টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বান্দরবানে সেনা বিজিবির যৌথ অভিযান 

বান্দরবান প্রতিনিধি

image_150499_0চট্টগ্রাম, ০৯ মার্চ (সিটিজি টাইমস) :: সেনা বিজিবির আবারো যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে বান্দরবান মায়ানমার সীমান্তে। পাশ্ববর্তী মায়ানমারের গোলযোগপূর্ণ আরাকান রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা ঠেকাতে আলীকদম সীমান্ত জুড়ে শুরু হয়েছে এই অভিযান।

আলীকদমের পুয়ামুহুরী সীমান্তের ৬২ নং পিলার থেকে শুরু করে ৬৮ নং পিলার পর্যন্ত এলাকায় চলছে এই অভিযান।

বুধবার বান্দরবানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্পগুলো থেকে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যদের সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে যাতে মায়ানমারের কোন বিচ্ছিন্নতাবাদী এদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষে সীমান্তে চিরুনী অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মায়ানমার সরকারও সীমান্তে অভিযানের বিষয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনীর সহায়তা চেয়েছে। বিজিবির বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল হাবিবুর রহমান অভিযানের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন সীমান্তে সব ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

সীমান্তের বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে গত কয়েকদিন থেকেই বান্দরবানের আলীকদম সীমান্তের ওপারে মায়ানমারের আরাকান রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ আরাকান আর্মির সঙ্গে সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলযোগ শুরু হয়েছে। কয়েক দফা সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের বেশ কিছু সদস্য হতাহত হয়েছে। বাংলাদেশের ভূ’খন্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা হামলা চালাচ্ছে বলে মায়ানমার সরকার অভিযোগ দিয়েছে। সীমান্তে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা ঠেকাতে সম্প্রতি মায়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনী বাংলাদেশের সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার থেকে বান্দরবানের আলীকদম সীমান্ত জুড়ে শুরু হয়েছে সেনাবাহিনী ও বিজিবির কম্বিং অপারেশন।

গত ৪ মার্চ মায়ানমারের বুচিডং শহরতলির কাছে আরাকান অর্মির হামলায় মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০ জন সদস্য হতাহত হয় বলে সীমান্তের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সন্ত্রাসীরা যাতে বাংলাদেশের ভূ’খন্ড ব্যবহার করতে না পারে সে জন্য মায়ানমার সরকার বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা চেয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে সেনাবাহিনীর হেলিকাপ্টারে করে সীমান্তে বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তরা জানিয়েছেন সীমান্ত অনেকটাই সিল করে দেয়া হয়েছে। যাতে কোন সন্ত্রাসীই এদেশে প্রবেশ করতে না পারে।

উল্লেখ্য গত বছরের ২৬ আগষ্ট বান্দরবানের থানছি উপজেলার বড় মদক এলাকায় নাছালং পাড়ায় আরাকান আর্মির সদস্যরা বিজিবির উপর গুলিবর্ষণ করলে এতে ২ বিজিবি সদস্য আহত হয়। অন্যদিকে রাঙ্গামাটির বড় থলি এলাকার সেপ্রু পাড়ায় আরাকান লিবারেশন আর্মির (এএলপি) সদস্যদের হামলায় ১ আনসার ভিডিপি সদস্য নিহত হয়। সন্ত্রাসীরা ঢাকার দুই পর্যটককে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এখনো তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

মতামত