টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কোথায় মুখ লুকাবে অস্ট্রেলিয়া?

spচট্টগ্রাম, ১৪ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল।কিন্তু পারেনি।তবে ১৬ জাতির এই টুর্নামেন্টে অনেক সাফল্য আছে বাংলাদেশের।সবচেয়ে বড় সাফল্য আয়োজক হিসেবে। হোস্ট হিসেবে বরাবরই সুনাম আছে বাংলাদেশের।সারা পৃথিবী যখন অশান্ত তখন সাফল্যের সঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনের মাধ্যমে সেই সুনাম আরো বাড়িয়েছে বিসিবি।

যারা এই টুর্নামেন্টের সাফল্য কামনা করেনি, সেই অস্ট্রেলিয়ার জন্য ব্যাপারটা অবশ্য বিব্রতকরই। এখনও কোথায় মুখ লুকাবে তারা?অযথা নিরাপত্তাকে ইস্যু বানিয়ে কতো নাটকই না করেছিল তারা!বাংলাদেশ ও বিসিবির কোন কথাই তারা কানে তুলেনি।অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর অন্যতম শান্তিপ্রিয় এ দেশটিতে জঙ্গির অস্তিত্ব আবিষ্কার করে বিস্ময়ের জন্ম দিল!বারবার দল না পাঠিয়ে যে অপমান তারা করে যাচ্ছে তার জবাব নিশ্চয়ই একদিন পাবে অস্ট্রেলিয়া।তাদের উচিৎএখন বিসিবির কাছে দু:খপ্রকাশ করা। এবং এটা বাংলাদেশের প্রাপ্যও বটে।

যা হোক, যুব বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট মনে করা হয়েছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু দু:খের বিষয়, সেমিতে বাজে গেম প্ল্যান নিয়ে মাঠে নামা হলো। টসে জিতে আগে ব্যাট করাটা ছিল একেবারেই খারাপ সিদ্ধান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সেমিফাইনাল হেরে খেলতে হয় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ( যে ম্যাচ খেলতে চায়নি মিরাজ বাহিনী)।হতাশার সেই ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে তৃতীয় হয় বাংলাদেশ। বাস্তবতার নিরিখে তৃতীয় হওয়াটাও ভালো ফল। কিন্তু এই ফল হতাশারই। কারণ বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন সেই পর্যায়ে নেই যে, তৃতীয় হয়ে খুশি থাকতে হবে।

তবে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আমাদেরই একজন। তিনি মেহেদী হাসান মিরাজ।পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্স তার। হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা। সাধারণত চ্যাম্পিয়ন বা রার্নাসআপ দল থেকেই টুর্নামেন্ট সেরা হয়ে থাকেন। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে মিরাজের যা আধিপত্য তাতে, অন্য কেউ ধোপে টেকেনি।

মাঠে তার উদ্যমতা দেখে মুগ্ধ হতে হয়। কখনও বল হাতে দলের ত্রাতা। ব্যাটিং বিপর্যায়ে তিনি যেন মিস্টার ওয়াল।সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন দলকে। তার সেলিব্রশন মুগ্ধ করার মতো। অল রাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ বাংলাদেশের নতুন তারকা।মিরাজকে বলা হয় ভবিষ্যত সাকিব আল হাসান। তবে যুব বিশ্বকাপে এই বাক্যটাকেও যেন ছাড়িয়ে গেলেন মিরাজ। তার পারফরম্যান্স বলছে, অল রাউন্ড নৈপূণ্যে তিনি সাকিবকেও হয়ত ছাড়িয়ে গেছেন। ক্রিকেট পণ্ডিতরা বলছেন, জাতীয় দলে জায়গা পাওয়াটা তার জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।

পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ছিলেন দারুণ ধারাবহিক, আর বল হাতেও উইকেট নিয়েছেন একের পর এক। ৬ ম্যাচে তিনি ব্যাট করেন ৫ ইনিংসে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৩ রান করার পর টানা ৪ ম্যাচেই হাঁকিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। এবং তার হাফ সেঞ্চুরির বেশিরভাগই এসেছে কঠিন পরিস্থিতিতে। দলের বিপর্যয়ের সময়ে। বারবার চাপের মধ্যেই তাকে ধরতে হয়েছে হাল। ৫ ইনিংসে ৪ হাফসেঞ্চুরিসহ টুর্নামেন্টে মিরাজের রান ২৪২, গড় প্রায় ৬১। সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রহকারী ব্যাটসম্যানের তালিকার ১২ নম্বরে তিনি।

তার স্পিন বোলিংও দলের জন্য বড় টার্নিং পয়েন্ট। ৬ ম্যাচে ১৭.৬৬ গড়ে ১২ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া বোলারের তালিকার ৭ নম্বরে মিরাজ।সব মিলিয়ে দারুণ টুর্নামেন্টে মিরাজের জন্য। যুব বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিনি বলেছিলেন, টুর্নামেন্টে সেরা অল রাউন্ডার হতে চান। তার চাওয়াটা বাস্তব রূপ পেয়েছে। যুব বিশ্বকাপের সেরা অল রাউন্ডার তিনিই।

যুব দলের সেরা তারকা তিনি। এখন সেরা তারকা হতে চান জাতীয় দলেরও। হতে চান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।বলেছেন সে কথাই,‘আমি সতিই রোমাঞ্চিত। আমার লক্ষ্য বড় ছিল। আমি সেরা অলরাউন্ডার হতে চেয়েছিলাম, তা হয়েছি।ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পরবর্তী বিশ্বকাপ।আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জাতীয় দলে খেলা ও সেরা অলরাউন্ডার হওয়া।এজন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

ভারতেকে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা ছিল অনেকটাই বিস্ময়কর ব্যাপার। টুর্নামেন্টে শুরুতে আলোচনাতেই ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রস্তুতি সিরিজে বাংলাদেশের কাছে ৩-তে হোয়াইট ওয়াশ হতে হয় তাদের। কিন্তু মূল টুর্নামেন্টে অন্য চেহারায় আর্বিভূত হয় ক্যারিবিয়ানরা। তাদের ফাস্ট বোলিংয়ে পুড়ে মরলো বাঘা বাঘা দলগুলো। তাহলে কি অতীত গৌরবে ফিরে যাচ্ছে ক্যারিবিয়ানরা?-ঢাকাটাইমস

মতামত