টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

এমপি লতিফ ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মা’: হাসিনা মহিউদ্দিন

Woman_AL_-Photo_1_(3)চট্টগ্রাম, ২০ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : বঙ্গবন্ধুকে যে বা যারা সামান্যতম অমর্যাদা করবে তাদের স্থান শুধু আওয়ামী লীগে নয়, বাংলাদেশের পবিত্র মাটিতে হতে পারে না উল্লেখ করে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন বলেছেন, সরকার দলীয় সাংসদ হয়ে নিজের ছবির সাথে বঙ্গবন্ধুর মুখমন্ডলকে সংযুক্ত করে এবং তাকে (বঙ্গবন্ধুকে) পাকিস্তানি কাবুলী পোশাক পরিয়ে লতিফ ঘৃণ্য মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এমপি লতিফকে ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মা’ বলে অভিহিত করে হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, এম.এ. লতিফের বিচার ও প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত না হলে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতি বিশ্বাস ঘাতকতা করা হবে।

লিখিত বক্তব্যে মহিলা আওয়ামী লীগের এ নেত্রী আরো বলেন, এম এ লতিফ একাত্তরের পরাজিত শক্তির দোসর। যে কোনো ভাবেই তিনি আওয়ামী লীগের টিকেটে এমপি হয়েছেন। মনে করেছিলাম অন্য অনেকের মত তিনিও শুব্ধ হবেন, কিন্তু হননি। তার কর্মকান্ডে মনে হচ্ছে আমরা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আবারও একজন পাকিস্তানি প্রেতাত্মার কাছে জিম্মি হয়ে গেছি।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর লতিফ ‘জামায়াত ও মাফিয়া কানেকশনে’ আরও সক্রিয় হয়েছেন অভিযোগ করে হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক মাফিয়া, চোরাচালানি ও মাদক ব্যবসায়ী চক্রের হাতে তুলে দিতে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ও অবদান নিয়ে বিরুপ মন্তব্য এবং আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে মীমাংসিত বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, ঠিক এই সময়ে গত ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চট্টগ্রাম সফরের দিন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বিকৃতভাবে উপস্থাপন জাতিকে বিস্মিত ও সংক্ষুব্ধ করেছে। যিনি এটা করেছেন সেই সংসদ সদস্য লতিফের কোষ্ঠি-ঠিকুজি সম্পর্কে সকলে অবগত আছেন।

লতিফের পক্ষ নেয়া চট্টগ্রামের ৭ জন সংসদ সদস্যের প্রতি ঈঙ্গিত করে হাসিনা মহিউদ্দিন আরো বলেন, লক্ষণীয় যে, আওয়ামী রাজনীতির মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত নন এমন কিছু হাইব্রীড দুর্জন বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতকারীর পক্ষাবলম্বন করছেন। এদের অতীত, বর্তমান আমাদের জানা আছে। সময়মত এদের মুখোশ উন্মোচিত হবে। এই বিপ্লব তীর্থ চট্টগ্রামে অনেক ত্যাগী-কর্মীর কঠোর শ্রম-নিষ্ঠায় আওয়ামী লীগের জমিন চাষাবাদে উর্বর হয়েছে। তাদের অবদানের বিনিময়ে অনেক হাইব্রীড নেতা আজ দল ও সরকারের নানা পদে বহাল রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন এম.এ. লতিফ বঙ্গবন্ধুর ছবিকে বিকৃত করার স্পর্ধা দেখিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিবাদ মুখর এই শক্তির চলমান আন্দোলনকে বেগবান করতে সকল দূরভিসন্ধিকে প্রতিহত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমের তিনি চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি গৃহের মা-বোনদের বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতকারীর বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য লড়াইয়ে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির প্রতিবাদে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি লালদীঘিতে নাগরিক মঞ্চের ব্যানারে সমাবেশ করে মহিউদ্দিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর অবমাননায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি লতিফকে বন্দর নগরীতে চলাচলে হুঁশিয়ার করে বলেন, কেউ যদি ক্ষুব্ধ হয়ে লতিফের ওপর আক্রমণ করে, তবে নির্দেশদাতা হিসেবে দায় নিতে তিনি প্রস্তুত।

মহিউদ্দিনের ওই হুঁশিয়ারির পর ১৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সাত সাংসদ লতিফের পক্ষে বিবৃতি দিয়ে মহিউদ্দিনের বক্তব্যের নিন্দা জানান এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘জীবননাশের শঙ্কায়’ মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে নগরীর ১৬ থানায় জিডি করেন লতিফ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আঞ্জুমান আরা চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইনামুল হক দানুর স্ত্রী শামসুন্নাহার দানু, ওয়ার্ড কাউন্সিলর নীলু নাগ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমতাজ বেগম, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা লীগের আহ্বায়ক নূর ই আরা এবং ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক রহমতুন্নেছা।

মতামত