টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ইডেন হয়ে যাবে শের-ই-বাংলা!

জান-ই-আলম, কলকাতা থেকে

imageচট্টগ্রাম, ১৫ মার্চ (সিটিজি টাইমস) ::  ধর্মশালার হিম-শীতলতা ছেড়ে উষ্ণ পৃথিবীতে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। সোমবার বিকেলেই কলকাতায় চলে আসে টাইগাররা। মাশরাফি-সাকিবদের অনুসারী হয়ে আমরা সাংবাদিকরাও সোমবার রাত, মঙ্গলবার সকালে বিট্রিশ আমলে উপমহাদেশের রাজধানী কলকাতায় এসে পৌঁছাই।

হোটেল খোঁজাখুঁজিতে সময় গেল অনেক। তবে কলকাতার যেখানেই গিয়েছি একটা স্পন্দন পাওয়া গিয়েছিল। বাংলাদেশি শুনেই, সবাই আন্তরিকতা দেখাচ্ছেন। আর দু-একটা কথা পাড়ার পরই প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে যাচ্ছেন ক্রিকেট-এ। টি-২০ বিশ্বকাপ চলছে বলে, এমন আলোচনা খুব স্বাভাবিকই বটে। তবে সেখানে উল্লেখ্য হলো, বেশিরভাগই বুধবার ম্যাচে বাংলাদেশকে সমর্থন করার বিষয়টি দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে জানিয়েছে। মাশরাফির দল নিয়ে সবাই বেশ উচ্ছ্বসিত। ভারতীয়দের পাকিস্তান বিরোধিতা এ প্রয়াসের একটা অংশ বটে। আবার এখানে অনেক বাংলাদেশিও আছেন। পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশের এমন অনেকে আছেন। এদের সবাইকেই বুধবার টাইগারদের জন্য গলা ফাটাতে দেখা যাবে, এটা অনুমানযোগ্য।

পাকিস্তানের হার কামনা করছেন ট্যাক্সি ড্রাইভার থেকে শুরু করে চা দোকানি, হোটেল মালিকসহ সবাই। তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান, মুস্তাফিজদের ঝলক দেখার অপেক্ষায় কলকাতাবাসী। ইডেন গার্ডেন্সের গ্যালারি পুরোটা কাল ভরবে না, এটা বলা যায়। যারা মাঠে আসবেন তাদের মাঝে বাংলাদেশ থেকে আসা অনেক মানুষ থাকবে হয়তো সিংহভাগ। স্থানীয়রাও যারা গ্যালারিতে সমবেত হবেন, তাদের সমর্থনটাও পাবে মাশরাফির দল। মানে বুধবার ইডেন, শের-ই-বাংলার রুপে ধরা দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বিমানে ৪০ মিনিট, সড়ক পথে ৩২৭ কিমি. দূরেই মাশরাফিদের ঘর। কাল ইডেনে ঘরের আবহ পেয়ে যেতে পারেন টাইগাররা।

পাকিস্তানকে আপাদমস্তক বৈরী পরিবেশেই খেলতে হবে। শের-ই-বাংলায় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেললে যেমন অভিজ্ঞতা হয় তার কম কিছু এখানে হবে না। ক্রিকেট মাঠের লড়াইয়ে গত কিছুদিন বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের স্মৃতিই তরতাজা আফ্রিদির দলের সামনে। বুধবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে এসেও দর্শক, পরিবেশ অনুকূলে পাবেন না আফ্রিদি-ওয়াহাব রিয়াজরা।

ইডেনের বিশালত্ব কম- বেশি সবার জানা। ১৮৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত স্টেডিয়ামটিতে এখন আর অবশ্য প্রৌঢ়ত্বের চিহ্ন নেই। বরং তারুণ্য রমরমা। এখনও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়াম এটি। একটা সময় লাখ খানেক লোক একসঙ্গে খেলা দেখতে পারতো ইডেনে। ২০১১ বিশ্বকাপের আগে সংস্কার হয়ে এখন ইডেনের ধারণ ক্ষমতা ৬৬ হাজারে এসে ঠেকেছে। ১৯৩৪ সালে প্রথম টেস্ট, ১৯৮৭ সালে প্রথম ওয়ানডে, ২০১১ সালে প্রথম টি-২০ ম্যাচ হয়েছিল এখানে। ১৯৮৭, ১৯৯৬ ও ২০১১ তিনটি বিশ্বকাপ হয়েছিল ইডেনে। ১৯৭৮, ১৯৯৭ সালে মহিলা বিশ্বকাপও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বিরাটকায়, অনেক আগের স্টেডিয়াম হলেও ইডেনকে ঠিকই সাজতে হয় প্রতিটি টুর্নামেন্টের আগে। মঙ্গলবার বিকেলে যেমন বাংলাদেশ, পাকিস্তান দলের অনুশীলন শেষে অনেক কাজ হলো এখানে। দলগুলোর জাতীয় সঙ্গীতের মহড়া হলো। সাউন্ড সিস্টেম, উইকেট ঠিক করা, মাঠের ঘাস কাটা, গ্যালারি ধোয়া-মোছা, মাঠ পরিচর্যা-প্রস্তুত করার সব কাজই করা হলো। প্রেসবক্সেও হয়েছে নানা সংস্কার কর্ম। সন্ধ্যার পর ত্রিপলে ঢেকে দেওয়া হয় গোটা মাঠ।

রাতের আলোয় ইডেনের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ কম। অবশ্য বুধবার দুপুরের পরই লাল-সবুজে ছেয়ে যাবে ইডেনের গ্যালারি। বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে কলকাতা শহরের আবহ তো তেমন কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত