টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

টেকনাফে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২০ : আটক ৩

আমান উল্লাহ আমান
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম, ০২ মার্চ (সিটিজি টাইমস) : টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে পূর্ব শত্রুতা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দূপক্ষের সংঘর্ষে জয়নাল উদ্দিন (২৫) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। সে খারাংখালীর পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ার জালাল আহমদের ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে আটক করেছে। ২ মার্চ বুধবার সকাল ১০ টার দিকে হোয়াইখ্যংয়ের খারাংখালীর পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় কালাচাঁনের ছেলে মোঃ রফিক (২৬) গুরুত্বর আহতসহ অন্তত আরো ২০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক সুত্রে জানা যায়, স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোঃ ইসমাইল এর সাথে বিএনপি নেতা আবু ছিদ্দিকের সাথে জমিজমা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল। এসংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনারদিন মোঃ ইসমাইল ও লালু সকালের দিকে খারাংখালী বাজারে আসলে প্রতিপক্ষ আবু ছিদ্দিকের লোকদের সাথে বাক-বিতন্ডা ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে গুলাগুলি ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে ইসমাইল পক্ষের জয়নাল উদ্দিন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ জয়নালকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে এবং আহতদের কক্সবাজার হাসপাতালে প্রেরন করেছে। নিহত জয়নাল ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের কর্মী বলে জানান হোয়াইক্যং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন জিকু। আহতরা হলো স্থানীয় কালা চানের ছেলে মোঃ রফিক (৩২), স্ত্রী পাখি (৫০), নুরুর স্ত্রী নুর নাহার (৩৫) গবী সুলতানের ছেলে মোঃ সেলিম (৩৫), মোঃ সুলতানের ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ (১৭), মৃত নাজির হোসেনের ছেলে আবুল মন্জুর (৩০), খলিল আহম্মদের ছেলে কুহলি, মোঃ হোছনের ছেলে ছৈয়দ হোছন, জালাল আহম্মদের ছেলে জামাল হোছন, নুরুল ইসলামের ছেলে নুর মোহাম্মদ, শামসুল আলমের ছেলে জাফর আলমসহ অন্তত ২০ জন নারী পুরুষ। আহতদের মধ্যে রফিক উদ্দিনসহ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাস্থলে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে জয়নালের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ক্ষুদ্ধ লোকজন আবু ছিদ্দিক পক্ষের বসত-বাড়িতে হামলা,ভাংচুর ও লুটপাট চালায় বলে বাড়ির মহিলারা অভিযোগ করেন। এর আগেও কয়েক দফায় এই গ্রুপ সমুহের মধ্যে পৃথক হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটেছিল। এরই জেরধরে ন্যাক্কারজনক এঘটনা বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এনিয়ে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল মজিদ, ওসি (তদন্ত) কবির হোসেন ও হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মায়েদুল ইসলাম নেতৃত্বে কয়েকদল পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছেন। পরে সহকারী পুলিশ সুপার উখিয়া সার্কেল আব্দুল মালেক মিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছেন।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোঃ আব্দুল মজিদ জানান, দু গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘ দিনের জমিসহ নানা বিষয়ে বিরোধ রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এ ঘটনার আশংকা করছেন তিনি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত