টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গুনিয়ায় অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যান থাকেন শহরে

আব্বাস হোসাইন আফতাব
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

Ranguniaচট্টগ্রাম, ১৪ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :   ভোট নেওয়ার সময় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোটারদের নানাভাবে প্রতিশ্র“তি দেয়। কথা দেয় নির্বাচিত হলে জনগণের নাগরিক সুবিধা শতভাগ দেওয়া হবে। নিজেকে মানুষের সেবায় উৎসর্গ করা হবে। সময়মতো বিচার থেকে শুরু করে ওয়ারিশন সনদ, নাগরিক সনদ, জম্ম নিবন্ধন সনদ সময়মতো দেওয়া হবে। ডাক দিলেই হাজির হবে সাধারণ নাগরিকের সুবিধা নিশ্চিত করতে। নিজেকে শাসক হিসেবে নয় ভোটারদের সেবক হিসেবে নিয়োজিত করবেন। এই ধরনের নানা প্রতিশ্র“তি দিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর দেখা যায় ভিন্ন রূপ। এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে রাঙ্গুনিয়ার বর্তমান ১৫ চেয়ারম্যানের মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার অধিকাংশ চেয়ারম্যান থাকেন শহরে। এলাকার মানুষ আরো অভিযোগ করে জানান, সপ্তাহের অধিকাংশ সময় শহরে থাকায় প্রয়োজনীয় সময়ে চেয়ারম্যানকে পাওয়া যায় না। জনগনের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পরিবর্তে জনগনের দূর্ভোগ হয়রানি বাড়ে। জনপ্রতিনিধিরা নিরাপত্তাজনিত কারন দেখিয়ে নিরাপদে শহরে ব্যবসায় বানিজ্যে নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। কেউ কেউ পরিষদের সচিবের উপর দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে দায়িত্ব সারেন। শহরে থাকা এসব চেয়ারম্যান অধিকাংশ সময় বিভিন্ন বিচার সালিসে ইউপি সদস্য কিংবা আপনজনকে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেন। ফলে সুবিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। যথাসময়ে নাগরিক বিচার পাওয়া, ওয়ারিশন সনদ, নাগরিক সনদ, জম্ম নিবন্ধন সনদ সহ ইউপি থেকে প্রাপ্ত যাবতীয় সুযোগ সুবিধা পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জনগণকে। বিধবাভাতা, বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি ও ভিজিএফ চাল, অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্প, উন্নয়ন প্রকল্প চেয়ারম্যানরা এলাকায় না থাকাতে এসব কাজ যথাসময়ে না হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব থাকার কারণে শহরে থাকার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন হয়না। এতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান শহরে কাটানোর কারণে নানা হয়রানির স্বীকার হওয়া জনসাধারনের স্বপ্ন মাঠে মারা যায়।

অভিযোগে জানা যায়, এলাকার মানুষ চেয়ারম্যানকে ঠিকমতো না পেয়ে প্রয়োজনীয় কাজে ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে কাজ সারেন অনেকেই।

উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, প্রতিমাসে উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিয়ে মাসিক সভায় অধিকাংশ চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকেন। শহরে থাকার কারণে অধিকাংশ চেয়ারম্যান সভায় আসতে দেরী করেন। আবার বিকেল না গড়াতে শহরে চলে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করেন।

সুত্রে জানা যায়, ১টি ইউনিয়ন পরিষদে ১৩টি স্ট্যান্ডিং কমিটি রয়েছে। অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের এই ১৩টি স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা হয়না। এসব কমিটিতে কারা কি পদে আছেন নিজেই জানেন না। আরো অভিযোগ আছে অধিকাংশ চেয়ারম্যানের নিজেদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক চেয়ারম্যানরা একাধিক ফোন নাম্বার ব্যবহার করার কারনে এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় সময় যোগাযোগ করতে পারে না। অনেক স্থানে ইউপি চেয়ারম্যান শালিস করার জন্য নিজে দায়িত্ব না নিয়ে বিচার প্রার্থীর দরখাস্তের উপর সুনির্দিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বারকে নির্দেশ করেই নিজের দায়িত্ব কর্মকান্ড শেষ করেন। নতুবা সচিবকে দায়িত্ব দেয়ার কারনে সচিব কাজে গড়িমসি করার কারনে এলাকার নাগরিকরা হয়রানির শিকার হয় ক্ষতিগ্রস্ত হন সময় , অথনৈতিক ও মানসিক।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত