টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সীতাকুণ্ডে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

মোঃ ইমরান হোসেন
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০৪ মার্চ (সিটিজি টাইমস) : ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিম নিবন্ধণে দেধারছে চলছে অর্থ আদায় ও গ্রাহক হয়রাণি। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিষ্ট্রেশনে গ্রাহক হয়রানী ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার অনেক স্থানে সিম প্রতি নেয়া হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা করে। এছাড়া একটা সিম নিবন্ধনের পর নিবন্ধনের গ্রাহক কপির জন্য একাধিকবার রিটেইলারদের কাছে ঘুরতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, “এখনো বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করা হয়” সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে চলছে প্রতারণা ও হয়রানি। সেখানে গেলে দোকান কৃর্তপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয় ফরম শেষ হয়ে গেছে। এভাবে অনেক দোকানে খোঁজ করে দেখা যায় অনেক দোকানে গ্রামীণ ফোনের ফরম নেই বলছে আবার কিছু কিছু দোকানে বলছে রবি সিমের ফরম নেই। সৈয়দপুর ইউনিয়ন, মুরাদপুর ইউনিয়ন ও বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনে প্রকাশ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে নিচ্ছে সিম প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা করে। অনেক গ্রাহকদেরকে দোকানদার বলাও লাগছেনা কারণ প্রকাশ্যে সবার থেকে যখন টাকা নিচ্ছে অনেক গ্রাহক বলা ছাড়াই সিম প্রতি ২০ টাকা করে দিয়ে দিচ্ছে।

অভিযোগ আছে, গ্রাম-গঞ্জে রবি-গ্রামীণফোন-এয়ারটেল-বাংলালিংক এর নির্দিষ্ট করে দেওয়া টেলিকমের দোকানগুলোতে প্রতি সিম ২০ টাকা করে না দিলে গ্রাহকদের হয়রানি করা হচ্ছে। ফরম নেই এক সপ্তাহ পরে আসবেন, এ ধরনের কথাসহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অনেক হয়রানি থেকে রেহাই পেতে দোকানদার যাই বলছে তা দিয়ে সিম রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে নিচ্ছে।

উপজেলার শুকলাল হাট, বাড়বকুণ্ড, মুরাদপুর, কুমিরা, সৈয়দপুর, মিরেরহাট বাজার, বাঁশবাড়ীয়া, ভাটিয়ারী এলাকায় গ্রাহক হয়রাণি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সিম রেজিষ্ট্রেশন করতে আসা মোঃ জামশেদ উদ্দীন প্রতিবেদককে বলেন, আমার এবং ফ্যামিলিসহ মোট ৫ টা সিম নতুন পদ্ধতিতে নিবন্ধণ করলাম। সিম প্রতি আমাকে ২০ টাকা করে গুনতে হয়েছে। যদিওবা আমরা জানি সিম নিবন্ধন সরকারী ভাবে ফ্রি করার জন্য বলা হয়েছে। তারপরও কি করব আগেও একদিন এসেছিলাম বলেছিল ‘রবি’ ফরম শেষ হয়ে গেছে। সেজন্য আজকে আবার আসতে হলো।

অন্যদিকে সিম রেজিষ্ট্রেশন করতে আসা আবুল মুনসুর জানান, আমাদের ঘরের সবার সিম একসাথে রেজিষ্ট্রেশন করে নিলাম। সিম প্রতি আমি দোকানদারকে ২০ টাকা করে দিয়ে দিয়েছি। ‘বায়েমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন তো ফ্রি আপনার টাকা দিয়ে কেন করছেন? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দোকানদারের কথা বাদ দিন ফ্রি আমার কাজ কি আপনাকে দিলে আপনি যেকোন কাজ করতে চাইবেন? সেটা সবার বেলা। অবশ্যই আমরা এর আগে শুনেছিও নতুন পদ্ধতিতে সিম রেজিষ্ট্রেশন করতে হলে ২০টাকা করে লাগে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রবি ও এয়ারটেল এজেন্ট বলেন, ভাই আমাদেরকে অফিস থেকে কোন খরচ আজ ৪ মার্চ শুক্রবার দেয়নি আর ভবিষ্যতে দিবে কিনা সেটা জানিনা। তবে আমরা ইন্টারনেট ছাড়া পারিশ্রমিক কোন টাকা সংশ্লিষ্ট কৃর্তপক্ষের কাছ থেকে পাইনি। শুধু ইন্টারনেটটা মোবাইলে সেট করে দিয়েছে, ইন্টারনেটের জন্য কোন খরচ লাগেনা। কিন্তু অন্যান্য যাবতীয় খরচ এবং নিজের পারিশ্রমিক কোনটাই দিচ্ছেনা কৃর্তপক্ষ। আমরা কিভাবে সিম ফ্রিতে রেজিষ্ট্রেশন করব? একটা সিম রেজিষ্ট্রেশন করতে মিনিমাম ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। এই সময়টাতে আমি সিম রেজিষ্ট্রেন না করে অন্য কাজ করলেতো আমি টাকা পাচ্ছি। তবে তিনি অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বকিার করে বলেন, কোন গ্রাহক যদি খুশি হয়ে আমাকে ১০/২০ টাকা দেয় তাহলে আমি নিই। তবে বাধ্যতামূলক দিতে হবে এই ধরনের কোন গ্রাহককে বলিনি।

রবি কাষ্টমার কেয়ারে (১২৩) যোগাযোগ করা হলে তাসলিমা আ্ক্তার জনান, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধণে রবি কোম্পানী কোন টাকা নিচ্ছেনা। যদি কোন রিটেইলার টাকা নিয়েও থাকে তাহলে কোম্পানী অবশ্যই ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

এ বিষয়ে গ্রামীন কাষ্টমার কেয়ার অফিস সূত্রে জানা গেছে, টাকার বিনিময়ে গ্রাহকদের সিম নিবন্ধনের বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত অভিযুক্ত ওই সমস্ত দোকানগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন সহ ডিলার বাতিল করে দেওয়া হবে।

উলে­খ্য, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল সিমকার্ড নিবন্ধন-পুনঃনিবন্ধনে অর্থ নিলে কালো তালিকা করে রিটেইলারশিপ বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

গ্রাহকদের অভিযোগ নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

গত ২৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠকের পর তারানা হালিম বলেন, অপারেটরদের বলা হয়েছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন।

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটন এড়াতে গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বায়োমেট্রিক তথা আঙুলের ছাপ নিয়ে সিম নিবন্ধন শুরু হয়।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘সুস্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, কোনোরকম সিম/রিম রি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কোনো অর্থ দিতে হয়না। কিছু অসৎ রিটেইলার ব্যক্তিগত লাভবান হওয়ার জন্য অসৎ উদ্দেশ্য করছে। বিষয়টি অপারেটরদের কাছে তুলে ধরেছি, তারাও অভিযোগ পেয়েছেন। অপারেটররা রিটেইলারদের ইনটেনসিভ দিচ্ছেন। কাজেই গ্রাহক পর্যায়ে কোনোরকম ফিস বা বাড়তি টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।’

মতামত