টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পরিত্যক্ত সাঙ্গুর অবকাঠামো ব্যবহার করে গ্যাস আমদানি

gassচট্টগ্রাম, ১৭ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :   গভীর সমুদ্রের পরিত্যক্ত সাঙ্গু গ্যাস ক্ষেত্রের অবকাঠামো (প্ল্যাটফর্ম ও পাইপ লাইন) ব্যবহার করে গ্যাস আমদানির পরিকল্পনা করছে সরকার। এই অবকাঠামোর মাধ্যমে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অথবা সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) মূল ভূখণ্ডে আনা হবে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, পরিত্যক্ত সাঙ্গু গ্যাস ক্ষেত্রের মূল্যবান অবকাঠামো কীভাবে ব্যবহার করা যায় চলতি সপ্তাহে জ্বালানি বিভাগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এখানে সিদ্ধান্ত হয় এ অবকাঠামোর মাধ্যমে হয় সিএনজি না হয় এলএনজি আমাদনি করা হবে। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলাকে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করতে বলা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, সাঙ্গুর প্লাটফর্মটি সমুদ্রের যে স্থানে অবস্থিত সেখানে পানির গভীরতা ৮ মিটারের মতো। ফলে এখানে বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে না। মাঝারি মানের জাহাজ আসতে পারবে। ফলে সিএনজি নাকি এলএনজি কোনটা আনা লাভজনক হবে তা খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি জানান, জ্বালানি বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল চলতি মাসে ইরান সফর করবে। সফরে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা নিয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে। এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সমুদ্র বক্ষের একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু। সমুদ্রের ১৬ নম্বর ব্লকের এ গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৯৬ সালে ব্রিটিশ তেল কোম্পানি কেয়ার্ন এনার্জি আবিষ্কার করে। ১৯৯৮ সালে সেখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়। মাত্র নয় বছরের মধ্যে ২০০৭ সালে ক্ষেত্রটির গ্যাস উৎপাদনে ধস নামে । প্রথম দিকে দৈনিক ১৪০ থেকে ১৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস তোলা হলেও ২০০৭ সালের পর থেকে উৎপাদন কমা শুরু করে। ২০০৯ সালে তিনটি নতুন কূপ খনন ও কম্প্রেসার স্থাপন করার প্রকল্প হতে নেয়া হয়। কিন্তু তাতেও উন্নতি হয়নি। উৎপাদন দৈনিক দুই থেকে তিন মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এলে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে ঘোষণার আগে এ গ্যাসক্ষেত্রসহ আশেপাশের অংশের নিজেদের শেয়ার কেয়ার্ন এনার্জি অপর অংশীদার সান্তোসের কাছে বিক্রি করে দেয়।

১৯৯৮ থেকে পরিত্যক্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত এ গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রায় ৪৮৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস তোলা হয়। এর মধ্যে খরচ উশুল (কস্ট রিকভারি) এবং প্রফিট গ্যাস হিসেবে ইজারাদার কোম্পানি পায় ৩৬১ (৭৪ শতাংশ) বিলিয়ন ঘনফুট, পেট্রোবাংলা প্রতি ইউনিট তিন ডলারে কিনে নেয়। বাকি ২৬ শতাংশ গ্যাস পায় বাংলাদেশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বিনিয়োগ তুলে নিতে অপারেটর কোম্পানি সক্ষমতার চেয়ে বেশি করে গ্যাস তোলে ফলে ভূ-অভ্যন্তরে গ্যাসস্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পুরো ক্ষেত্রটির অকাল মৃত্যু ঘটে।

সাঙ্গু ক্ষেত্রের গ্যাস তুলে ভূমিতে এনে প্রক্রিয়াজাত করতে চট্টগ্রামের সিলিমপুরে একটি প্রসেসিং প্ল্যান্ট স্থাপন করে কেয়ার্ন। এটি প্রতিদিন ৫২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রক্রিয়া করতে পারে। এছাড়া এ গ্যাসক্ষেত্রের সমুদ্রের গভীরে স্ট্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম, পাইপলাইন রয়েছে। এগুলো স্থাপনে কয়েক কোটি ডলার ব্যয় হয়। এ অবকাঠামো বর্তমানে পেট্রোবাংলার অধীনে রয়েছে বলে জানা গেছে।-বাংলামেইল

মতামত