টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে মায়ের প্রেমিকের লাশ ১০ টুকরা করলো ছেলে

DSC8859চট্টগ্রাম, ১৩ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :  মায়ের সাথে পরপুরুষের অনৈতিক সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি কিশোর আরিফ হোসেন (১৯)।

একারণে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী নাবিক মহসিনকে(৫১) খুন করার দু’দিন পর লাশ দশ টুকরা করলো এই কিশোর ।

তার হাতে বেঘোরে প্রাণ হারানো মোহাম্মদ মহসিন পেশায় ‘সাগর কণ্যা’ নামক একটি লাইটার জাহাজের মাস্টার।

পুলিশ তার খন্ডবিখন্ড দেহের ৪ টুকরা পেলেও এখনো উদ্ধার করতে পারেনি বাকি ৬ টুকরা।

গত ১৫ জানুয়ারি খুন হন মহসিন। ১৭ জানুয়ারী নগরীর হালিশহর থানার টোল রোড এলাকা থেকে তার বস্তাবন্দি খন্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার ২৯ দিন পর মহসিনের হত্যাকারী সন্দেহে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪ টার দিকে ইপিজেড থানার সল্টগোলা ক্রসিং এলাকা থেকে আরিফকে গ্রেফতার করে ইপিজেড থানা পুলিশ ।

গ্রেফতারের পর হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে আরিফ।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে মহসিন খুন ও খুনী আরিফকে আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, মহসিনকে খুন করার পর তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয় আরিফ হোসেন । মোবাইলটি সে একটিভ করলে আমরা মোবাইলের সূত্র ধরে তার অবস্থান সনাক্ত করি । শুক্রবার বিকালে ইপিজেড থানার ওসির নেতৃত্বে সল্টগোলা ক্রসিং এলাকা থেকে আরিফকে গ্রেফতার করি, তার কাছে থাকা মহসিনের মোবাইল ফোন সহ ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করি । আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সল্টগোলা ট্রলার ঘাট এলাকা থেকে লাশ কাটার করাতটি উদ্ধার করি ।

তিনি আরো জানান. আরিফের মা নাজমা বেগমের সাথে নাবিক মহসিনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল যা আরিফ মেনে নিতে পারেনি। সে এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজ বাসায় মহসিনকে পেয়েই খুন করে, পারে লাশ দশ টুকরো করে। এই ঘটনায় নাজমা বেগমকে আটক করা হয়েছে । সে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে ।

আরিফ গ্রেফতারের পর হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি সকালে ইপিজেড থানার আব্বাস কলোনীর ৬ নম্বর রুমে আরিফের মা নাজমা বেগমের বাসায় মহসিন আসে। বিকালে তাকে ঘুমানো অবস্থায় বালিশ চেপে হত্যা করে নাজমার ছেলে আরিফ । হত্যার পর লাশটিকে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে আরিফ । ১৭ জানুয়ারি মহসিনের লাশটি সে বের করে বাসার ভেতরেই করাত দিয়ে দশ টুকরো করে কেটে বস্তায় ভরে নিয়ে যায় হালিশহরের আনন্দবাজার টোল রোড এলাকায়। সেখানে লাশ ভর্তি বস্তা ফেলে পালিয়ে যায় আরিফ, জানান দেবদাস।

খুন হওয়া মহসিন ঢাকা জেলার ডেমরা থানার মধ্যম সানার পাড়া এলাকার ফাতেমা ভিলা নামক একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন । গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায় ।

আটক আরিফ হোসেন প্রিমিয়ার গার্মেন্টে চাকরি করতো । সে তার মায়ের সাথে থাকতো ইপিজেড থানার আব্বাস কলোনী এলাকায়। মোবাইল ফোনে রং নাম্বারে মহসিনের সাথে পরিচয় হয় তার মা নাজমার। এরপর প্রায় ৪ বছর ধরে নাজমার বাসায় আসা-যাওয়া করতেন মহসিন । চট্টগ্রাম এলেই তিনি উঠতেন নাজমার বাসায়।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, আটক আরিফ মাদকাসক্ত, তার কাছে ইয়াবা খাওয়ার সরঞ্জাম পাওয়া গেছে ।

মতামত