টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ডে শিব চতুদর্শী মেলা শুরু: আসছে ভারত-নেপালসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক

মোঃ ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

004চট্টগ্রাম, ০৭  মার্চ (সিটিজি টাইমস) :: সীতাকুণ্ডে আজ সোমবার থেকে শুরু হলো শিব চতুদর্শী মেলা। প্রতি বছরের ন্যয় এই বছরও লাখো সনাতনী ভক্তের পদচারনায় মুখরিত চন্দ্রনাথ ধাম। রবিবার থেকে শিব চতুদর্শী মেলা শুরু হলেও তিথি শুরু হবে আজ ১২ টা ২ মিনিট ৩২ সেকেন্ড ও শেষ হবে ৮ মার্চ ১০ টা ২৪ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড। আজ থেকে শুরু হওয়া এ মেলা আগামী ২৪ মার্চ দোল পূনিমা মেলার মধ্যে দিয়ে শেষ হবে।

শিব চতুদর্শী মেলা হিসাবে পরিচিত হলেও ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে এটি সংযম, শিষ্টাচার ও দেবাদীদেব শিবের সান্নিধ্য লাভের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান। তীর্থ ভ্রমনের উদ্দেশ্যে দেশ বিদেশ থেকে আসা লাখো লাখ মানুষের সমাগম ও তাদের পদচারণায় মুখোরিত এই অনুষ্ঠানটি কালক্রমে মেলায় রূপান্তির হয়। পরিণত হয় জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকলের সর্বজনীন উৎসবে এমনটি জানালেন মেলায় আসা সনাতনী ভক্ত দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য।

জানা গেছে, বিগত কয়েকবছর রাজনীতির নামে নৈরাজের কারণে পূনার্থীর সমাগম কম হলেও এ বছর রাজনৈতিক কোন হানাহানি না থাকায় পূনার্থী সমাগম দ্বিগুন হবে। এ মেলা বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত,নেপাল,ভ’টান ও শ্রীলংকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ পূনার্থীর সমাগম ঘটবে।

ইতিমধ্যে শিব চতুদর্শী মেলাকে ঘিরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসতে শুরু করেছে সনাতনী ভক্তরা। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত,নেপালসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক আসতে শুরু করেছে এ শিব চতুদর্শী মেলায়। এতে মেলার প্রথম দিনে দেশ-বিদেশের লাখো সনাতনী ভক্তের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে সীতাকুন্ড পৌরসদর এলাকা। ইতিমধ্যে মেলা উপলক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রামের আন্তনগরের সকল ট্রেন সীতাকুন্ড স্টেশনে ২ মিনিট যাত্রা বিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সীতাকুন্ড এই শিব চতুর্দশী ধর্মীয় অনুষ্ঠান কবে থেকে শুরু হয় তা সঠিক সময় নিন্বয় করা যায়নি। এলাকার অভিজ্ঞ প্রবীন ব্যক্তিরা ধারণা করেন আনুমানিক ৩’শ বছর আগে থেকে এ মেলা হয়ে আসছে। মন্দিরের পৌরহিতের মতে জানা যায়, শিবরাত্রিতে ব্যাসকুন্ডে স্নান, তর্পন, গয়াকুন্ডে মৃত ব্যক্তিদের শান্তির উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ প্রভৃতি আচার অনুষ্ঠান হয়ে আসছে মুলত তাই শিব চতুর্দশী। দেশের ২য় বৃহত্তম পাহাড় সীতাকুন্ড থেকে ১৩‘শ ফুট উপরে স্বগৌরবে মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে চন্দ্রনাথ মন্দির। সীতাকুণ্ড মেইন সড়ক থেকে পাহাড়ে সুউচ্চ পর্বতমালা পর্যন্ত সর্বত্র এত মন্দির রয়েছে যা ধর্মপ্রাণ সকল মানুষকে বিমোহিত করবেন। সীতাকুন্ডে শনি ঠাকুর মন্দির, সত্য নারায়ন ভবন, প্রেমতলা নবনির্মিত মন্দির, তটতলী কালিমন্দির, শবিবাড়ী, শ্রী লোকনাথ ভ্রম্যচারী সেবা আশ্রম, ব্যাসকুন্ড সৎসঙ্গ শ্মশান কালিবাড়ী, হনুমান মন্দির, ঊণকুঠি শিবের বাড়ী, রামকুন্ড নারায়ন ছত্র, লক্ষণকুন্ড শিতা পাতালপুরি, দধিকুন্ড সীতাকুন্ড জালামুখি কালিবাড়ী, গুরুধনী স্বয়ংভুনাথ মন্দির, অর্ণপূর্ণা মন্দির, কপিলা আশ্রম, মহন্ত মহারাজের আস্তানা, চন্দ্রনাথ মন্দিরসহ অর্ধশতাধিক মন্দির রয়েছে। এইসব মন্দিরে শনিগ্রহ রাম দেবের প্রতিমুর্তি দেশের স্বরশি নারায়নের বিশ্ম মুর্তি, শিবলিঙ্গ, ব্যাসদেব ভৈরব, শ্মশান কালিমায়ের মুর্তি, পঞ্চাননশিব, চন্দ্রনাথের শিব, মা-কালি নিমকাঠের মুর্তিসহ অনেক বিগ্রহের মুর্তি রয়েছে সীতাকুন্ডে।

সীতাকুন্ড মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারাধন চৌধুরী বাবু বলেন,“সীতাকুন্ডে চন্দ্রনাথ,বীরূপাক্ষ মন্দিরসহ অন্যান্য মঠ মন্দির এবং রাস্তা ঘাট সংস্কারের দায়িত্বভার ¯্রাইন কমিটির। মেলাকে ঘিরে কিছু কিছু মন্দির ও রাস্তাঘাট নামমাত্র সংস্থার হলেও যা খুবই নগন্য। তিনি বলেন সীতাকুন্ডে ৩দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত এই শিব চতুর্দশী মেলায় তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে অন্যান্যবারের মত এবারও পৌরসভার উদ্যোগে আলোক সজ্জা, পানিয় জল সরবরাহ, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা করা হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের থাকার সুবিধার জন্য ২টি বড় যাত্রী নিবাস, ২টি ভিআইপি তীর্থযাত্রী নিবাস ও রেলওয়ে যাত্রী নিবাসে তীর্থযাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও সীতাকুন্ড মেলা কমিটি ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ইপসা উদ্যোগে মেলাঙ্গনে ২১টি স্থায়ী পয়ঃনিষ্কাষনসহ ৬০টি শোচাগার এবং ৭টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মেলা উপলক্ষ্যে সীতাকুন্ড স্রাইন কমিটির উদ্যোগে বিশ্ব বৈদিক সম্মেলন মহাতীর্থ পদক, ঋষি মহাসমাবেশসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও শিব চতুর্দশী মেলাকে ঘিরে সীতাকুন্ড শংকরমঠ ও মিশন রামকৃষ্ণ সেবা আশ্রম, শ্রী শ্রী লোকনাথ ভ্রম্যচারী সেবা আশ্রমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন গীতাযঙ্গ নাম সংকীর্তন সহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।”

কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট সুখময় চক্রবর্তী বলেন,“ প্রতিবছর মন্দির ঘিরে আয়োজিত শিব চতুদর্শী মেলা শুরুর পূর্বে মন্দিরের সংস্কার কাজ করানো হয়। এ বছরও আসন্ন মেলাকে সামনে রেখে সংস্কার কাজ হয়েছে। মেলায় তীর্থ যাত্রীদের জন্য যথেষ্ট পরিমান পানি, বিশ্রাম ও নিরাপত্তা রাখা হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও মেলা কমিটির সভাপতি নাজমুল ইসলাম ভূইয়া বলেন,“সনাতনী ধর্মালম্বীদের ঐতিহ্যবাহী এ মেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যে আমরা আইন-শৃঙ্গলা বিষয়ক একাধিক মিটিং করেছি। মেলায় অপ্রতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি,র‌্যাব,ডিবি ও সাদা পোশাকের আইন-শৃঙ্গলা বাহিনীসহ মহিলা পুলিশ,আনসার নিয়োজিত থাকবে।”

মতামত