টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

শাহ আমানত বিমানবন্দরে বসানো হচ্ছে থ্রি-ডি রাডার

চট্টগ্রাম, ১১ ফেব্রুয়ারি (সিটিজি টাইমস) :: আকাশপথে উড়োজাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক থ্রি-ডি রাডার। আনসার ক্যাম্পের পাশে বসানো হচ্ছে এই রাডার। রাডার স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে শেড নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৭ সালের মধ্যে রাডার স্থাপন কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।  

শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার রিয়াজুল কবীর বলেন, থ্রি-ডি রাডার স্থাপন হলে আকাশসীমার ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যবেক্ষণ করা যাবে। নিরাপদ হবে দেশের আকাশসীমা ও বিমান চলাচল ব্যবস্থা।

সূত্র জানায়, বিদ্যমান রাডার দিয়ে আকাশসীমার মাত্র ২৫ নটিক্যাল মাইল পর্যবেক্ষণ করা যায়। অত্যাধুনিক রাডার না থাকায় বঙ্গোপসাগরে ওপর দিয়ে বিমান চলাচলের রুটের বড় একটি অংশ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে ভারতের কলকাতা দমদম বিমানবন্দরে স্থাপিত রাডার দিয়ে। থ্রি-ডি রাডার স্থাপন হলে শাহ আমানত বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ওই অংশটিও বাংলাদেশের পর্যবেক্ষণের আওতায় চলে আসবে।

সিভিল এভিয়েশন উচ্চ পদস্থ এক কর্মকর্তা জানান, শাহ আমানত বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল আগের চেয়ে বেড়েছে। তাই ঢাকার মতো চট্টগ্রাম বিমান বন্দরকেও আধুনিক রাডার ব্যবস্থাপনায় আনা হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে সর্বাধুনিক রাডার স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছিল সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। ওই প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে বলে জানিয়েছে সিভিল এভিয়েশন। শাহ আমানত বিমানবন্দরে থ্রি-ডি রাডার স্থাপন প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ৫০০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের অর্থায়ন করছে জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা।

জানা গেছে, শাহজালাল বিমানবন্দরে বিদ্যমান রাডার দিয়ে চলছে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম। ওই রাডার দিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, পুরনো রাডারের কারণে ঢাকার মতো শাহ আমানত বিমানবন্দরেও ঝুঁকির মধ্যে ওঠানামা করছে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের বিমান। দেশের আকাশসীমায় নিরাপদে ও নির্বিঘ্ন বিমান চলাচলের সুবিধা সৃষ্টির লক্ষে শাহ আমানত বিমানবন্দরেও রাডার স্থাপন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানায়, শাহ আমানত বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কোন রাডার নেই। যেটি আছে সেটি এয়ার ফোর্সের। এমনিতে শাহজালাল বিমানবন্দরে স্থাপিত রাডার দিয়ে দেশের আকাশসীমায় উড়োজাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকে।

বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে যে রাডার আছে তা দিয়ে দেশের আকাশসীমার ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরের এবং আকাশে দশ হাজার ফুট ওপরে কোন বস্তু বা এয়াক্রাফট দৃশ্যমান হয় না। থ্রি-ডি রাডার স্থাপন হলে ২০০ নটিক্যাল মাইল দূরের বস্তু ওই রাডারে ধরা পড়বে।

জানা যায়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাইমারি রাডারটি ১৯৮৪ সালে স্থপন করা হয়। আর সেকেন্ডারি রাডার স্থাপন করা হয় ১৯৮৬ সালে। তখন এতে খরচ হয়েছিল ১৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। পরে ১৯৮৭ ও ১৯৯৪ সালে রাডারটি আপগ্রেড করা হয়। তখন ব্যয় হয় ১৫ কোটি টাকা। এরপর আর কোনো বড় পরিবর্তন বা মেরামত করা হয়নি।

এর আগে ২০১১ সালের ২৯ মে সিভিল এভিয়েশনের রাডারের পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকষ্মিক অবতরণ করেছিল বেসরকারি বিমানসংস্থা রূপসী বাংলা এয়ারলাইন্সের ভাড়া করা ফিলিপাইনের সাউথইস্ট এশিয়ান এয়ারলাইন্সের ১৯ আসনের একটি উড়োজাহাজ (লেট-৪১০ এয়ারক্রাফট, এমএসএন, ৮৭১৯০৯)।

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় পাইলট রেমুজ ভি সায়মানসহ উড়োজাহাজটি আটক করে। এ নিয়ে সেসময় তোলপাড় হয় বিমানবন্দর, সিভিল এভিয়েশন ও বিমান মন্ত্রণালয়ে। সে সময় প্রশ্ন উঠে বাংলাদেশের আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে। রাডারের তীক্ষন পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে কীভাবে উড়োজাহাজটি গোপনে অবতরণ করল? এ নিয়ে বিমানবন্দরে নিয়োজিত সবকটি সংস্থার কর্মকর্তারা হতবাক হন।

সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান রাডারে দশ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ে যাওয়া উড়োজাহাজ ঢাকা বা চট্টগ্রামের এয়ার ট্রাফিক কনট্রোল টাওয়ারে দেখা যায় না। রূপসী বাংলার ভাড়া করা উড়োজাহাজটি থাইল্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করে মিয়ানমারের আকাশ অতিক্রমের পর ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে শুরু করে। এ উচ্চতায় উড়োজাহাজটি কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রামের আকাশে চলে আসে। যে কারণে পর্যবেক্ষণ রাডারে এয়ারক্রাফটটি ধরা পড়েনি।

এর আগে ১৯৯৫ সালে সিভিল এভিয়েশন সতর্ক থাকায় রাশিয়ার একটি উড়োজাহাজ বাংলাদেশের আকাশসীমা অতিক্রম করেও পালাতে হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই উড়োজাহাজ ভারতের পুরুলিয়ায় নাশকতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আকাশ হতে অস্ত্র নিক্ষেপ করে। ফলে বাংলাদেশেও এ ধরনের নাশকতামূলক অপতৎপরতা উড়িয়ে দেয়া যায় না বলেই মনে করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত