টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মীর কাসেম আলীর রায় বহালঃ চট্টগ্রামে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ

cচট্টগ্রাম, ০৮  মার্চ (সিটিজি টাইমস) ::   মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদন্ডের রায় বহাল রাখায় চট্টগ্রাম কলংকমুক্ত হয়েছে বলে মনে করেন চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা। সেই সাথে রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিও জানান তারা।

মঙ্গলবার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে দশটায় মীর কাসেম আলীর রায়  বহাল রাখায় আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রাম। এ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়েছে।

সমাবেশে বক্তারা জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় ইসলামী ছাত্রসংঘের চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মীর কাসেম আলী আলবদর বাহিনীর চট্টগ্রামের কমান্ডার ছিলেন। সে তার দোসরদেরে নিয়ে ডালিম হোটেলের টর্চাল সেলে পৈশাচিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে মীর কাসেম আলী আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাব উদ্দিন সিটিজি নিউজ-কে জানান, ডালিম হোটেল ভবনের মালিক ছিল এক হিন্দু জমিদার। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ বাড়িটি দখল করে পাকিস্তানিরা। তখন মীর কাশেম আলীকে আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার বানানো হয়। তখন ডালিম ভবনটি দখল করে মীর কাশেম আলী নিজের কার্যলিয় করে। ডালিম ভবন থেকে নীল নকশা দিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলায় মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা যারা অংশ গ্রহন করে তাদেরকে ধরে এনে বিচারের নামে বিভিন্ন টর্চার করা হতো।

‘ডালিম হোটেল ভবনের এক একটা কক্ষে এক এক নির্যাতন সেল। একটি কক্ষে ইলেকট্রিক সর্ট দেয়া হতো। একটাতে মানুষকে কেটে লবন দিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখা রাখা হতো। কাউকে গরম পানিতে ডুবানো হত। ডালিম হোটেলের কক্ষ গুলো এভাবে ব্যাবহার করা হতো। শুধু মুক্তিযোদ্ধাই নন, ডালিম ভবনে মীর কাশের আলী অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে হত্যা করা হয়েছে। অনেককে মেরে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীনতার পর আমরা ডালিম ভবন থেকে অসংখ্য মানুষের কঙ্কাল বের করে এনেছি বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, আজ কুখ্যাত রাজাকারের মৃত্যুদন্ডের রায় বহাল রাখা ও তা কার্যকর করে ফাসিঁতে ঝোলানোর দাবি জানাচ্ছি। মীর কাশেম আলীর যুদ্ধাপরাধীর বিচারের মাধ্যমে মাননীয় বিচার ট্রাইব্যুনাল এবং বাংলার ১৬ কোটি মানুষ প্রমাণ করেছে মীর কাশেম আলী একজন যুদ্ধাপরাধী। সর্বোচ্চ আদালত বিচারের রায় তার মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল রেখেছে। আমাদের প্রানের দাবি তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের মাধ্যমে ফাসিঁর রশ্মিতে ঝুলিয়ে বাংলাকে রাজাকার মুক্ত করা।

সমাবেশে অন্যান্যদরে মধ্যে গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক শরীফ চৌহান, ইঞ্জিনিয়ার দোলোয়ার মজুমদার, নুরজাহান খান, সুণীর ধর, শিমুল বৈশ্ব ও জেলার বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত