টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পুরনো দুই শত্রুর নতুন লড়াই আজ

sচট্টগ্রাম, ২৭ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  বিশ্ব ক্রিকেটের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান এশিয়া কাপের ম্যাচে আবারো সম্মুখ সমরে। তাদের শত্রুতা বহুদিনের পুরনো। কিন্তু লড়াইটা নতুন।

এই ম্যাচ ঘিরেই দুই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীসহ প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে। পুরনো শত্রুদের নতুন লড়াইয়ের আগে তাই উত্তেজনা চরমে।

ভারত-পাকিস্তান যখনই ক্রিকেট মাঠে পরস্পরের বিরুদ্ধে নামে তখনই উত্তেজক কিছু ঘটে। এবারও তেমন কিছুর আশায় রয়েছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনার তাপ ২২ গজেও লাগে। তাই তো রাজনৈতিক নানা কারণে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কয়েকবার ঠিক হয়েও পরে বাতিল হয়ে যায়। দুই দেশ সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছিল ২০১২-১৩ মৌসুমে।

ঠিক এক বছর ১১ দিন পর আবারো মুখোমুখি হচ্ছে দুদল। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র দিলেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান সরকার। ফলে রাজনীতির আঁচ এসে পড়েছে ক্রিকেটের আঙিনাতেও।

ভারত-পাকিস্তান এই ম্যাচটি আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রিহার্সেল ম্যাচ। সেখানে একে-অপরের মুখোমুখি হবে তারা। ভারতীয় দলের বর্তমান যা পারফর্মেন্স তাতে ম্যাচে এগিয়ে থাকবে তারাই।

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার পর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। আর এই আসরের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষেও জয় পেয়েছে তারা।

কিন্তু প্রতিপক্ষের নাম যখন পাকিস্তান, তখন কােনো কিছুই আগাম অনুমান করা কঠিন। পাকিস্তান দলকে হালকাভাবে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

কারণ নির্বাসনের খাঁড়া কাটিয়ে দলে ফিরেছেন পেসার মােহাম্মদ আমির। ফলে পাকিস্তানের শক্তি কিছুটা বেড়েছে তাতে সন্দেহ নেই। পিএসএলে দারুণ পারফর্ম করে আকস্মিকভাবে দলে নাম লিখিয়েছন ওপেনার সারজিল খান। দলে ঢুকেছেন পেসার মোহাম্মদ সামিও।

যদিও এই ম্যাচকে অন্য ম্যাচের মতো করেই দেখছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। কিন্তু তাতেও উত্তেজনার পারদ ক্রমশ বাড়ছে।

এই দুই দলের লড়াই কতটা হাড্ডাহাড্ডি হয় সেটা এশিয়াকাপের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায়। ১৯৮৪ সালে এই টুর্নামেন্ট শুরুর পর মোট ১২ বার মুখোমুখিতে সমান ৫ বার করে জিতেছে উভয় দল। দুটি ম্যাচ হয় পরিত্যাক্ত।

এবার যেহেতু এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হচ্ছে তাই এগিয়ে থাকবে ভারত। টি-টোয়েন্টিতে মােট সাতবারের সাক্ষাতে ছয়বারই জিতেছে ভারতীয়রা।

টি-টোয়েন্টিতে ভারত এগিয়ে থাকলেও একদিনের ক্রিকেটে পাকিস্তান এগিয়ে। মােট ১২৭ বারের সাক্ষাতে পাকিস্তান জিতেছে ৭২ বার। আর ভারতের জয় ৫১ ম্যাচে। এছাড়া ৫৯ টেস্টের ১২টিতে পাকিস্তান, ৯টিতে ভারত জিতেছে।

এশিয়া কাপে দুই দলেরই একে-অপরের বিপক্ষে রয়েছে অনেক স্মরণ করার মতো ঘটনা। দুদলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেছেন বিরাট কোহলি। ১৪৮ বলে অপরাজিত ১৮৩ রান করেছিলেন তিনি। ২০১২ সালের আসরে ঢাকাতেই পাকিস্তানের করা ৩৩০ রান টপকে জিতেছিল ভারত।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ ইনিংসটিও কােহলির। ২০১২ সালের বিশ্বকাপে কলম্বোতে অপরাজিত ৭৮ রান করেছিলেন তিনি।

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসটি ভারতের হলেও ওপেনিং জুটির রেকর্ডটি পাকিস্তানের। ২০১২ সালে মোহাম্মদ হাফিজ ও নাসির জামসেদ দুজনে মিলে গড়েছিলেন ২২৪ রানের জুটি।

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের মতো ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি বিরাট কোহলির। চার ম্যাচে ১৫০ রান করেছেন তিনি। তবে বেশি ফিফটি করেছেন মোহাম্মদ হাফিজ (২টি)।

