টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘বঙ্গবন্ধুর এদেশে জন্ম নেয়া আল্লাহর রহমত’

চট্টগ্রাম, ১৮ মার্চ (সিটিজি টাইমস) :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম এদেশের জন্য আল্লাহর রহমত। তাঁর মাধ্যমেই এদেশের মানুষ একটি স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছে। তিনি আজীবন মানুষের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে গেছেন।

আজ শুক্রবার বিকালে বঙ্গবন্ধুর ৯৬তম জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনা বলেন, এদেশে শোষিত মানুষকে বাঁচাতে বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের হাসি-আনন্দ ত্যাগ করেছেন। তিনি এসবের বিনিময়ে জাতিকে একত্র করেছিলেন। তিনি সবসময় দেশের মঙ্গল চাইতেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি ক্ষমতায় থাকুক সেটা পাকিস্তান কখনো চায়নি। চেয়েছিল কিছু পদলেহি, যারা তাদের চাটুকারিতা করবে।

তিনি বলেন, ছয় দফার আন্দোলন ছিল স্বাধীনতার মূল মন্ত্র। এটি ছিল স্পষ্টত। তাই পাকিস্তানিরা চেয়েছিল যেভাবেই হোক তাঁকে আটকাতে। এজন্য বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্রে ফাঁসানো হয়েছিল। কিন্তু এদেশের মানুষ এরপরও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল। তাদের কোনো যোগ্যতা ছিল না। তাদের একমাত্র যোগ্যতা ছিল তারা এদেশের জাতির পিতাকে হত্যা করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনে বিরোধী দলীয় নেতা বানিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল ফারুক রশিদকে। জিয়া ও বিএনপি সবসময় বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নানাভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যে তাঁর সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি পেশ করেন। সততার কারণেই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়তে যাচ্ছিলাম, সততা ছিল বলেই তা মোকাবিলা করতে পেরেছি। পদ্মা সেতুর মতো বিশাল প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়ন বাস্তবায়ন করতে পারছি ওই একটা কারণেই। তিনি বলেন, বাঙালি জাতি হিসেবে এটা আমাদের গর্ব ও চ্যালেঞ্জ ছিল। তাই বলে ষড়যন্ত্র থেমে গেছে, তা কিন্তু না।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এই সরকারকে না হটিয়ে ঘরে ফিরবেন না। ৯২ দিন নিজের কার্যালয়ে বসে ৬৮ জন মানুষকে পোড়াল। এভাবে মানুষ পোড়ালে আল্লাহও নারাজ হন, এটা তাঁর জানা উচিত ছিল। নাকে খত দিয়ে তাঁকে ঘরে ফিরতে হয়েছিল। কাজেই এদের চরিত্র হচ্ছে অপরাধী-খুনি এদের রক্ষা করা, মদদ দেয়া এবং তাদের নিয়ে চলা। আর নিজেরাও খুন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করা। এরা তো দেশের কল্যাণে কোনো কাজ করতে পারে না। বা বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্বে মর্যাদার নিয়ে চলবে, এটাও বোধ হয় তাদের পছন্দ না। ওই পরাজিত শক্তি, পুরোনো প্রভুদের তারা ভুলতেই পারে না। এটা সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের।

জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রমুখ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত