টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়িতে বিদ্যালয়ের দু’ তলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে গেল এক ছাত্রী !

‘প্রধান শিক্ষকের গাঁফেলতির কারণে নির্মাণ করা যায়নি রেলিং’

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি থেকে

চট্টগ্রাম, ১১ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) ::  ফটিকছড়িতে বিদ্যালয়ের অরক্ষিত দু’ তলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে গেল এক ছাত্রী। গরুতর আহত অবস্থায় ওই ছাত্রী বর্তমানে চমেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার অবস্থা অশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে উপজেলা সুয়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী ওই বিদ্যলয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী প্রীতি শীল(১৩)। সে টেকের দোকান এলাকার দিপাল শীলের কন্যা।

প্রত্যক্ষদশীরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ে এসে প্রীতি পাশ্ববর্তী কাঠাল গাছ থেকে ফল ছিঁড়তে গেলে পা পিচলে নিচে পড়ে যায়। এতে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রচন্ড আঘাত হয়। পরে তাকে স্থানীয় নাজিরহাটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত অবস্থায় চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

প্রীতি শীলের চাচা ঝন্টু শীল অভিযোগ করে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের চারপাশ জুড়ে রেলিং না থাকায় এমন অবস্থা হয়েছে। রেলিং থাকলে আমার ভাতিজী এতো উপর থেকে নিচে পরতো না। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার জন্য এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আইয়ুব বলেন, ‘কমবয়সী হওয়ার কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা ছাদের পাশঘেঁষে হাটা-চলা করবে; এটা খুব স্বাভাবিক। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য চারপাশ জুড়ে এখানে কোন রেলিং দেওয়া হয়নি। রেলিং থাকলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতো না। সুতরাং এর জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষই সম্পূর্ণভাবে দায়ী।’

দালানের চারপাশ জুড়ে রেলিং দেয়া আছে কিনা জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক উল্টো বলেন, ‘এটা জিন-পরীর আছর। উপর থেকে নিচে পরে মেয়েটি যেভাবে কিচতেছে (কিঁচুনি) তাতে তো মনে হচ্ছে জিন-পরীর আছর লেগেছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল চন্দ্র নাথ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের খরচে সুরক্ষার জন্য ছোট আকারে দেয়াল কিংবা রেলিং দেয়ার কথা ছিলো। এটা প্রধান শিক্ষকের গাঁফেলতি। খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

মতামত