টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়ার ১০ চেয়ারম্যানের ঘাটে নৌকা না ভীড়ার আশংকা !

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

Rangunia-up-cha-pic--2চট্টগ্রাম, ২৭ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতীক “নৌকা” না ভীড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ১০ ইউপি চেয়ারম্যানের ঘাটে। বিগত ইউপি নির্বাচনে এই ১০ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে গত ৫ বছরে তারা এলাকায় সকল কার্যক্রম চালিয়েছে। এলাকার উন্নয়ন সহ সকল কিছুতে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও এবারে ভিন্নরুপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আসতে হচ্ছে। রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচিত সাংসদ, সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের একান্ত প্রচেষ্টায় এই ১০ চেয়ারম্যানের এলাকায় উন্নয়ন থেকে শুরু করে সকল কর্মকান্ড আশানুরুপ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ৫ বছরে এই ১০ ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের আশীর্বাদ নিয়ে এলাকায় দাপুটের সাথে নেতৃত্ব করলেও বেরিয়ে আসতে পারেনি নিজ বলয় থেকে রাজনৈতিক বলয়ে। এসব চেয়ারম্যানদের মধ্যে অনেকে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েও নাম সর্বস্ব হিসেবে আওয়ামীলীগের মধ্যে অবস্থান করেছে। আওয়ামীলীগে যোগ দিলেও তাদের অনেকেরই দলীয় পদ-পদবী নেই। এমনকি এলাকায় সাংগঠনিভাবে দলীয় ভিত্তি মজবুত করতে পারেনি। আবার অনেকে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কথা চিন্তা করে নিজেকে গা ভাসিয়ে দিয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের কাছে। এই ১০ চেয়ারম্যান রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজেদেরকেও পরিবর্তনের সাথে এগিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে তারা আওয়ামীলীগে তেমন একটা অবস্থান সৃষ্টি করতে না পারায় এবারে ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় এই ১০ চেয়ারম্যানের ঘাটে নৌকা না ভীড়ার সম্ভাবনা প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে। এই ১০ চেয়ারম্যানের মধ্যে অনেকেই আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার ইঙ্গিতে স্বতন্ত্র ভাবে নির্বাচন করা আবার ৩/৪ জন চেয়ারম্যান নির্বাচন না করার চিন্তা-ভাবনা করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে এবারে তৃণমূলের ভোটে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রাথী মনোনীত করায় এসব চেয়ারম্যানরা দলীয় কোন পদ-পদবীতে না থাকায় তারা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ভোটে প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারছে না। সেক্ষেত্রে তারা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন হাইব্রিড নেতা থেকে নয়, নৌকা প্রতীক পাবেন দলের ত্যাগী , পরিচ্ছন্ন ও সৎ রাজনৈতিকরা। আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ন পদে না থেকে নৌকা প্রতীক পেলে তৃনমূলে নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা।

নৌকা না পাওয়ার আশংকায় ১০ ইউপি চেয়ারম্যানরা হলেন পোমরা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবির গিয়াসু, পারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুর রহমান তালুকদার, পদুয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সেলিম, শিলক ইউপি চেয়ারম্যান শহীদল্লাহ চৌধুরী আয়ুব খাঁন, বেতাগী ইউপি চেয়ারম্যান পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রহিম উদ্দিন চৌধুরী, রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন মোস্তফা জাহাঙ্গীর, ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুদ্দৌলাহ দুলাল, লালা নগরের শাহ আলম তালুকদার, দক্ষিন রাজা নগর ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক মিয়া । গত ৫ বছর আগেও তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল ভিন্ন। বিশেষ করে বিএনপি সরকারের আমলে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসীর রায় কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর একান্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত শহীদুল্লাহ চৌধুরী আয়ুব খাঁন। বিএনপি সরকারের আমলে উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন তিনিও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। নাসির উদ্দিন সেলিমও সেসময়ে বিএনপির রাজনীতি করতেন। পোমরা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবির গিয়াসু একসময়ে উপজেলা বিএনপির (নুরুল আলম) সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। রহিম উদ্দিন চৌধুরী পূর্বে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। সিরাজুদ্দৌল­াহ দুলাল বিএনপির (নুরুল আলম) রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। অন্যদিকে জামাল উদ্দিন মোস্তফা জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। পারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুর রহমান তালুকদার ও লালা নগর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম তালুকদার আওয়ামী লীগের কোনো পদ পদবীতে নেই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানান, শহীদুল্লাহ চৌধুরী (আইযুব খাঁন) , পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন , নাসির উদ্দিন সেলিম, রহিম উদ্দিন চৌধুরী, সিরাজুদ্দৌলাহ চৌধুরী দুলাল, জামাল উদ্দিন মোস্তফা জাহাঙ্গীর , জাহেদুর রহমান তালুকদার , আওয়ামী লীগের কোনে পদে নেই । পদুয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সেলিম আওয়ামীলীগের কোন পদ-পদবীতে নেই, যোগদানও করেনি। স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের রহিম উদ্দিন চৌধুরী তিনিও আওয়ামীলীগের কোন পদ-পদবীতে নেই। পোমরা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুল কবির গিয়াসু উপজেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হলেও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কোন পদবীতে নেই। ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজদ্দৌল্লাহ চৌধুরী দুলাল আওয়ামীলীগে যোগদান করলেও কোন পদ-পদবীতে নেই। রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন মোস্তফা জাহাঙ্গীর প্রবাসে থাকাকালীন আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে কোন পদ-পদবীতে নেই। দক্ষিণ রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক মিঞাও আওয়ামীলীগের কোন পদ-পদবীতে নেই। পারুয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহেদুর রহমান তালুকদার আওয়ামীলীগের কোন পদ-পদবীতে নেই।

মতামত