টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নিজামীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

চট্টগ্রাম, ১৫ মার্চ (সিটিজি টাইমস) :: মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এর আগে, রায়ে স্বাক্ষর করেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ আপিল মামলার রায় প্রদানকারী চার বিচারপতি। অন্য বিচারপতিরা হচ্ছেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত বছরের ০৬ জানুয়ারি মতিউর রহমান নিজামীকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় আপিল বিভাগ বহাল রাখেন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগের মধ্যে আপিল বিভাগ ২, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে। ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে দেয়া যাবজ্জীবনও বহাল রাখা হয়েছে।

তবে ১ ও ৩ নম্বর অভিযোগে নিজামীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া যাবজ্জীবনের পরিবর্তে আপিল বিভাগ খালাসের রায় দিয়েছে। আর ৪ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

মাওলানা নিজামীর আপিলের রায় হলো জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পঞ্চম রায়। অপর চারটি রায় হয়েছে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, দুই সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে।

এদের মধ্যে রায় বহাল থাকায় মুজাহিদ, কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছে।

আপিলে নিজামীর আবেদনের পক্ষে তার প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, আর রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহাবুবে আলম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৩ নভেম্বর সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেন নিজামী। ৬,২৫২ পৃষ্ঠার আপিলে ফাঁসির আদেশ বাতিল করে খালাস চান তিনি। মোট ১৬৮টি কারণ দেখিয়ে এ আপিল করা হয়।

২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মামলায় মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট এক আবেদনে ট্রাইব্যুনালের আদেশে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তখন থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত