টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কক্সবাজারে বিধ্বস্ত বিমানের আরো দুই ক্রুর লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রাম, ০৯ মার্চ (সিটিজি টাইমস) :: কক্সবাজারের সমুদ্র উপকুলে বিধ্বস্ত কার্গো বিমান থেকে নিখোঁজ দুই ক্রুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সাথে বিমানটিও উদ্ধার করে উপকুলে আনা হচ্ছে।

বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে বিমান এবং নিখোঁজ দুই ক্রুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ নিয়ে কার্গোবিমানটির আরোহী তিনজনেরই মৃত্যু হলো। আর বিমানটির পাইলট গাটারভ ওরাদ মুমূর্ষু অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার মাথায় আঘাত রয়েছে ও ডান পায়ের নিচের অংশ ভেঙ্গে গেছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাইলট ও তিন আরোহীসহ ট্রু এভিয়েশন নামের বিমানটি কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই সমুদ্রের (বঙ্গোপসাগরের ) নাজিরারটেক পয়েন্টে বিধ্বস্ত হয়।

বিমান বিধ্বস্তের এই খবর নিশ্চিত করেন কক্সবাজার বিমানবন্দরের ম্যানেজার সাধন কুমার মোহন্ত।

কক্সবাজার শহরের খুব কাছেই পৌর এলাকার এক নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরটেক পয়েন্টে থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে কার্গো বিমানটি ডুবে যায়। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় দুই জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথেই কার্গোটির ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার কুলিশ নোলরীর মৃত্যু হয়।

এই দুর্ঘটনায় নিহত, আহত চারজনই ইউক্রেনের বাসিন্দা।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন জানান, ট্রু এভিয়েশনের আন্তনভ ২৬ মডেলের ওই উড়োজাহাজ কক্সবাজার ও যশোরের মধ্যে চিংড়ি পোনা পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়।

সৈকত থেকে আধা কিলোমিটার দূরে সাগরে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই স্থানীয় জেলে ও কোস্ট গার্ডের নৌযান উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও তল্লাসিতে যোগ দেন।

সর্বশেষ বিকেল পৌনে চারটার দিকে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিধ্বস্ত বিমান এবং নিহ দুই ক্রুর লাশ উদ্ধারে সম্ভব হয়।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন অফিসার আবদুল মজিদ জানান, সকাল ১০টার দিকে জেলেদের সহায়তায় দুইজনকে উদ্ধার করে তারা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।

কার্গো সার্ভিসটি পরিচালনা করেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক। ট্রু এভিয়েশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকে কার্গো সার্ভিস পরিচালনা করে আসছে তারা।

জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই কুলিশ নোলরীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যজনকে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার পায়ের অপারেশন করবেন।

প্রত্যক্ষদর্শী নাজিরারটেক এলাকার বাসিন্দা দোকানদার মাহবুব ও শুটকি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জামশেদ জানান, উপকূল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে কার্গো বিমানটি আঁকাবাঁকা দুলতে দুলতে আচড়ে পড়ে।

দোকানদার মাহবুব জানান, বিমানটি সাগরে পড়ার পর অনেকদূর এগিয়ে যায়। পরে আস্তে আস্তে ডুবতে থাকে। ওই সময় উপকূল থেকে জেলে ও স্থানীয় অধিবাসিীরা অন্তত ২০টি মাছধরার ট্রলার ও নৌকা নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান।

মাহবুব ও জামশেদ দাবি করেন, প্রায় একঘণ্টারও বেশি সময় ধরে স্থানীয়রাই দুর্ঘটনা কবলিত বিমানের ক্রুদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান। ওই সময় পর্যন্ত সরকারি কোন সংস্থা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, তারা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে আরো একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়।

অন্যদিকে উদ্ধার কাজে জড়িত মাহবুব ও জামশেদ জানান, তারা একজন আহতাবস্থায় উদ্ধার করে ঠেলাগাড়ি নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসছিলেন। ওই সময় ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্টে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাদের দেখতে পেয়ে তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

তারা দাবি করেন, যথাসময়ে গাড়ি না পাওয়ায় ও ঠেলাগাড়িতে বহন করে আনার কারণেই একজনের মৃত্যু হয়েছে। আগেই ঘটনাস্থল থেকে আহতদের আনা গেলে মৃত্যু এড়ানো যেতো বলেও মনে করেন তারা।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, নিখোঁজ দুইজন ক্রুকে উদ্ধারে বিমান বাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে কাজ করেছে।

তিনি জানান, নিহত ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারের মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় মরদেহ নিহতের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মতামত