টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় মূল হোতা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

চট্টগ্রাম, ১৯ মার্চ (সিটিজি টাইমস) ::  মিরসরাইয়ের আলোচিত বারইয়ারহাটে ফিল্ম স্টাইলে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ২০ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো ঘটনার মূল হোতা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মাগরিবের নামাজের সময় বাজারের মসজিদ গলিতে অবস্থিত শামীম জুয়েলার্সে ৩শ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতদল। কয়েক মিনিটের ডাকাতির দৃশ্য সিসি ক্যামরায় ধরা পড়ার পর তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওইদিন ডাকাতদের ছোঁড়া ককটেলের আঘাতে কয়েকজন ব্যবসায়ী সহ অন্তত ১০ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছিল। এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত মূল হোতা দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বর্নের দোকান ডাকাতি ঘটনার নায়ক দুর্র্ধষ এয়াকুব আলী ডাকাতকে শনাক্ত করা হলেও পুলিশ বা সিআইডি কারো নাগালে আসেনি এখনো এই অপরাধী।

ঘটনার পর পুলিশের সার্কেল এএসপি সালাউদ্দিন সিকদার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জোরারগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ার উল্লাহ উপস্থিত সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ যেহেতু পাওয়া গেছে খুব তাড়াতাড়ি জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন সিআইডি চট্টগ্রামের ক্রাইম সেল, র‌্যাব ৭ ও পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার উল্লাহ বলেন, আমরা অনেকদুর অগ্রসর হয়েছি। তিনি জানান এই ডাকাত চক্র শুধু বারইয়াহাটে নয় দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। নওগা থেকে আটককৃত জামাল ডাকাত পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তাদের সাথে বিভিন্ন জেলার ৭-৮ জন আছে। তার মধ্যে চট্টগ্রামের রয়েছে কয়েকজন। অনেকেই ধারণা করছে এই বারইয়াহাট এলাকারও কেউ থাকতে পারে। তবে এখানকার কাউকে আমরা এখনো শনাক্ত করতে পারিনি।

শামীম জুয়েলার্সের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বাপ্পী বলেন, পুলিশ আমাদের আশা দিয়েছে ডাকাতি হওয়া স্বর্ণ গুলো শীঘ্রই ফিরে পাবো। কিন্ত ঘটনার অনেকদিন পার হলেও পুলিশ ঘটনার মূল হোতাসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ডাকাতি হওয়ার পর আমার বাবা মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। আমি বাবাকে কখনো এতটা ভেঙ্গে পড়তে দেখিনি। দোকানের জন্য নেয়া ৫০ লক্ষ টাকার ধার দেনা শোধ কি করে করবেন সে চিন্তায় দিশেহারা।

জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পেয়ার বলেন, বারইয়াহাটে স্বর্ণের দোকানে বেশ কয়েকবার ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। তিনি বাজারের মসজিদ গলিতে পুলিশ টহলের দাবী জানান।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে পুলিশ প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ঘটনায় কারা কারা ছিল, প্রত্যেকের মোবাইল নং ও নাম ঠিকানা ও পাওয়া গেছে। নওগাঁ থেকে আটক করে ডাকাতদলের অন্যতম সদস্য জামাল উদ্দিন ( ৩৫) কে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মতামত