টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য দ্বার খুললো মিয়ানমারের

worldচট্টগ্রাম, ১৪ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) : ঢাকা-ইয়াংগুনের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হওয়ায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য মিয়ানমারের দ্বার উন্মোচন হলো। গত ৫০ বছর যোগাযোগের অভাবে বিচ্ছিন্ন থাকা খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ মিয়ানমারের বাজার খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য এক বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করবে।

গত ১৬ বছর ধরে মিয়ানমারে বাস করছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বিজন বিশি। তিনি জানান, ‘মিয়ানমারের উন্নয়নের পথে নতুন করে যাত্রা শুরুর প্রেক্ষাপটে এটা ব্যবসার একটা গোপন খনি। এটা বহু বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর জন্য ভাগ্যভূমি হয়ে উঠতে পারে।’

মিয়ানমার মেডকম কমিউনিকেশনের চেয়ারম্যান বিশি বলেন, ‘বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে মিয়ানমারের ওষুধের বাজারে শক্তভাবে তাদের ঘাঁটি গেড়েছে। কারণ, দক্ষিণ এশিয়ার প্রবেশ পথ খ্যাত এই দেশটিতে নিজস্ব কোনও ওষুধ প্লান্ট নেই।’

বেক্সিমকোর মিয়ানমার বিষয়ক ব্যবসা উন্নয়ন ম্যানেজার সৈয়দ শামীম হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে মিয়ানমারের বাজারে বাংলাদেশ ওষুধ কোম্পানিগুলোর অবস্থান চতুর্থ, এরপরে থাইল্যান্ড ও ভারতের অবস্থান।’

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সেখানকার চিকিৎসকদের মধ্যেও বাংলাদেশের ওষুধ জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

টেক্স টেক অ্যাসোসিয়েটস-এর পরিচালক তৌহিদুর রশীদ পলাশ বলেন, ‘এর আগে থাইল্যান্ড হয়ে মিয়ানমার পৌঁছাতে আমাদের দেড় দিন লাগতো। এখন মাত্র দুই ঘণ্টায় ঢাকা থেকে এখানে পৌঁছানো যায়।’

বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান ও প্রাইভেট এয়ারলাইন্স নভোএয়ার ঢাকা ও ইয়াংগুনের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে প্রত্যেকে তিনটি করে মোট ৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

বে লাইন শিপিং পিটিই লি.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন কামরুদ্দিন আহমেদ সরাসরি জাহাজ চলাচলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন যাতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে তার নৈকট্য কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ সুবিধা লাভ করতে পারে।

দেশের বৃহত্তম এনজিও ব্র্যাক এরইমধ্যে মিয়ানমারে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। ব্র্যাকের মিয়ানমার কান্ট্রি প্রতিনিধি ফয়সাল বিন সিরাজ কাজী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে এখানে আমাদের ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম শুরু করেছি এবং স্যানিটেশনসহ অন্যান্য কাজেও শিগগিরই শুরু করবো।’

এদিকে ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, বাংলাদেশকে মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা-সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে আরও অনুসন্ধান চালাতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুলনায় ভারত ও চীন এগিয়ে রয়েছে।

তারা আশা করছেন, বাংলাদেশ সরকার ইয়াংগুনে বাংলাদেশ মিশনসহ তার কূটনৈতিক চ্যানেলে মিয়ানমারে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। খবর বাসস।

মতামত