টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এ কেমন নিষ্ঠুরতা!

আবদুল মান্নান
মানিকছড়ি প্রতিনিধি 

0000চট্টগ্রাম, ২৯ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : পাহাড়ে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছেই। সন্ত্রাসীদের চাঁদা না দিয়ে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মানুষকে সচেতন করলেও কেউই চাঁদা না দিয়ে স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য কিছুই করতে পারছেনা। উপজাতি সন্ত্রাসীদের চাহিদানুযায়ী চাঁদা না দিলে অপহরণ কিংবা ফসলি ক্ষেত অথবা বাগান কেটে সাবার করতে দ্বিধা করে না এ অঞ্চলের সন্ত্রাসী! মানুষকে ঠেক দিয়ে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এসব সন্ত্রাসীরা। ফলে এখানকার বাগান মালিকরা এখন আতংকে দিনাতিপাত করছে। প্রশাসন এসব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জোরালো ভ‚মিকা নিতে প্রতিনিয়ত ব্যর্থ হচ্ছে!

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,দীঘ দিন ধরে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়েই চলেছে। চাঁদাবাজদের ঠেকাতে প্রশাসন নানামূখী তৎপরতা চালিয়ে সেড়ে উঠতে পারছেনা। এ যেন ইঁদুর বিড়ালের খেলা! হাঁস-মুরগী,গরু-ছাগল,তরু-তরকারী,শাক-সবজি,ভ‚মি ক্রয়-বিক্রয়, উন্নয়ন কর্মকান্ড,সড়কে চলাচলরত সকল প্রকার যানবাহনসহ সবকিছু থেকেই ১০% হারে নিয়মিত চাঁদাবাজি আদায় এখানকার নিত্যচিত্র! তবে সব ঘটনাই সত্য, কিন্তু সাক্ষ্য নেই! প্রশাসনের কাছে কেউই তা স্বীকার করতে চায় না। ফলে সন্ত্রাসীরা এসব অপকর্ম করতে এখন আর দ্বিধা কওে না। আর কেউ যদি তাদের চাহিদা মাফিক চাঁদা দিতে দেরি কিংবা অস্বীকার করে তাহলে ক্ষতি অনিবার্য! হয়তো অপহরণ, নয়তো সৃজিত বাগানে কেটে সাবার! এতে তাদের মন কাঁদবে না! দিন দিন এসব চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পর্যটনখ্যাত খাগড়াছড়ির নয়নাভিরাম দৃশ্যে সৃজিত বাগান মালিকদের মাঝে নেমে এসেছে অজানা আতংক।

ফেব্রæয়ারী মাসে খাগড়াছড়িতে এ চাঁদাবাজির ঘটনায় দু’জন ঠিকাদারের প্রতিনিধি অপহরণ( পরে প্রশাসন কর্তৃক উদ্ধার) দু’জন মোটর সাইকেল চালক অপহরণ(১জনের লাশ উদ্ধার)সহ মানিকছড়িতে ফলন্ত আনারস ও আগর বাগান কেটে সাবার করার ঘটনায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৭ ফেব্রæয়ারী দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় মানিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী কর্ণেল বাগানে চলাচলরত সড়কে ব্যারিকেট দিয়ে জনচলাচল বন্ধ করে দেয় সন্ত্রাসীরা। প্রায় আধা ঘন্টা সড়ক ব্যারিকেট দিয়ে ২ শতাধিক আগর গাছ কেটে চলে যায় ওরা। এ ঘটনায় বাগান কর্তৃপক্ষ ‘ইউপিডিএফ’ ও জেএসএস সংস্কারের ওপর দোষারোপ করছে। ইউপিডিএফ’র জেলা তথ্যও প্রচার বিভাগের নিরণ চাকমা এ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ইউপিডিএফ এ ধরণের কর্মকান্ড সমর্থন করে না।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পাহাড়ে দীর্ঘ দিন ধরে উপজাতি সশস্ত্রগ্রæপগুলোর মধ্যে অর্ন্তকোন্দল বিরাজ করে আসছিল। সে সময়ে আধিপত্য অনুযায়ী তারা চাঁদাবাজি করত। সম্প্রতিকালে উপজাতিগ্রæপের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ রয়েছে। ফলে এখন ইউপিডিএফ, জেএসএস সংস্কার ও জেএসএস একত্রিতভাবে প্রতিযোগিতা দিয়ে চাাঁদাবাজি শুরু করেছে এ অঞ্চলে! ১৯৮০ দশকের শুরুতে মানিকছড়ির পুরাতন উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন শত শত একর টিলা ভ‚মিতে গড়ে ওঠে নয়নাভিরাম ‘কর্ণেল বাগান’। উন্নতমানের লিচু ও আমের পাশাপাশি সৃজন করা হয় আগর গাছ। যা বর্তমানে পুরো খাগড়াছড়ির অহংকার। সম্প্রতি ইউপিডিএফ ও জেএসএস সংস্কার এ বাগান কর্তৃপক্ষের নিকট বাৎসরিক মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবী করে। এতে বাগান কর্তৃপক্ষ সাড়া না দেওয়াতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা। এছাড়া ফেব্রæয়ারী মাসের মাঝামাঝিতে রামগড় উপজেলার হাফছড়ির হাতিমুড়াস্থ এলাকায় জনৈক কৃষকের ফলন্ত আনারস বাগান কেটে( নিধনযজ্ঞ) সাবার দিয়েছে! এভাবে পাহাড়ের সর্বত্রই চলছে উপজাতি সন্ত্রাসীদের তান্ডবলীলা।

উল্লেখ্য যে, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি, ল²ীছড়ি, রামগড় এলাকার গহীন অরণ্যে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য গড়ে উঠায় উপজাতী সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বাগান মালিকদের নিকট থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে। যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তাদের বাগানের মূল্যবান গাছ কেটে সাবার করে তাদের দাপট জানিয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় মানিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী কর্ণেল বাগানের প্রায় ২ শতাধিক মূল্যবান আগর গাছ কতর্নের ঘটনা ঘটল। এদিকে বাগান কর্তনের ঘটনা জানাজানি হলে উপজেলার বিভিন্ন বাগান মালিকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে । এ ঘটনায় বাগানের ব্যবস্থাপক বাদল কান্তি সেন এর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মানিকছড়ি থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান বিষয়টি সম্পর্কে কেউ তাকে অবহিত করেনি। তবে পুলিশ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত