টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের বিরোদ্ধে কৃষকদের মানববন্ধন

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

fatickchari(krisok)-pic-13-চট্টগ্রাম, ১৩ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  ফটিকছড়িতে পাহাড়ী সন্ত্রাসীদের বিরোদ্ধে জায়গা দখল, হত্যার হুমকিসহ জমি চাষে বাঁধা প্রদানের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কৃষকরা। আজ (শনিবার) সকালে উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের ছমুরহাট বাজারে কয়েক‘শ কৃষক মানববন্ধন করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ সময় মানিকপুর গ্রামের কৃষক আহমদ ছাফা ও গুরা মিয়া তাদের বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা র্দীঘদিন যাবৎ বাপ-দাদার জমিতে চাষাবাদ করে আসছি। কিন্তু ক’দিন যাবৎ পাশ্ববর্তী খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি সীমান্তের পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা আমাদের ভোগ দখলীয় জমিতে অনধিকার হস্তক্ষেপ করছে। সাথে সাথে আমাদের চাষাবাদ কাজে বাঁধা সহ হত্যার হুমকি প্রদান করে আসছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

ভূক্তভোগী কৃষক ও সাবেক ইউপি সদস্য মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘ফটিকছড়ি ও লক্ষিছড়ি দুইধ্যেখোলা সীমান্ত সীমানা নিয়ে তৈরী জটিলতার এখনো মীমাংসা হয়নি। এরই মধ্যে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন আমাদের জমিতে পূর্বের ন্যায় চাষাবাদ কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন। তারপরও পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর চড়াও হয়ে অন্যায়ভাবে জমি দখল, হত্যার হুমকিসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছে।’

গ্রামের চাষা আজম মিয়াজী বলেন, ‘ আমরা এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছি।’

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেব নাথ বলেন, ‘কৃষকদের এ দূরাবস্থার কথা আমি জানতাম না। এ ব্যাপারে আমাকে এখনো কেউ জানায় নি। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’

উলে­খ্য, ফটিকছড়ি ও লক্ষিছড়ি দুইধ্যেখোলা সীমান্ত সীমানা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার এখনো পুরোপুরি মীমাংসা হয়নি। এ ব্যাপারে দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যে দফায় দফায় প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে এ বিরোধেরে জের ধরে কর্ণফুলী চা বাগানের দুই ম্যানেজারকে ডেকে নিয়ে ব্যাপক মারধর করেছে পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা। ইতিপূর্বে উভয় উপজেলার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কয়েক দফা বৈঠক বসলেও চলমান সমস্যা নিরসন করা সম্ভব হয়নি।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, অতীত থেকে এ অঞ্চলে স্থানীয় কৃষকরা চাষাবাদ করে আসছিল। হঠাৎ পার্বত্য এলাকার লোকজনের সাথে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয় । এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। আগামী ২৫ ফেব্র“য়ারীও অপর একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

মতামত