টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কাউন্সিল উদ্বোধন করলেন খালেদা জিয়া

চট্টগ্রাম, ১৯ মার্চ (সিটিজি টাইমস) :: ‘দুর্নীতি দুঃশাসন হবেই শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে ‘বিএনপির বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘পরিবর্তনের কাউন্সিলে’র উদ্বোধন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে তিনি দলের ষষ্ঠ কাউন্সিল উদ্বোধন করেন। এর আধাঘণ্টা আগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের গেটে পৌঁছালেও নেতা-কর্মীদের ভিড়ের কারণে মঞ্চে উঠতে দেরি হয়। কাউন্সিলে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন দলীয় প্রধান। এর আগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।

কাউন্সিলের উদ্বোধনের সময়ে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠ শিল্পী বেবী নাজমিন, রিজিয়া পারভীনসহ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংষ্কৃতিক সংস্থার নেতা-কর্মীরা জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা-কর্মী জাতীয় সংগীতে কন্ঠ মেলান।

এরই মধ্যে আমন্ত্রিত অতিথি দলের শীর্ষ নেতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কাউন্সিলে অংশ নিয়েছেন। যদিও ভোর থেকে কাউন্সিলস্থল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউশনের দিকে আসতে শুরু করেন দলের কাউন্সিলর, ডেলিগেট এবং নেতা-কর্মীরা। নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। নেতা-কর্মীদের মাঝে দেখা গেছে অন্যরকম এক উন্মাদনা। কাউন্সিলকে সামনে রেখে ঝিমিয়ে পড়া বিএনপিতে যেন প্রাণের ছোঁয়া লেগেছে।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও ড. আবদুল মঈন খান উপস্থিত হয়েছেন।

এ ছাড়া বিএনপি নেতাদের মধ্যে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ড. ওসমান ফারুক, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট তৈয়মুর আলম খন্দকার প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।

বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান প্রমুখ উপস্থিত আছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের আমন্ত্রিত বিদেশে অতিথি উপস্থিত হয়েছেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কুটনীতিকরা উপস্থিত রয়েছেন।

সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর পঞ্চম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে খালেদা জিয়া চেয়ারপরসন এবং খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন হন বিএনপির মহাসচিব।

তিন বছর মেয়াদি কমিটির সময় আড়াই বছর আগেই শেষ হয়েছে। এর আগে দুই দফা কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নিলেও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

১৯৭৮ সালে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কাউন্সিল হয়। দ্বিতীয় কাউন্সিল হয় ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আর এর আট বছর পর ১৯৮৯ সালের ৮ ও ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় দলটির তৃতীয় কাউন্সিল। ১৯৯৩ সালের ১, ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি চতুর্থ কাউন্সিল করে। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর হয় পঞ্চম কাউন্সিল।

মতামত