টি-টোয়েন্টিতে দুদলের বােলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন উমর গুল। ১৬.১৮ গড়ে ১১ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার। সেরা বােলিং ৩৭ রানে ৪ উইকেট। ভারতের হয়ে সেরা বোলিংটা ভুবেনেশ্বর কুমারের। ৯ রানে তিনি নিয়েছিলেন ৩ উইকেট।

দুদলের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে বেশি ছক্কা হাঁকিয়েছেন যুবরাজ সিং। ২০১২ সালে আহমেদাবাদে মোট সাতটি ছক্কা মেরেছিলেন জুবি। ওই ম্যাচে ৩৬ বলে ৭২ রান করেন তিনি।

লাইমলাইটে থাকবেন যারা: ভারতের পক্ষে রোহিত শর্মা। বড় ম্যাচে বড় কিছু করা যার প্রায় অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আগের ম্যাচে ভালো না করায় এই ম্যাচে জ্বলে উঠতে পারেন কোহলি।

সেই সঙ্গে ব্যাটিংয়ে যুবরাজ-সুরেশ রায়নার যে কেউ যেকােনাে সময় ম্যাচের ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
বোলিংয়ে বুমরাহের সাথে অলরাউন্ডার পান্ডিয়া। স্পিনার রবিচন্দন অশ্বিনের ঘুর্ণির সাথে আশিষ নেহরার বুড়ো হাড়ের ভেলকি তো থাকছেই।

পাকিস্তানের হয়ে অবশ্যই মোহাম্মদ আমির। নির্বাসন কাটিয়ে দলে ফিরে নিউজিল্যান্ড সফরে মোটামুটি পারফর্ম করেছেন। তবে এশিয়া কাপে দারুন কিছু করে ড্রেসিংরুমসহ সমর্থকদের মনও কেড়ে নিতে চাইবেন তিনি।

তাকে ভালো সঙ্গ দেবেন মোহাম্মদ সামি ও ওয়াহাব রিয়াজ। ওয়াকার ইউনুস ও নতুন মেন্টর আজহার মেহমুদের পরামর্শসহ শহীদ আফ্রিদির ঘুর্ণি তো থাকছেই।

বোলারদের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে সারজিল খান নিজেকে প্রমাণ করতে চাইবেন। তবে বড় ভরসা হতে যাচ্ছেন উমর আকমল। সর্বশেষ পিএসএলে সর্বাধিক রান করে এসেছেন তিনি।

আর মরা ম্যাচ তাজা করার অদম্য ক্ষমতা যার সেই বুম বুম আফ্রিদি তো আছেনই। ২০১২ সালের ম্যাচে শেষ ওভারে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জিতিয়ে ছিলেন আফ্রিদি।

এই ম্যাচে এক অচেনা পাকিস্তানকেই দেখবে ভারত। কারণ পাকিস্তানের ১৪ সদস্যের মাত্র চারজন আগে ভারতের বিপক্ষে খেলেছেন। শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ হাফিজ ও উমর আকমল ছাড়া বাকিদের কেউ ভারতের বিপক্ষে আগে খেলননি। বিপরীতে ভারতীয় দলের ৯ জনই আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছেন।

প্রথম তিন ম্যাচের মতো এই ম্যাচে সবুজ পিচ পাবে দুদল। সেক্ষেত্রে আগে ফিল্ডিং করলে ফাস্ট বােলারদের কল্যাণে এগিয়ে থাকবে পাকিস্তান। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় ব্যাটসম্যানদের জন্যও সুযোগ রয়েছে ভালো করার।

জয়-পরাজয়ের প্রেডিকশনে এগিয়ে রয়েছে ভারত। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের জরিপে দেখা যায়, ভারতের জয়ের পক্ষে ২৮ ও পাকিস্তানের পক্ষে ১৭ ভাগ মত দিয়েছেন। বাকিরা বলতে পারেননি কে জিতবে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে বৃষ্টির কোনো আশঙ্কা এখনো নেই। ওয়েদার ডটকমের বার্তা অনুযায়ী আজ বেশ ভালোই থাকবে আকাশ। ফলে উভয়দল তৈরি একে অপরকে কঠিন লড়াই ছুঁড়ে দেওয়ার জন্য।

সম্ভাব্য ভারত দল: মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, সুরেশ রায়না, যুবরাজ সিং, বিরাট কোহলি, আশিস নেহরা, হার্দিক পান্ডে, রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং জাসপ্রিত বুমরাহ।

সম্ভাব্য পাকিস্তান দল: শহীদ আফ্রিদি (অধিনায়ক), সারজিল খান, মোহাম্মদ হাফিজ, উমর আকমল, শোয়েব মালিক, ইমাদ ওয়াসিম, সরফরাজ আহমেদ, আনোয়ার আলী/মোহাম্মদ নওয়াজ, ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ ইরফান।

মতামত