেলাম। তাসকিন থেকে মুস্তাফিজ বেশি ভয়ঙ্কর, সো তাকে খেয়ে দিতে পারলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট কয়েক বছর পেছনে ঠেলে দেয়া যাবে। মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেললাম’।

বিষয়টিকে ‘স্পষ্টতই ক্রিকেট রাজনীতির অংশ’ বলে মনে করা বাংলাদেশ দলের সমর্থকরা এ ঘটনায় বিসিবিকে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সুজন মাহমুদ নামের একটি আইডি থেকে বিসিবি পেজের পোস্টে হ্যাশ ট্যাগ ব্যবহার করে মন্তব্য করা হয়, ‘প্লিজ বিসিবি রাইজ ইউর ভয়েস অ্যাগেইনস্ট আইসিসি নাউ। আজ যদি প্রতিবাদ না করেন- তাহলে আর কোনো দিনই প্রতিবাদ করা যাবে না। এখনই সময় আওয়াজ তোলার’।

কেউ কেউ প্রতিবাদ হিসেবে বিশ্বকাপ বয়কট করে আসার আহ্বানও জানাচ্ছেন অধিনায়ক ও বিসিবির কাছে।

দুই বোলারকে ‘অন্যায়ভাবে’ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে মন্তব্য করে মিজানুর রহমান নামের একটি আইডি থেকে আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে প্রতারণাপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বলা হয়।

মিজানুর লেখেন, ‘মুরালিকে চাকিং এর অভিযোগে যখন অস্ট্রেলীয় আম্পায়ার অন্যায়ভাবে বার বার নো দিচ্ছিল- তখন প্রতিবাদস্বরূপ রানাতুঙ্গা তার দল নিয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ভাবা যায়, সেদিন যদি রানাতুঙ্গা বীরত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নিতেন তাহলে কি মুরালি সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বোলার হতে পারত?? আজ সময় এসেছে বিসিবি আর মাশরাফিরও ঐ ধরনের বীরত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক কিছু করার।’

এর আগে গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষে যায় এমন কয়েকটি সিদ্ধান্তে বাজে আম্পায়ারিংয়ের সমালোচনা হয় ক্রিকেট বিশ্বজুড়েই। ম্যাচটিকে প্রভাবিত করার অভিযোগে ওঠে আইসিসির সেসময়ে চেয়ারম্যান ভারতীয় এন শ্রীনিবাসনের বিরুদ্ধে।
ওই সময় ফেসবুক সমালোচনায় আইসিসিকে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল বলে মন্তব্য করতেও দেখা গেছে।

তাসকিন-সানিকে নিষিদ্ধ করায় ‘ক্রিকেট রাজনীতিতে’ ভারতকে দুষছেন বেশিরভাগ ক্রিকেট প্রেমী বাংলাদেশি।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ফাইয়াজ রহমান তার ফেইসবুকে পেজে মন্তব্য করেন, ‘বিসিবির সেই ক্ষমতা নাই যে ইন্ডিয়া ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বিরুদ্ধে কিছু বলার। দুই সপ্তাহ পর যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা তা এত তড়িঘড়ি করে কেন দিল? বিসিবির কোন দিনই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়ার ক্ষমতা নাই। কিংবা আপিলও করবে না । যদি দাদারা কিছু মনে করেন!’

আরিফ চৌধুরী নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দুই বোলারকে নিষিদ্ধের পেছনে সরাসরি ভারতকে দায়ী করে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সব ম্যাচে ভারতের পরাজয় কামনা করেন।

এছাড়া টুইটার ব্যবহারকারীরা আইসিসির প্রতি ধিক্কার জানিয়ে #ShameonICC হ্যাসট্যাগ ব্যবহার করছেন।

মতামত