টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিস্ফোরক দুর্জয়ঃ হাথুরুসিংহের জন্য ‘হারিয়ে যাচ্ছে’ মুমিনুলরা!

spচট্টগ্রাম, ০১ মার্চ (সিটিজি টাইমস) :  ক্রিকেট ছাড়ার পর সংসদ সদস্য। তারপর কিছুদিন যেতেই রাজনীতির সঙ্গে ক্রিকেট প্রশাসনেও ফিরলেন। কিন্তু থাকতে পারলেন না। অনেকটা জোর করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে নাইমুর রহমান দুর্জয়কে। গতকাল সংসদ অধিবেশন শেষে অন্যান্য রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সংসদ এলাকায় একবার তার দেখা মেলে। ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। বুঝতে বাকি রইল না এসব নিয়েই দিন কাটছে তার। দুর্জয়কে কেন বোর্ড থেকে সরিয়ে দেয়া হল, তা অনেকেরই কমবেশি জানা। শোনা যায় কোচ হাথুরুসিংহের সঙ্গে তার খুব একটা ভালো সম্পর্ক ছিল না। গতকাল দেশের একটি ইংরেজি পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে দুর্জয় পেছনের অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। সেখানেও কোচকে ধুয়ে দিয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার।

বলছেন, ‘বিশ্বকাপ থেকে হাথুরুসিংহের অধীনে দল ভাল করছে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে তিনি যেভাবে দলটাকে পরিচালনা করছেন সেটা মেনে নেয়া যায় না। ইঙ্গিত দলেন, মুমিনুলদের মতো অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার তার উদাসীনতার কারণেই হারিয়ে যাচ্ছে। ঘরোয়া ক্রিকেট উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।’

বিসিবিতে কানাঘুষা চলছে, দুর্জয় নাকি বিসিবির সভাপতি হওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। আর এ কথা পাপনের কানে যেতেই দুর্জয়কে সরিয়ে দেন তিনি। তবে দুর্জয় বলছেন, বোর্ডে কিছু সুবিধাবাদী লোকজন আছে, যারা সভাপতির চারপাশে পড়ে থাকে। তারাই তাকে ভুল বুঝিয়েছেন।

‘এটা আমাদের সমাজের একটা পরিচিত অভ্যাস। ক্ষমতাসীনের পাশে চাটুকাররা সবসময় ওত পেতে থাকে। আমি সবসময় সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে চেয়েছি। এমনকি এখনো চাই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভাল থাকুক। আমি সততার সঙ্গে বলতে পারি তার কানে কারো সম্পর্কে কখনো আমি খারাপ কিছু দেইনি। অন্য কেউ যদি আমার সম্পর্কে এমন কিছু তাকে বলে থাকে, তবে তিনি সেটা বিচার করে দেখতে পারতেন।’ বলেন দুর্জয়।

দুর্জয় যে পদে ছিলেন ওই পদে আগে ছিলেন আকরাম খান। গত বছর আকরামকে সরিয়ে দুর্জয়কে আনা হয়। এবার আবার একই পদে সেই আকরামকে ফেরানো হল। বোর্ডে প্রায়ই শোনা যায় দুর্জয়ের চেয়ে আকরাম খানের সঙ্গেই কাজ করতে বেশি পছন্দ করেন হাথুরুসিংহে।

‘আমি আকরামকে নিয়ে কিছু বলতে চাই না। যেটা বলছেন হয়তো ঠিক। কিন্তু বিষয়টি আমি জানি না। জানতেও চাই না।’

দুর্জয় দাবি করেন, ‘মুমিনুলদের মতো আরো বেশ কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাদের প্রতি কোচ উদাসীন। আমি সবার নাম বলতে চাই না। আমরা এখন ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলছি। যখন সব ফরম্যাটে খেলব, তখন বোঝা যাবে তার অধীনে খেলোয়াড়রা কতটুকু উন্নতি করেছে।’

কোচ ছুটিতে গেলে অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যানকে আগে থেকে অবহিত করতে হয়। কিন্তু এমনও দেখা গেছে হাথুরুসিংহ লম্বা ছুটিতে যাচ্ছেন অথচ তা জানেন না দুর্জয়। বিষয়টি নিয়ে দুর্জয়ের ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। আর সেটা তিনি প্রকাশও করছেন, ‘বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সময় খেলোয়াড়দের নিয়ে তার কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু আমি অবাক হয়ে দেখি কোচিং স্টাফের সবাই ছুটিতে যাচ্ছেন। এমনকি এসব বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। আমি জানি না কীভাবে এটা হয়েছিল। আমি শুধু অবাক হয়েছিলাম। বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে কথা বলতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছি। কিছুই হয়নি। তাদের জাতীয় ক্রিকেট লিগ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ পর্যবেক্ষণ করার কথা ছিল। কিন্তু সেটা তারা করেনি।’

দল নির্বাচন করার আগে আপরাশেন্স কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করার কথা বোর্ডের। দুর্জয় থাকার সময় দেখা গেছে তাকে কিছু না জানিয়েই কোচের সঙ্গে দল নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। কোচের প্রতি এমন ‘একতরফা মূল্যায়নে’ নাখোশ দুর্জয়, ‘হাথুরুসিংহে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে খুব কঠিন সময় পার করেছেন। তার আগেও দলের অবস্থা ভাল ছিল না। বিশ্বকাপ থেকেই আমরা ভাল করতে শুরু করি। আমি জানি না এই সাফল্যের জন্য আমাদের কাকে কতটুকু মূল্য দিতে হবে।’- ঢাকাটাইমস

মতামত