টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দেশে যেন জঙ্গিবাদ স্থান না পায়

চট্টগ্রাম, ১৩ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের দেশে যেন কখনও জঙ্গিবাদ স্থান না পায়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এগুলো সমাজকে লণ্ডভণ্ড করে দেয়।

শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্ক এর ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার অনেক কাজ করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৮ সালে নারী নীতি গঠন করা হয়েছে। সেই নীতি ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে পরিবর্তন করে দেয়। আমরা ফের ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সালে নারী নীতি আমরা গঠন করি। আমরা কোরআন সুন্নার বিরুদ্বে কিছু করবো না। তবে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের অর্ধেক হচ্ছেন নারী। সমাজের অর্ধেক অংশকে রেখে উন্নয়ন হয় না। উন্নয়নের জন্য নারী অপরিহার্য। তিনি বলেন, ইসলামে যিনি প্রথম মুসলমান হয়েছেন তিনি নারী, বেগম খাদিজা। আর ইসলামের জন্য প্রথম শহীদ হচ্ছেন সুমাইয়া, তিনিও নারী। যুদ্ধের সময় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর সঙ্গে থাকতেন তার স্ত্রী আয়েশা। এভাবে নারীদের ভূমিকা সব সময় ছিল।

বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে এই সংগঠন তৈরি হয়। প্রথম থেকেই এই সংগঠন সুসংগঠিতভাবে কাজ করছে। কারণ সুসংগঠিত না হলে কোনো দাবি আদায় করা যায় না।

নারীদের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তখন থেকেই নারীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমি নারীদের ডিসি বানালাম। এসপি বানালাম। এজন্য অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে আমাকে। একসময় ধারণাই ছিল মেয়েরা আবার কিভাবে এসপি হবে, ডিসি হবে। সেই ধারণা কিন্তু এখন নেই। খেলায়ও মেয়েরা এগিয়ে গেছে। একটি পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তন কিন্তু দরকার ছিল।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের সংসদে চারজন গুরুত্বপূর্ণ পদে নারী। সংসদ নেতা, উপনেতা, স্পিকার, বিরোধী দলীয় নেতা এরা কিন্তু নারী। এটি বিশ্বের অন্য কোনো দেশে নেই।

তিনি বলেন, একসময় মনে হতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কিভাবে নারী হতে পারে। সেটিও আমরা করেছি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছেন নারী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হচ্ছেন নারী। নারীও যুদ্ধ বিমান চালাবে। এসব সুযোগ কিন্তু এক সময় ছিল না। এসব সুযোগ কিন্তু আমরা দিয়েছি। ব্যবসায় নারীদের উৎসাহী করা হচ্ছে। নারীরা এই খাতে আসছে। তাদেরকে আরও বেশি করে আসতে হবে। পোশাক শিল্পে নারীরা কিন্তু বিশাল ভূমিকা রাখছে। ৮০ ভাগ নারী এই সেক্টরে কাজ করছে। আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নারীকে সরাসরী ভোটে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছে। ৪১জন নারী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত