টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

খালেদাকে গ্যাটকো মামলায় আত্মসমর্পণের নির্দেশ

চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা গ্যাটকো মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আগামী ১৩ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা ৩ নম্বর বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদার খালেদা জিয়াকে আত্মসমর্পণের এ আদেশ দেন।

দুদকের দায়ের করা মামলাটি বাতিলে খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ করে গত বছরের ৫ আগস্ট সংক্ষিপ্ত এ রায় দেওয়া হয়েছিল।

এরপর, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি আব্দুর রবের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

বিচারিক আদালতে এ রায় পৌঁছার দুই মাসের মধ্যে খালেদা জিয়াকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলো হাইকোর্ট।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে গ্লোবাল অ্যাগ্রো ট্রেড কোম্পানি লিমিটেডকে (গ্যাটকো) ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে (প্রয়াত) আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনকে আসামি করে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী। মামলায় গ্যাটকোকে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকা ক্ষতির অভিযোগ করা হয়।

২০০৮ সালের ১৩ মে খালেদা জিয়া ও সাবেক ছয় মন্ত্রীসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়। এর আগে-পরে চার্জশিটভুক্ত আসামি খালেদা জিয়াসহ আসামিদের কয়েকজন ওই মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।

এর মধ্যে ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকো। এসব আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট খালেদা ও কোকোর বিরুদ্ধে কার্যক্রম স্থগিত এবং রুল জারি করেন। পরে বেশ কয়েক দফায় মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ বাড়ায় আদালত।

বেশ কয়েক বছর স্থগিত থাকার পর গত বছর মামলা সচল করতে রুল শুনানির দিন ধার্যের আবেদন জানায় দুদক।

এরপর গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার রুল শুনানি শুরু হয়।

গত বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার পক্ষে রুলের শুনানি ও যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল ও ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। দুদকের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন মো. খুরশিদ আলম খান।

এরপর গত বছরের ৫ আগস্ট সংক্ষিপ্ত রায় দেয় হাইকোর্ট।

মতামত