টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে হারিয়ে যাচ্ছে দেশি মাছ

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই  প্রতিনিধি 

Mirsarai-Fish-Catch-picচট্টগ্রাম, ১১ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) ::   মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের পরিচিত দেশীয় প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। এ অঞ্চলের খাল-বিল, নদ-নদীসহ মুক্ত জলাশয় গুলো মাছ শূন্য হয়ে পড়েছে। মাছে-ভাতে বাঙালি কথাটির সাথে এখন কোন নেই।

মিরসরাইয়ে দেশী মাছের বৃহৎ প্রজনন ক্ষেত্র দুর্গাপুর ইউনিয়নের মহামায়া লেক, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বাওয়াছরা প্রকল্প, ফেনী নদী মুহরী প্রজেক্ট, বঙ্গপোসাগরের উপকূলে সাহেরখালীর সন্দীপ চ্যানেল, বামনসুন্দর ¯ø্যুইস গেইট সহ ছোট বড় খাল সমূহ। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ কমে যাওয়ার একটি অন্যতম কারণ বলে সচেতন মহল মনে করছেন। ইতিমধ্যে এ অঞ্চল থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে পাবদা, সরপুঁটি, তিতপুঁটি, টেংরা, চান্দা, কৈ, শিং, মাগুর, বেলে, শৈল, গজার, বোয়াল, বাইম, পাঙ্গাশ, রুই, কাতলা, চিতলসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। প্রয়োজনের তুলনায় দ্বিগুন ঘাটতির কারণে বাজারে সরবরাহ স্বল্পতায় স্বাদু পানির এ মাছ নি¤œ আয়ের মানুষের ভাগ্যেতে জুটছেনা।

সরেজমিনে উপজেলার মিঠাছরা, বড়তাকিয়া, আবুতোরাব, সাদুরবাজার, শান্তিরহাট, বারইয়ারহাট, বামনসুন্দর, আবুরহাট সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে – রই, কাতলা, মৃগেল সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাজারে বিদ্যমান থাকলেও দেশী মাছ তেমন একটা চোখে পড়েছে। দু একটি বাজারে সামান্য পরিমাণ দেখা গেলেও দাম চড়া।

দুই দশক আগেও উপজেলার বিভিন্ন নদী, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ও বিল-জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছে ভরপুর ছিল। কালের বিবর্তনে নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয় ও হাওর-বাঁওড়গুলো ভরাট হয়ে শুকনো মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে যায়। প্রাকৃতিকভাবে বংশ বিস্তার করতে না পারায় দেশী প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বর্ষাকালে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের খালে জাল দিয়ে রেণু পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ ধরার কারণেও এ সর্বনাশ দেখা দিয়েছে। অর্থলোভী মাছ শিকারিরা কারেন্ট জাল দিয়ে আইন অমান্য করে অবাধে রেণু পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ ধরছে।

এতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পরবর্তী বংশবিস্তার শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছে। বিশেষ করে মাছ ডিম ছাড়ার সময় এবং বর্ষাকালে রেণু পোনা ধরা সম্পূর্ণ নিষেধ থাকলেও তা কেউ মানছে না। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে এসব মাছের অনেক প্রজাতি এখন আর চোখে পড়ে না।

মিরসরাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, কৃষি জমিতে বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে, নদ-নদীতে পলি জমার জন্য, বাড়ী বানাতে পুকুর, খাল-বিল ভরাটের কারণে বসবাসের উপযোগী না থাকায় বিলীন হতে চলচ্ছে দেশী মাছ। এর সাথে জেলেরাও মানবেতর জীবন যাপন করছে। দেশী মাছের প্রজনন ক্ষেত্র বৃদ্ধি করতে সচেনতামূলক কর্মসূচী গ্রহন করেছে মৎস্য বিভাগ। শ্রীঘ্রই তৃণমুল পর্যায়ে ক্যাম্পেইন করা হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত