টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আইসিসি নিয়ে ‘ছি-ছি’: উত্তরের খোঁজে অনেক প্রশ্ন

অমৃত মলঙ্গী

spচট্টগ্রাম, ১২ মার্চ (সিটিজি টাইমস) ::  ‘মনে করি সংখ্যাটি ক’- এমন গাণিতিক হিসাবের মতো মনে করুন, ধর্মশালায় বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে বৃষ্টি হয়েছিল (সম্ভাবনা ছিল)। যদি হতো, তাহলে বাংলাদেশের এখন পয়েন্ট হতো দুই। আর সোমবার যদি হয়, তাহলে পয়েন্ট হবে তিন। রিজার্ভ ডে না থাকায় তিন ম্যাচের পয়েন্ট ভাগ করে এমন হিসাব দাঁড়ায়। তাহলে কী হতো? কী আর হতো টেস্ট খেলুড়ে একটা দেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠতে পারত না। আর কী কিছু হতো? ওই হতো আর কী। ওয়ান ডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা এক দেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারত না। পুঁচকে ওমানের কপাল খুলে যেত!

হয়তো ভাবছেন এমন আজব আলোচনা কেন হচ্ছে। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের মতো ‘গুরুত্বপূর্ণ’ আয়োজন কেন ধর্মশালার মতো বৃষ্টি-প্রবণ এলাকায় করতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এই আলোচনা। যদি বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস ম্যাচে বৃষ্টি হয়েই যেতে তাহলে তো বাংলাদেশের বারোটা বেজে যেত। মূল পর্বেই খেলা হতো না। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে কেন ম্যাচ আয়োজন করতে হবে?

প্রশ্নটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর জন্যও এটা একটা উপহাস। যারা সারা বছর তাকিয়ে থাকে কবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ আসবে। বিশ্বকাপ তাদের কাছে ‘সোনায় সোহাগা’। ইতিহাসে আঁচড় দেয়ার ক্ষণ। গতকাল বৃষ্টির সময় নেদারল্যান্ডসের এক খেলোয়াড় টুইটে বৃষ্টির কাছে আকুতি জানান, ‘ম্যাচটা যেন না ভেসে যায়। এটা আমাদের বছরের দশ শতাংশ।’

‘বছরের দশ শতাংশ’ মানে একটি ম্যাচ বাতিল হলে আর হাতে গোনা কয়েকটি খেলা থাকে তাদের জন্য। বৃষ্টি আকুতি শোনেনি। শোনার কথাও নয়। ঠিকই আয়ারল্যান্ড-নেদারল্যান্ডসের বারোটা বাজিয়ে দিয়ে গেছে। আর গুলিটা গেছে বাংলাদেশের কানের কাছ দিয়ে!

ভারতে আন্তর্জাতিক ভেন্যু ২৯টির বেশি। এতগুলো ভেন্যু থাকতে বাছাই পর্বের খেলা কেন ধর্মশালায়? বছরের এই সময়টায় ওখানে আবার বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে দ্বিগুণ। কেউ কেউ বলছেন, ধর্মশালাকে বিশ্ববাসীর কাছে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে এমন আয়োজন। যদি তাই হয়, তবে মূল পর্বের গোটা দশেক ম্যাচ সেখানে রাখলেই হতো। তা না করে কেন মাত্র দুটি?

এবার আসা যাক তাসকিন-সানির প্রসঙ্গে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলার সময় তাদের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ হয় দুই আম্পায়ারের। একজন ছিলেন রড টাকার। তিনি আম্পায়ারিং করেছিলেন গত বছর বাংলাদেশ-ভারত ওয়ানডে সিরিজেও। নেদারল্যান্ড ম্যাচের ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটও ছিলেন ওই ভারত সিরিজে। সেই সিরিজে তাসকিন-সানি খেললেও প্রশ্ন ওঠেনি তখন। তাহলে এখন কেন?

মাশরাফিও নাকি ম্যাচ রেফারির কাছে প্রশ্নটি করেছিলেন। কিন্তু সদুত্তর পাননি। তাকে শুধু বলা হয়েছে, তাদের আগে মনে হয়নি, এখন হচ্ছে। মাশরাফি আইসিসির ম্যাচ রেফারির কাছে প্রশ্ন করে তেমন কিছু না জানতে পারলেও নেদারল্যান্ডসের অধিনায়কের কাছ থেকে ক্রিকেটবিশ্ব কিছু একটা উত্তর পেতে পারে। ওমানের বিপক্ষে ভেস্তে যাওয়া ম্যাচের পর পিটার বোরেন উঁচু গলায় বলে যান, ‘আইসিসিতে শুধু টাকার খেলা চলে’। বোরেন আইসিসি বলতে কাদের বুঝিয়েছেন সেটা স্পষ্ট নয়। তবে এটা সবাই জানে আইসিসির বর্তমান সংবিধানে ‘তিন মোড়লে’র সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়।

ধর্মশালার বৃষ্টি ভেদ করে ‘তিন মোড়লে’র কানে নেদারল্যান্ডস কাপ্তানের মন্তব্য কি পৌঁছিয়েছে? নাকি তারা ধর্মশালার বৃষ্টির প্রেমে মজে সুর তুলছেন-রিমঝিম এ ধারাতে চায় মন হারাতে!

মতামত