টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অন্যায়-অনিয়মে প্রশ্রয়ও দেবো না: মেয়র আ জ ম নাছির

চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  ‘আমি অন্যায়-অনিয়ম করবো না, কাউকে অন্যায়-অনিয়ম করতে প্রশ্রয়ও দেবো না।’

নগরীর দোকান মালিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এভাবে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কেবি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে নাগরিক সেবা বিষয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দলমত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করছেন জানিয়ে মেয়র বলেন, আমার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য ও পক্ষপাতিত্ব নেই। বিলবোর্ড চিরতরে উচ্ছেদ হয়েছে। একটি বিলবোর্ড আর কেউ স্থাপন করতে পারবে না। কোনো স্থাপনায় বিলবোর্ড থাকবে না।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন ও সংস্কার শুরু হয়েছে। মার্চ ও এপ্রিলে ক্রাস প্রোগ্রাম পরিচালনা করে খাল-নালা-নর্দমার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নালাগুলোর মাটি ও আবর্জনা অপসারণ করে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো হবে। নালার ওপর স্ল্যাব বসিয়ে নালা পরিষ্কার করার কাজে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবে না। পাকা স্ল্যাবের পরিবর্তে লোহার নেট ব্যবহার করতে হবে। নালায় পানি চলাচলের পথে কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবে না।

মেয়র বলেন, ডেনমার্ক সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানির মাধ্যমে নগরীকে আইপি ক্যামেরার আওতায় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিতে চাই। নগরীর যাত্রী ছাউনিগুলো দৃষ্টিনন্দন করা হবে এবং ওয়াইফাই জোনের আওতায় আনা হবে। বাস দাঁড়ানোর সুনির্দ্দিষ্ট স্থান নির্ধারন করে দেওয়া হবে। ৪১টি ওয়ার্ডকে পরিপূর্ণ আলোকিত করা হবে। সব সড়ক কার্পেটিং করা হবে। কাঁচা রাস্তা থাকবে না। রাস্তা যখনই ক্ষত হবে সাথে সাথে সংস্কারের আওতায় আনা হবে।

ক্লিন সিটির ভিশনের আলোকে চট্টগ্রামকে ডাস্টবিনমুক্ত নগরীতে পরিণত করা হবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ঘরে ঘরে ও দোকান প্রতিষ্ঠান থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, দোকান বা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড হবে দৃষ্টিনন্দন। সিটি করপোরেশন দোকানপাটের সাইনবোর্ডের ডিজাইন সরবরাহ করবে। নির্ধারিত ডিজাইনের বাইরে কেউ সাইনবোর্ড লাগাতে পারবে না। রাস্তার দুধারের দোকানের কোনো মালামাল ফুটপাতে রাখতে পারবে না। প্রতিটি দোকানকে প্যারালাল ওয়েতে মালামাল সাজিয়ে ব্যবসা করতে হবে।

হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, মুল রাস্তার ওপর কারও দোকানপাট আড়াল করে হকারের ব্যবসা চালানো যাবে না। চলাচলের পথ রেখে সুনির্দ্দিষ্ট জায়গায় ভ্রাম্যমাণ গাড়ি দিয়ে বিকেল পাঁচটা-ছয়টা থেকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত সময়ে হকারদের ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে।

ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক নেতারা তাদের ইনকাম ট্যাক্সের হয়রানিসহ নানা ধরনের সমস্যার কথা মেয়রকে অবহিত করেন। মেয়র ব্যবসায়ীদের সমস্যা আন্তরিকতার সাথে সমাধানের আশ্বাস দেন।

সভায় প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম, মোহাম্মদদ আজম, হাবিবুল হক, জহুরুল আলম জসিম, মনোয়ারা বেগম মণি, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রামের সভাপতি মো. ছালামত আলী, কার্যকরী সভাপতি সালেহ আহমেদ সুলেমান, সিনিয়র সহসভাপতি সাহাবউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সগির, সহসভাপতি এএমএম সাহাবুদ্দিন, শাহ আনিছ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ উমর ফারুক, টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি খাইরুল ইসলাম ককসী, শাহ আমানত মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. দিদারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. সৈয়দুল আলম, স্বজন সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সরওয়ার আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান, মাদারবাড়ি বণিক কল্যাণ সামিতির সভাপতি আলী বক্স প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

এ ছাড়া ইলেকট্রিক মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি মো. সেলিম নূর, বৃহত্তর চকবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এসএম আবুল কালাম আজাদ, এআর শপিং সেন্টার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন, চকবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম, চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র পাদুকা শিল্প মালিক গ্রুপ সভাপতি মো. সোলেমান, সাধারণ সম্পাদক মো. মনজুর খান, ইসলামাবাদ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইফুল আলম সাইফু, সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি, চট্টগ্রাম মহানগর কমিউনিটি সেন্টার মালিক সমিতির সভাপতি শরফুল হক, রিয়াজুদ্দিন বাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. আলী আকবর, ডেকোরেটার্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল আলম চৌধুরী, মতি টাওয়ার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম ফিরোজ খান, কর্ণফুলী মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন তালুকদার, চট্টগ্রাম আলোকসজ্জা ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি মো. জাহিদ উদ্দিন, আকতারুজ্জামান সেন্টার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির, ভিআইপি টাওয়ার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি রাশেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার চৌধুরী, অ্যাপোলো শপিং সেন্টারের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মতামত