টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ থেকে বাংলাদেশের উত্থান: চট্টগ্রামে বাণিজ্যমন্ত্রী

CTG_CCCচট্টগ্রাম, ১১ মার্চ (সিটিজি টাইমস) ::  তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ থেকে বেরিয়ে এসে দেশে এখন বিস্ময়কর উত্থান হয়েছে উল্লেখ্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, এক সময় বাংলাদেশকে বিশ্বে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে জানত। কিন্তু বর্তমানে খাদ্যের অভাব নেই, নেই কোনো আবাসন সমস্যাও। শেখ হানিার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সারাদেশে উন্নয়ন চলছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সব কিছু ঠিকটাক থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে পোশাক খাত থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে মসব্যাপী শুরু হওয়া চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (সিআইটিএফ-২০১৬) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। পরে ফিতা কেটে বেলুন উঠিয়ে ২৪ তম এ মেলার উদ্বোধন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

তোফায়েল বলেন, বিএনপি সারা বছর বোমাবাজি করেছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারপরও তারা সফল হতে পারেনি। তাদের আন্দোলন বিফলে গেছে। তারা জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও উপজেলা নির্বাচন পৌরসভা নির্বাচন এমনকি এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে এ থেকে বুঝা যায় তারা এখন ভঙ্গুর অবস্থায়।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, যারা একদিন বাংলাদেশকে তুচ্ছ করে বলেছিল তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিল আজকে তারাই বলে বিস্ময়কর উত্থান বাংলাদেশের। আমরা আন্তর্জাতিক বিশ্বে বিভিন্ন জায়গায় যাই, যেখানেই যাই সেখানেই বলে, দ্য রাইজ অব বাংলাদেশ ইজ নাথিং বাট মিরাকল।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে সাড়ে সাতকোটি লোক ছিল তবুও খাদ্যের অভাব ছিল। এখন ১৬ কোটি লোক, অথচ খাদ্য আমরা রপ্তানি করি। আমাদের রিজার্ভ ২৮ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। বাহাত্তরে আমাদের তেমন কোনো রিজার্ভ ছিল এখন আমাদের রিজার্ভ আছে ১৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সবকিছু আজ আমাদের পক্ষে। আমাদের জিডিপি বৃদ্ধির হার এবার সাত শতাংশ হবে। সব জায়গায় আমারা এগিয়েঅ এজন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে গবেষণা করে বলেছে আগামী দিনে যে ১১ টা দেশ অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম হবে তার মধ্যে অন্যতম হবে বাংলাদেশ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন,‘ চট্টগ্রামের মতন একটি শহর বিশ্বে পাওয়া কঠিন। এ চট্টগ্রামে কি নেই? নদী ,পাহাড় ,বন্দর সব কিছুই আছে। কিন্তু আমাদেরকে এগুলোর যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। চট্টগ্রামে ২০১৮ সালের মধ্যে চিরস্থায়ী একটি এক্সিভিশন করার পরিকল্পনা আছে। এছাড়াও চট্টগ্রামকে ‘ক্লিন এবং গ্রীন’ সিটি হিসেবে তৈরি করা হবে। এ ক্ষেত্রে চসিক মেয়রকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করা হবে।’

মেলার আয়োজক কারী প্রতিষ্ঠান চিটাগাং চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সংসদ সদস্য এমএ লতিফ। এছাড়া বক্তব্য দেন মেলা কমিটির চেয়ারম্যান নুরুন নেওয়াজ সেলিম, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ জামাল আহমেদ।

এবারও মেলায় ৬ হাজার ৭শ ৫০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে থাকছে থাইল্যান্ড। এছাড়া ৪ লাখ বর্গফুটের মেলায় ১২টি গোল্ড প্রিমিয়ার, ৩টি মেগা প্যাভিলিয়ন, ৮টি প্রিমিয়ার প্যাভেলিয়ন, ২০টি স্টার প্যাভেলিয়ন, ১৬৬টি মেগা প্রিমিয়ার বুথ, ২২টি মেগা বুথ, ১০টি প্রিমিয়ার গোল্ড বুথ, ১৬টি প্রিমিয়ার, ১০টি স্ট্যার্ন্ডাট বুথ, ৩টি রেষ্টুরেন্টসহ ৪৫০টিরও বেশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ গ্রহণ করছে।

এবারের মেলায় ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, ওমান, কাতারসহ বিভিন্ন দেশ তাদের পণ্য রপ্তানী বিক্রয় প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে মেলায় প্রদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে ১০ টাকা।

মতামত